০৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

ডিবি পরিচয়ে মাছ ব্যবসায়ীকে অপহরণ, উদ্ধার করতে গিয়ে মিললো চার ভুক্তভোগী

  • আপডেট: ০৮:০৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / ১৮০০৮

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর মোহাম্মদপুর নবীনগর হাউজিয়ের বেড়িবাধ থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে এক মাছ ব্যবসায়ীকে অপরহরণের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালাতে গিয়ে একই চক্রের হাতে অপহরণের শিকার চার ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত রবিবার (৩ এপ্রিল) মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং বেড়িবাঁধ ও আশপাশ এলাকায় পৃথকভাবে এই অপহরণের ঘটনাগুলো ঘটে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগীরা হলেন—সোহেল, সেলিম, সাইফুল ও আলী আহমেদ।

সোমবার (০৪ মে) বিকেলে মোহাম্মদপুর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা। গ্রেফতারকৃতরা হলো চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমান রিপন ও তার সহযোগী আল ওয়াজেদ ফয়সাল।

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী আলী আহমেদের ছেলে আলাউদ্দীন ফরিদ বলেন, রবিবার রাত ১১টার দিকে ডিবি পরিচয়ে ফোন করে তার বাবাকে বাসা থেকে বের হতে বলা হয়। পরে একটি হাইএস গাড়িতে তুলে নিয়ে বসিলা এলাকায় নিয়ে মারধর করা হয়। এরপর তার বাবার মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে ২০ হাজার টাকা পাঠানো হলেও অপহরণকারীরা আরও টাকা দাবি করতে থাকে। পরে রাত ২টার দিকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

অন্য ভুক্তভোগী শামীম জানান, তার ভাই সেলিমকে ভোরে বেড়িবাঁধ এলাকা দিয়ে মাছ কিনতে গেলে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী। তাকে মারধর করে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবার ২০ হাজার টাকা পাঠালেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। পরে থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

একইভাবে ইউসুফ জানান, তার বড় ভাই সাইফুলকে বেড়িবাঁধের ইউল্যাব ইউনিভার্সিটি সামনে থেকে তুলে নেওয়া হয় ভোর ৬ টায়। এরপর বিভিন্ন নম্বর থেকে মুক্তিপণ চেয়ে ফোন করা হয়। থানায় অভিযোগের পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

আরেক ভুক্তভোগী সোহেলকে একই স্থান থেকে ডিবি পরিচয়ে অপহরণ করা হয়। তার স্বজনরা জানান, সকালে মাছ কিনতে যাওয়ার পথে তাকে তুলে নেওয়া হয় এবং তার কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবার বিকাশে ২০ হাজার টাকা পাঠানোর পরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

এডিসি জুয়েল রানা বলেন, গতকাল (রবিবার) সকালে মোহাম্মদপুর থেকে প্রথমে দুইজনকে অপহরণ করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে আরও দুইজনকে তুলে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতভর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “অভিযানের এক পর্যায়ে বাড্ডা ও গাজীপুর এলাকা থেকে চারজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চক্রের মূল হোতা মিজানুর রহমান রিপন ও তার সহযোগী আল ওয়াজেদ ফয়সালকে আটক করা হয়েছে।”

পুলিশ জানায়,এই চক্রটি ডিবি পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করত। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

ডিবি পরিচয়ে মাছ ব্যবসায়ীকে অপহরণ, উদ্ধার করতে গিয়ে মিললো চার ভুক্তভোগী

আপডেট: ০৮:০৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর মোহাম্মদপুর নবীনগর হাউজিয়ের বেড়িবাধ থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে এক মাছ ব্যবসায়ীকে অপরহরণের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালাতে গিয়ে একই চক্রের হাতে অপহরণের শিকার চার ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত রবিবার (৩ এপ্রিল) মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং বেড়িবাঁধ ও আশপাশ এলাকায় পৃথকভাবে এই অপহরণের ঘটনাগুলো ঘটে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগীরা হলেন—সোহেল, সেলিম, সাইফুল ও আলী আহমেদ।

সোমবার (০৪ মে) বিকেলে মোহাম্মদপুর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা। গ্রেফতারকৃতরা হলো চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমান রিপন ও তার সহযোগী আল ওয়াজেদ ফয়সাল।

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী আলী আহমেদের ছেলে আলাউদ্দীন ফরিদ বলেন, রবিবার রাত ১১টার দিকে ডিবি পরিচয়ে ফোন করে তার বাবাকে বাসা থেকে বের হতে বলা হয়। পরে একটি হাইএস গাড়িতে তুলে নিয়ে বসিলা এলাকায় নিয়ে মারধর করা হয়। এরপর তার বাবার মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে ২০ হাজার টাকা পাঠানো হলেও অপহরণকারীরা আরও টাকা দাবি করতে থাকে। পরে রাত ২টার দিকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

অন্য ভুক্তভোগী শামীম জানান, তার ভাই সেলিমকে ভোরে বেড়িবাঁধ এলাকা দিয়ে মাছ কিনতে গেলে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী। তাকে মারধর করে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবার ২০ হাজার টাকা পাঠালেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। পরে থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

একইভাবে ইউসুফ জানান, তার বড় ভাই সাইফুলকে বেড়িবাঁধের ইউল্যাব ইউনিভার্সিটি সামনে থেকে তুলে নেওয়া হয় ভোর ৬ টায়। এরপর বিভিন্ন নম্বর থেকে মুক্তিপণ চেয়ে ফোন করা হয়। থানায় অভিযোগের পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

আরেক ভুক্তভোগী সোহেলকে একই স্থান থেকে ডিবি পরিচয়ে অপহরণ করা হয়। তার স্বজনরা জানান, সকালে মাছ কিনতে যাওয়ার পথে তাকে তুলে নেওয়া হয় এবং তার কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবার বিকাশে ২০ হাজার টাকা পাঠানোর পরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

এডিসি জুয়েল রানা বলেন, গতকাল (রবিবার) সকালে মোহাম্মদপুর থেকে প্রথমে দুইজনকে অপহরণ করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে আরও দুইজনকে তুলে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতভর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “অভিযানের এক পর্যায়ে বাড্ডা ও গাজীপুর এলাকা থেকে চারজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চক্রের মূল হোতা মিজানুর রহমান রিপন ও তার সহযোগী আল ওয়াজেদ ফয়সালকে আটক করা হয়েছে।”

পুলিশ জানায়,এই চক্রটি ডিবি পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করত। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।