মিরপুরে জাতীয় গৃহায়নের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতিতে কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
- আপডেট: ০৩:০২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মিরপুর-০২,ঢাকা এর জাতীয় গৃহসংস্থান মিরপুর-২ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসমা আক্তার, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ ভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
তার এসব অবৈধ উপার্জনের বিষয়ের তদন্ত চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াদুদ নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায় যে, মোসা. আসমা আক্তার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, জাতীয় গৃহসংস্থান-০২, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মিরপুর-০২, ঢাকায় কর্মরত। তার পিতার নাম: মোঃ আমিরুল ইসলাম, মাতার নাম উম্মে হানি, স্বামীর নাম রবিউল ইসলাম, তার জাতীয় পরিচয়পত্র নং-১৪৯৫০৫৬৫২৩, জন্ম তারিখ: ২৩/১২/১৯৭৯ইং, টিন নং-২৫৬০৭৭৮৫৫৭৪৯, সার্কেল-৯১, কোম্পানী, কর অঞ্চল-০৫, ঢাকা। তার বর্তমান বাসার ঠিকানাঃ ত্রয়ী বিল্ডিং-০৩, ফ্ল্যাট-সি/১৩, পশ্চিম, ব্লক-বি, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। (২) বিল্ডিং নং-২৫, ফ্ল্যাট-ডি, লালমাটিয়া নিউ কলোনী, স্ট্যাফ কোয়াটার, মোহাম্মপুর, ঢাকা। লালমাটিয়া ৭২ (সংশোধিত ৮৮টি ফ্ল্যাট প্রকল্পের ১৬৮৫ বর্গফুটের আয়তন বিশিষ্ট ইমারত নং-০৩, এর বি/৪৭ নং গ্যারেজ এরিয়া বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। উক্ত বিল্ডিং এর সর্বমোট ১৮৬০ বর্গফুটের এবং ১২০ বর্গফুটের গ্যারেজ এর সর্বমোট মূল্য ৯৬ লক্ষ ৪ হাজার ৫০০ টাকা এর মধ্যে প্রথম কিস্তি গত ৩১/০৮/২০১৮ইং তারিখ ৪৫৫২২৫ টাকা পরিশোধ করেছেন। দ্বিতীয় কিস্তি গত ৩০/০৮/২০১৯ইং তারিখ ৪৫৫২২৫ টাকা পরিশোধ করেছেন। ৩য় কিস্তি গত ২৯/০৮/২০২০ইং তারিখ ৪৫৫২২৫ টাকা পরিশোধ করেছেন। ৪র্থ কিস্তি গত ২৮/০৮/২০২১ইং তারিখ ৪৫৫২২৫ টাকা পরিশোধ করেছেন। ৫ম কিস্তি গত ২৭/০৮/২০২১ইং তারিখ ৪৫৫২২৫ টাকা পরিশোধ করেছেন। ৬ষ্ঠ কিস্তি গত ২৬/০৮/২০২২ইং তারিখ ৪৫৫২২৫ টাকা পরিশোধ করেছেন। ৭ম কিস্তি গত ২৫/০৮/২০২৩ইং তারিখ ৪৫৫২২৫ টাকা পরিশোধ করেছেন। ৮ম কিস্তি গত ২৪/০৮/২০২৪ইং তারিখ ৪৫৫২২৫ টাকা পরিশোধ করেছেন। সর্বমোট পরিশোধ করেছেন ৩৬ লক্ষ ৪১ হাজার ৮০০ টাকা। আসমা আক্তর ২০১০ সালে চাকুরিতে জাতীয় গৃহায়নের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। তখন তার মূল বেতন ছিল ৮০০০/- টাকা। ২০১৫ সাল পর্যন্ত সর্বমোট বেতন পেয়েছেন ৬ লক্ষ টাকা। ২০১৬ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বেতন পেয়েছেন ২৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। সর্বমোট সে বেতন পেয়েছেন ৩১ লক্ষ টাকা প্রায়। কিন্তু ফ্ল্যাটের কিস্তি পরিশোধ করেছেন ৩৬ লক্ষ ৪১ হাজার ৮০০ টাকা। আসমা আক্তার ১৫/১২/২০১৬ সালে আয়কর নথি খোলেন। সে সময় আসমা আক্তার প্রথমেই এফডিআর ৬০ লক্ষ আয়কর নথিতে প্রর্দশন করেছেন। সেই টাকা তার কালো টাকা ঘুষ দুর্নীতির টাকা জাতীয় গৃহায়নের টেন্ডারে মূল দায়িত্বে ছিলেন আসমা আক্তার। সেই সময় তিনি ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে টেন্ডার বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আসমা আক্তার বর্তমানে যে টাকার মালিক হয়েছেন তার অধিকাংশ অবৈধ ও কালো টাকা। তিনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে অবৈধ ভাবে ঘুষ, দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, প্লট-
জালিয়াতি, তদবির বাণিজ্য করে অবৈধ ভাবে প্রায় শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তার স্বামী রবিউল ইসলাম পপুলার ডায়গনষ্টিক সেন্টার শ্যামলী শাখায় রিসিপসনিস্ট হিসাবে বর্তমানে কর্মরত আছেন। তার বেতন মাত্র ২০-২৫ হাজার টাকা। আসমা আক্তার একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হয়ে কিভাবে এত টাকার মালিক হলেন। বিষয়টি খুবই অস্বাভাবিক। আসমা আক্তার বর্তমানে সরকারের যে কোয়াটার বরাদ্দ নিয়েছেন সেখানে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বসবাস করার কথা সেখানে আসমা আক্তার তদবির করে বড় ফ্ল্যাট সরকারি কোয়াটার বরাদ্দ নিয়েছেন অবৈধ ভাবে। গত ০৯/১২/২০১৮ইং তারিখ তারিখ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক মোঃআলমগীর হোসেন মোল্লা ভূমি ও সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সেগুনবাগিচা কর্তৃক স্বাক্ষরিত যার স্মারক নং-জাগৃক/(ভূসব্য) এন,এইচ,এ-(লালমাটিয়া)/৭২/১০২/২০১৮/১২৯৫/১(৩), তারিখ: ০৯/১২/২০১৮ইং। একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হয়েও তার আইন বহিভূর্ত ভাবে সরকারি কোয়াটার বরাদ্দ ও সরকারি ভাবো বরাদ্দপ্রাপ্ত নিজের জন্য ক্রয় কৃত ফ্ল্যাটটি ও অবৈধ ভাবে তদবিরের মাধ্যমে বরাদ্দ গ্রহন করেছেন। আসমা আক্তার গ্রাহক হয়রানি করে, ফাইল লুকাইয়া রাখিয়া, বিভিন্ন ছলচাতুরী করে গ্রাহকদের নিকট বড় অংকের ঘুষ গ্রহন করে। আসমা আক্তার এর স্থায়ী ঠিকানা হলো: মোসা. আসমা আক্তার, পিতা: মৃত আমিরুল ইসলা, মাতা: উম্মে হানি, সাং-সুলতানপুর, ডাকঘর: কয়া, উপজেলা: কুমারখালী, জেলা: কুষ্টিয়া। আসমা আক্তারের বিষয়ে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে সমস্ত অপকর্মের বিষয়ে কয়েকটি আবেদন ইতি মধ্যে সরকারের কয়েকটি দপ্তরে জমা পড়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। উল্লেখ্য যে, আসমা আক্তারের ১৮৬৪ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের ও ১২০ বর্গফুটের গ্যারেজ সহ সর্বমোট জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিকট পরিশোধ করতে হবে। ১ কোটি ২০ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসমা আক্তারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



















