সুন্দরবনে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করল কুখ্যাত ‘সুমন বাহিনী’র ৭ সদস্য
- আপডেট: ০৪:৪৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / ১৮০০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর
সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাত সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) মোংলার দিগরাজে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
ঐদিন বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন— সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও মাহফুজ মল্লিক (৩৪)। তাদের মধ্যে প্রথম ছয়জন বাগেরহাটের মোংলা থানার এবং মাহফুজ মল্লিক রামপাল থানার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ড জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। সম্প্রতি কোস্ট গার্ডের চলমান বিশেষ অভিযানের চাপে তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।
আত্মসমর্পণের সময় দস্যুদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়।
অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা জানান, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” ও “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এসব অভিযানে ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি এবং ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২১ জন বনদস্যুকে আটক এবং জিম্মি থাকা ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিয়মিত অভিযানের ফলে সুন্দরবনের সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো এখন ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক দস্যুই আত্মসমর্পণে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, যারা দস্যুবৃত্তি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, আত্মসমর্পণের পর তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে।




















