আধিপত্য ও হাট ইজারা দ্বন্দ্বে টিটনকে গুলি করে হত্যা: ডিবি
- আপডেট: ০৭:১১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৮০০১
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছেন,নিউমার্কেটে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। মূলত এলাকায় আধিপত্য ও হাট ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে ডিএমপির সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন
ডিবিপ্রধান বলেন, আপনারা জানেন টিটন নিজেও একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কারা জড়িত সে বিষয় তদন্ত করছি। খোঁজখবর নিচ্ছি, যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহারে মোহাম্মদপুরের বছিলার গরুর হাঁট নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। এই ঘটনায় পিচ্চি হেলাল ও কালা বাদলসহ অনেকের নামে উল্লেখ রয়েছে এ বিষয়ে জানেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, মামলা হয়েছে। বাদী যাদের নাম উল্লেখ করেছেন আমরা কাজ করছি। আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। আপনারা জানেন সামনে কোরবানি, গরুর হাট নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল। এই হত্যাকাণ্ডে করা জড়িত সেটি উদঘাটন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাট ইজারা কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড আরও ঘটতে পারে। প্রতিরোধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, আমরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছি। হাট কেন্দ্র করে যেন কোনোভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সেই বিষয় তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বাড়ানো হবে।
বিদেশে বসে হত্যার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয় ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতে এমন কর্মকাণ্ড অনেকেই করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিদেশে অবস্থানরত কারও সংশ্লিষ্টতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি যাদের এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণে দোষী সাব্যস্ত হবে ইন্টারপোলে চিঠি দেওয়া হবে। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
নিষিদ্ধ সংগঠন আরসা গ্রুপের চার সদস্য গ্রেফতারের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে এলে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানা যাবে। আমরা জেনেছি, তারা সন্ত্রাসী সংগঠন, তারা এতদিন বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
উগ্রবাদীরা আসলেই মাথাচাড়া দিচ্ছে কি না, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাথাচাড়া দিচ্ছে এমনটা বলবো না, আমি শুধু বলবো যারা এসব কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামীতে যারা জড়াবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতীত সরকারের সময়ে জঙ্গি নাটক সাজানো হতো, বর্তমানে কর্মকাণ্ডগুলো নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো আসামিকে ধরে নাটক সাজানোর কাজ পুলিশের নয়। পুলিশের কাজ হলো যে অপরাধী তাকে আইনের আওতায় আনা। এ ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।



















