নগদ অর্থ ও লুষ্ঠিত মালামাল উদ্ধার মাদক ও জুয়ার টাকা জোগাতে ফাদারকে বেঁধে গির্জায় লুট, গ্রেফতার ৩
- আপডেট: ০২:৪০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
- / ১৮০০১
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বারিধারা এলাকায় ডি মাজেন্ড গীর্জায় ঢুকে গীর্জার পরিচালক ফাদার সুবাস পুলক গমেজের হাত-পা ও মুখ বেঁধে লুষ্ঠনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নগদ অর্থ ও লুষ্ঠিত মালামালসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবু, মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজান ও আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনির।
ঢাকা ও লক্ষীপুর জেলার রামগতির চরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে ভাটারা থানা পুলিশ।
শুক্রবার (০১ মে) দুপুরে ভাটারা থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ঘটনাটি গত ২৮ এপ্রিলের। সেদিন রাত আড়াইটার দিকে মুখে মাস্ক পরিহিত অজ্ঞাতনামা ২ জন দুষ্কৃতিকারী ডি মাজেন্ড গীর্জার কম্পাউন্ডের দেয়াল টপকে ভিতরে ঢুকে প্রথমে গীর্জার স্টাফদের রুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে তারা গীর্জার পরিচালক ফাদার সুবাস পুলক গমেজের অফিস রুমের গ্রীল কেটে ভিতরে ঢুকে ফাদারের হাত-পা ও মুখ বেঁধে অফিস রুমের আলমারী খুলে নগদ দুই লাখ ৫০ টাকা একটি পাসপোর্ট ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুন্ঠন করে অজ্ঞাতনামা অপর একজন দুষ্কৃতিকারীর সহযোগীতায় দেয়াল টপকে ব্যাটারী চালিত রিক্সায় করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় জানতে পেরে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন অফিসারগন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করেন।
পরবর্তীতে ভাটারা থানার একটি আভিযানিক দল সিসিটিভি ফুটেজে দস্যুতা সংঘঠনের সময় গীর্জার পাশে একটি ব্যাটারী চালিত রিক্সার সন্দেহজনক ঘোরাফেরা লক্ষ করে। পরবর্তীতে রিক্সাটির সূত্র ধরে ভাটারা থানাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েক হাজার রিক্সা ও চালকদের তথ্য সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করে আক্তার হোসেন মনা নামের এক রিক্সা চালককে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা এম তানভীর আহমেদ বলেন, পরবর্তীতে ভাটারা থানার আভিযানিক টিম মুগদা থানা এলাকা থেকে আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনির নামের ওই ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। এসময় তার হেফাজতে থাকা দস্যুতার ঘটনায় ব্যবহৃত ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও লুষ্ঠিত নগদ এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এরপর গ্রেফতার আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনিরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজানকে লক্ষীপুর জেলার রামগতির চরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে লুষ্ঠিত নগদ ৪৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দস্যুতার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবুকে রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন আমতলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে একটি পাসপোর্ট, একটি জাতীয় পরিচয় পত্রসহ লুষ্ঠিত নগদ এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবুর বিরুদ্ধে রাজধানী খিলক্ষেতসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ৮ টি মামলা রয়েছে এবং মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজানের বিরুদ্ধে কুমিল্লার লালমাই থানায় একটি দস্যুতার মামলা ও গ্রেফতারকৃত আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনিরের বিরুদ্ধে সিএমপির হালিশহর থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা মাদকাসক্ত ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। মূলত মাদক ও অনলাইন জুয়ার টাকা সংগ্রহের জন্য তারা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করে থাকে।
তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।









