প্রতারণা মামলা ও বনানী থানার হত্যা মামলা ঘিরে নতুন বিতর্ক
- আপডেট: ১১:০১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
- / ১৮০০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীতে দায়ের হওয়া একাধিক প্রতারণা ও আলোচিত হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বাবুল আখতার ও তার পরিবারের সদস্যরা। আদালত সূত্র,মামলার নথি এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগে উঠে এসেছে নানা তথ্য।
প্রতারণা মামলায় বাবুল আখতার আদালত সূত্রে জানা যায়, বাদী মাকসুদুল আলম মঈনউদ্দিন দায়ের করা প্রতারণা মামলায় (সিআর নং-৩৬৮) চার মাস কারাভোগ করেন বাবুল আখতার। একই ধরনের অভিযোগে এর আগেও তিনি একাধিকবার কারাভোগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় প্রলোভন ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বাবুল আখতার ও তার সহযোগীরা। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর বাদী আদালতের শরণাপন্ন হন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার বিষয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতারণার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ:
মামলার তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের আরেক সদস্য কানিজ আখতার বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া জিনিয়া তাসমিন টুম্পার বিরুদ্ধেও অনলাইন সম্পর্ক, বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের করা মামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে এসব অভিযোগ সামনে আসে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, যশোর নার্সিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার পর জিনিয়া তাসমিন টুম্পা ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অনলাইন সম্পর্ক ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
কয়েকজন তরুণ অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের একাধিক অভিযোগ প্রকাশ পেলেও সেগুলোর স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন
বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর একটি থানায় প্রতারণা ও মানবপাচার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার বাদীরা দাবি করেন, চুক্তি অনুযায়ী বিদেশে পাঠানো সম্ভব না হলেও পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। মামলায় কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বনানী থানার হত্যা ও বিস্ফোরণ মামলা ঘিরে বিতর্ক:
রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত হত্যা ও বিস্ফোরণ মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রভাবশালী আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দাখিল না করে তদন্তে বিলম্ব করা হচ্ছে।
মামলার অভিযোগ এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনি জনতা গঠন করে অবৈধ অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহারের ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বাদীপক্ষের দাবি, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং একটি নির্দিষ্ট ছাত্রগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মামলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সংগঠনিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাদীপক্ষ আরও দাবি করেছে, মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা এবং আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সংগঠন ইসকনের এক ব্যক্তির নামও উল্লেখ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ:
বাদীপক্ষের অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম অর্থের বিনিময়ে কয়েকজন আসামির নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া তদন্তকে ভিন্নমুখী করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাদীপক্ষের দাবি:
বাদীপক্ষের পক্ষ থেকে যেসব দাবি জানানো হয়েছে:
এজাহারে উল্লেখিত সকল আসামির বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দাখিল তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে যাচাই
প্রভাবশালী আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার
বাদীপক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুরুতর এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনে উচ্চপর্যায়ের তদারকি বা স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর সবার।



















