বিতর্কিত কর্মকর্তাদের এসপি হিসেবে জেলায় পদায়ন, পুলিশে চাপা ক্ষোভ
- আপডেট: ০৬:০০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
- / ১৮০০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
পলাতক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে সম্প্রতি পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদায়ন করাকে কেন্দ্র করে খোদ পুলিশ বাহিনীর ভেতরেই অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রথম পুলিশ সপ্তাহ সামনে রেখে এমন বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর পেছনে কোনো উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনা রয়েছে কিনা, তা তদন্তের দাবি উঠেছে।
মঙ্গলবার(০৫ মে) দেশের ১২টি জেলায় এসপি পদে রদবদলের অংশ হিসেবে কয়েকজন কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ পান মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান। তাকে নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিগত সরকারের আমলে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন, রাজনৈতিক মামলায় হয়রানি এবং বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অভিযোগ থাকা কিছু কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের দাবি, বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির পুলিশের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন। কিন্তু প্রশাসনের অভ্যন্তরে কোনো চক্র সেই প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদায়নে ভূমিকা রাখছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত বা সাসপেন্ড হওয়া অনেক কর্মকর্তা এখনো পুনর্বহাল কিংবা ন্যায্য পদায়ন পাননি। অথচ অভিযোগ ও মামলায় জড়িত কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়নের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে গোপন তথ্য ফাঁস ও প্রশাসনিক ঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
একটি গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে, ফেনীর নবনিযুক্ত এসপি মাহবুব আলম খান অতীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মরত থাকাকালে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও অপহরণ মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে—কারা তার অতীত কর্মকাণ্ড আড়াল করে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের সুযোগ করে দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর জেলা ফেনীতে এমন বিতর্কিত কর্মকর্তার পদায়ন জননিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাহবুব আলম খান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত বলেন, কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।



















