০৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

সরকারি জমিতে অনিয়মের অভিযোগ: নূর আলী ও বোরাক রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে সিআইডির ১১৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

  • আপডেট: ০১:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • / ১৮০০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর বনানীতে সরকারি জমিতে নির্মিত “বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং” প্রকল্পে অনিয়ম, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ নূর আলী এবং তার প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির দাবি, অনুমোদনহীন ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা আয় করে তা মানিলন্ডারিং করেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৮ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীস খান গণমাধ্যমকে এ বিষয় অবগত করেন।

তিনি জানান, বনানী থানায় দায়ের করা মামলা নম্বর-১১, তারিখ ৭ মে ২০২৬। মামলাটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

সিআইডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর বনানী এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রিত সরকারি জমিতে ১৪ তলা ভবন নির্মাণের চুক্তি থাকলেও বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড অনুমোদন ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। পরে সেখানে পাঁচ তারকা হোটেল ‘শেরাটন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না করে এবং ডিএনসিসিকে প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে চুক্তি সংশোধন করানোর অভিযোগও উঠেছে।

সিআইডিত অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়নি। ফলে ভবনের উচ্চতা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণে ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সংস্থাটি বলছে, অনুমোদনহীন ভবনে পরিচালিত হোটেল ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ পরবর্তীতে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে বেদখলকৃত সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ হলে লন্ডারকৃত অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

সরকারি জমিতে অনিয়মের অভিযোগ: নূর আলী ও বোরাক রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে সিআইডির ১১৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

আপডেট: ০১:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর বনানীতে সরকারি জমিতে নির্মিত “বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং” প্রকল্পে অনিয়ম, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ নূর আলী এবং তার প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির দাবি, অনুমোদনহীন ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা আয় করে তা মানিলন্ডারিং করেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৮ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীস খান গণমাধ্যমকে এ বিষয় অবগত করেন।

তিনি জানান, বনানী থানায় দায়ের করা মামলা নম্বর-১১, তারিখ ৭ মে ২০২৬। মামলাটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

সিআইডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর বনানী এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রিত সরকারি জমিতে ১৪ তলা ভবন নির্মাণের চুক্তি থাকলেও বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড অনুমোদন ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। পরে সেখানে পাঁচ তারকা হোটেল ‘শেরাটন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না করে এবং ডিএনসিসিকে প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে চুক্তি সংশোধন করানোর অভিযোগও উঠেছে।

সিআইডিত অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়নি। ফলে ভবনের উচ্চতা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণে ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সংস্থাটি বলছে, অনুমোদনহীন ভবনে পরিচালিত হোটেল ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ পরবর্তীতে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে বেদখলকৃত সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ হলে লন্ডারকৃত অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।