এয়ারপোর্টের অকশন ম্যানেজার পরিচয়ে কমদামে আইফোন বিক্রির ফাঁদ,প্রতারক গ্রেফতার
- আপডেট: ০৩:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
- / ১৮০১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অকশন বিভাগের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে স্বল্পমূল্যে আইফোন, ল্যাপটপসহ দামি ইলেকট্রনিক্স পণ্য দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি মো. ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার (২৮)। সোমবার মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকা থেকে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই)সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিআইডি জানায়, ভুক্তভোগী ঢাকার একটি বেসরকারি জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মী। প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের বিমানবন্দরের অকশন বিভাগের কর্মকর্তা, পরে অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেয়। একপর্যায়ে তারা দাবি করে, বিমানবন্দরের অকশনে জব্দ বা অব্যবহৃত আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি করা হবে।
বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রতারকরা আরও দাবি করে, তাদের অধীনে কর্মরত প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনবীমার পলিসি নিতে আগ্রহী। এভাবে ভুক্তভোগীর সঙ্গে একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে তারা।
এরপর ভুক্তভোগীকে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ব্যবসার বৈধতা প্রমাণ করতে প্রতারকরা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল অনুমোদনপত্র, কথিত সরকারি নথি, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের (সিএএবি) ভুয়া কাগজপত্র এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সরবরাহ করে।
এসব নথি দেখে প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করেন ভুক্তভোগী। পরে ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল ও ৫৪৩টি ল্যাপটপ সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে দুটি ব্যাংক হিসাব ও তিনটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে মোট ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা নেয় চক্রটি।
টাকা নেওয়ার পর কোনো পণ্য সরবরাহ না করে নানা অজুহাত দিতে থাকে প্রতারকরা। একপর্যায়ে তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হলে তদন্তের দায়িত্ব নেয় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার।
সিআইডি জানায়, প্রযুক্তিগত তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রেফতার হওয়া ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত একটি আইফোনসহ পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং সাতটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পেরেছে, চক্রটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে এবং জাল নথিপত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত। এরপর বিমানবন্দরের অকশনে স্বল্পমূল্যে মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত।
তদন্তে চক্রটির অন্যান্য সদস্য, ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এবং প্রতারণার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার এর আগে রাজধানীর ভাটারা থানার একটি ডিজিটাল প্রতারণা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। তাঁর বিরুদ্ধে আরও কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিআইডির সতর্কতা
সিআইডি জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভন, অনলাইনে পাওয়া কথিত সরকারি অনুমোদনপত্র কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির ব্যবসায়িক প্রস্তাবে বিশ্বাস করে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা উচিত নয়।
যেকোনো বিনিয়োগ বা পণ্য কেনার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিকটস্থ থানা বা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।



















