১১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

আকাশপথে নজরদারি: ইলিশ রক্ষায় নৌবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে ৫১৭ কোটি টাকার অবৈধ জাল জব্দ

  • আপডেট: ১১:২৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / ১৮০০২

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ সংরক্ষণ, জাটকা নিধন প্রতিরোধ এবং টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল ও নদী অববাহিকায় অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৭১৬টি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে আনুমানিক ৫১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৪২ হাজার ৭১০ টাকা মূল্যের প্রায় ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৫ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়া মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। দেশি বা বিদেশি কোনো নৌযানের নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ ঠেকাতে এ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’ এবং ১৫ এপ্রিল থেকে ‘বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিন সকল প্রকার মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম’ বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য আহরণ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জোরালো টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৭১৬টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসময় আনুমানিক ৫১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৪২ হাজার ৭১০ টাকা মূল্যের প্রায় ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৫ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনাসহ ৯টি জেলায় পরিচালিত এসব অভিযানে কারেন্ট জাল, মশারি জাল, চায়না দুয়ারি জাল, সুতার জাল এবং বাধা জালসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়।

পাশাপাশি বেহুন্দি জাল, টং জাল ও চায়না রিংসহ মোট ৮৮২টি নিষিদ্ধ জাল এবং ৩৭ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলেদের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বৈধ উপায়ে মাছ আহরণ, মা-ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

আইএসপিআর আরও জানায়, দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিরলস দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। গত ১৫ এপ্রিল থেকে বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনীর ৩টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এসব জাহাজ, বোট ও ক্রাফটের মাধ্যমে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজন সাপেক্ষে মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে, যাতে দেশি বা বিদেশি কোনো নৌযান নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ করতে না পারে।

গভীর সমুদ্রে অবৈধ মৎস্য শিকারিদের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে নৌবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরে পরিচালিত ১২০টি অভিযানে আনুমানিক ৩১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ জাল ও জাটকা জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কারেন্ট জাল, মশারি জাল, চায়না দুয়ারি জাল, সুতার জাল ও বাধা জালসহ প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ মিটার জাল এবং বেহুন্দি, টং ও চায়না রিংসহ মোট ৪৮টি নিষিদ্ধ জাল রয়েছে। জব্দ করা জাল স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জাটকা স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। সরকার ঘোষিত ‘৫৮ দিন সকল প্রকার মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম’ আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে।

জাতীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তৎপর, সমন্বিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ জাল ব্যবহার ও জাটকা নিধনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযানের কারণে অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে এবং জেলেদের মধ্যে আইন মেনে মাছ আহরণে সচেতনতা বেড়েছে। জাতীয় সম্পদ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, উপকূলীয় অর্থনীতির উন্নয়ন এবং জেলেদের জীবিকা সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

মা ইলিশ সংরক্ষণ ও দেশের সামগ্রিক মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘জাতীয় মৎস্য পুরস্কার-২০২৫’ অর্জন করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

আকাশপথে নজরদারি: ইলিশ রক্ষায় নৌবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে ৫১৭ কোটি টাকার অবৈধ জাল জব্দ

আপডেট: ১১:২৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ সংরক্ষণ, জাটকা নিধন প্রতিরোধ এবং টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল ও নদী অববাহিকায় অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৭১৬টি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে আনুমানিক ৫১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৪২ হাজার ৭১০ টাকা মূল্যের প্রায় ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৫ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়া মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। দেশি বা বিদেশি কোনো নৌযানের নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ ঠেকাতে এ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’ এবং ১৫ এপ্রিল থেকে ‘বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিন সকল প্রকার মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম’ বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য আহরণ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জোরালো টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৭১৬টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসময় আনুমানিক ৫১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৪২ হাজার ৭১০ টাকা মূল্যের প্রায় ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৫ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনাসহ ৯টি জেলায় পরিচালিত এসব অভিযানে কারেন্ট জাল, মশারি জাল, চায়না দুয়ারি জাল, সুতার জাল এবং বাধা জালসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়।

পাশাপাশি বেহুন্দি জাল, টং জাল ও চায়না রিংসহ মোট ৮৮২টি নিষিদ্ধ জাল এবং ৩৭ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলেদের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বৈধ উপায়ে মাছ আহরণ, মা-ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

আইএসপিআর আরও জানায়, দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিরলস দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। গত ১৫ এপ্রিল থেকে বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনীর ৩টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এসব জাহাজ, বোট ও ক্রাফটের মাধ্যমে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজন সাপেক্ষে মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে, যাতে দেশি বা বিদেশি কোনো নৌযান নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ করতে না পারে।

গভীর সমুদ্রে অবৈধ মৎস্য শিকারিদের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে নৌবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরে পরিচালিত ১২০টি অভিযানে আনুমানিক ৩১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ জাল ও জাটকা জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কারেন্ট জাল, মশারি জাল, চায়না দুয়ারি জাল, সুতার জাল ও বাধা জালসহ প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ মিটার জাল এবং বেহুন্দি, টং ও চায়না রিংসহ মোট ৪৮টি নিষিদ্ধ জাল রয়েছে। জব্দ করা জাল স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জাটকা স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। সরকার ঘোষিত ‘৫৮ দিন সকল প্রকার মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম’ আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে।

জাতীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তৎপর, সমন্বিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ জাল ব্যবহার ও জাটকা নিধনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযানের কারণে অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে এবং জেলেদের মধ্যে আইন মেনে মাছ আহরণে সচেতনতা বেড়েছে। জাতীয় সম্পদ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, উপকূলীয় অর্থনীতির উন্নয়ন এবং জেলেদের জীবিকা সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

মা ইলিশ সংরক্ষণ ও দেশের সামগ্রিক মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘জাতীয় মৎস্য পুরস্কার-২০২৫’ অর্জন করেছে।