০১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

পানি বণ্টন চুক্তি, বিদ্যুৎ ও সাইবার নিরাপত্তা: জটিল সমস্যার সমাধানে বুয়েটের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি’

  • আপডেট: ১২:৪৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮০০২

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন,প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা শিল্পের বিকাশ—তিনটি ভিন্ন খাতের জটিল সমস্যার সমাধানে প্রচলিত আলোচনা ও মতবিনিময়ের বাইরে গিয়ে বাস্তব কর্মপথ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি’ নামে নতুন এই কাঠামোয় সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি কার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, কী তথ্য প্রয়োজন এবং কোন পদক্ষেপ আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নেওয়া সম্ভব—এসবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুয়েটের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (সিইআরএম) ও যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে ২৫ থেকে ২৭ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত তিন দিনের ‘ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি ওয়ার্কশপ ২০২৬’-এ এই কর্মপথ তৈরি করা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত, নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক সহায়তায়।

আয়োজকদের ভাষ্য, উদ্যোগটির বিশেষত্ব হলো—এটি কেবল সমস্যা নিয়ে আলোচনা বা নীতিগত সুপারিশ তৈরির আয়োজন নয়; বরং তথ্য, সক্ষমতা, স্বার্থের সংঘাত ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবায়নযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর একটি কাঠামো।

গঙ্গার পানি: কূটনীতির সঙ্গে তথ্যের সমন্বয়

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন বাংলাদেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত পানি কূটনীতির বিষয়। কর্মশালায় এ আলোচনাকে আরও তথ্যনির্ভর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন ও সূচকভিত্তিক একটি ন্যূনতম নিশ্চিত পানি প্রবাহের ধারণা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি প্রবাহ বাড়ানোর বা পানি ‘অগমেন্টেশন’ উদ্যোগের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে বাংলাদেশের পানির প্রকৃত চাহিদা, নদীর প্রবাহের পরিবর্তন, কৃষি, শিল্প, পরিবেশ ও জনজীবনে পানির প্রয়োজন এবং ফারাক্কায় বাংলাদেশের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় প্রবাহের পরিমাণ নির্ভুলভাবে নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে। সে কারণে আগামী ৯০ দিনে বিভিন্ন উৎসে ছড়িয়ে থাকা গবেষণা ও তথ্য একত্র করা এবং ভারতের সম্ভাব্য আলোচনার অবস্থান বিশ্লেষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, এ ধরনের তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পানি কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ আলোচনার টেবিলে রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি পরিমাপযোগ্য তথ্য ও বৈজ্ঞানিক যুক্তি থাকলে দর-কষাকষির ভিত্তিও শক্তিশালী হয়।

বিদ্যুৎ আমদানিতে একক নির্ভরতা কমানোর ভাবনা

আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু সম্ভাবনার কথা এসেছে কর্মশালায়। দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডকে আরও সক্ষম করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতায় ভারতের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে যুক্ত। কর্মশালায় ভবিষ্যতে একটি মাত্র প্রবেশপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সংযোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার হয়ে পূর্বাঞ্চলীয় সংযোগ এবং বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ সহযোগিতার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ জন্য জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদা ও তথ্য আদান-প্রদানের ওপর একটি সমীক্ষা, আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য গ্রিড কোড সমন্বয়ের প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি চুক্তি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইনগত ও ক্রয়সংক্রান্ত সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলোকে ৯০ দিনের কর্মসূচিতে রাখা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তায় আস্থার সংকট কাটানোর উদ্যোগ

দেশীয় সাইবার নিরাপত্তা শিল্পের সম্ভাবনা থাকলেও স্থানীয় প্রযুক্তিপণ্য ও স্টার্টআপের ক্ষেত্রে আস্থা ও পণ্যের কার্যকারিতা যাচাই বড় বাধা—এমন পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে কর্মশালায়।

সমাধান হিসেবে ব্যাংক, সাইবার নিরাপত্তা স্টার্টআপ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সাইবার নিরাপত্তা পণ্যের মান ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য বিশ্বাসযোগ্য মূল্যায়ন কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বড় প্রতিষ্ঠানের মতো ‘অ্যাঙ্কর পার্টনার’ তৈরি করে স্থানীয় সাইবার নিরাপত্তা সমাধানের বাজার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ শুধু বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী দেশীয় প্রযুক্তি তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।

‘ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি’ কতটা বদল আনতে পারবে?

এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রকৌশল জ্ঞানকে কূটনীতি ও নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করা। কর্মশালায় ছয় ধাপের একটি কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে—সমস্যা নির্ণয়, পরিস্থিতি ও সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্তের পথ নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও উপকরণ চিহ্নিত করা, ফলাফল পরিমাপ এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা নিশ্চিত করা।

জটিল সমস্যা সমাধানে ‘একই তথ্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা’, ‘পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর জায়গা কোথায়’ এবং ‘প্রচলিত কাঠামোর বাইরে নতুন সমাধান কীভাবে তৈরি করা যায়’—এই তিনটি প্রশ্নও সামনে রাখা হয়েছে।

বুয়েটের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগস্টের কর্মশালা কেবল একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বুয়েটের নেতৃত্বে একটি স্থায়ী ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি’ কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণ, প্রয়োগভিত্তিক গবেষণা, বার্ষিক কর্মশালা এবং সরকারি ও শিল্পখাতকে নীতিগত ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে উদ্যোগটির সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে কর্মশালায় তৈরি প্রস্তাবগুলো বাস্তব নীতিতে কতটা রূপ নেয় তার ওপর। আগামী ৯০ দিনের কর্মসূচিই হবে সেই পরীক্ষার প্রথম ধাপ। পানি, বিদ্যুৎ ও সাইবার নিরাপত্তার মতো কৌশলগত খাতে প্রস্তাবগুলো যদি পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপ নিতে পারে, তাহলে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি’ বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণে প্রকৌশলভিত্তিক নতুন একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

পানি বণ্টন চুক্তি, বিদ্যুৎ ও সাইবার নিরাপত্তা: জটিল সমস্যার সমাধানে বুয়েটের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি’

আপডেট: ১২:৪৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন,প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা শিল্পের বিকাশ—তিনটি ভিন্ন খাতের জটিল সমস্যার সমাধানে প্রচলিত আলোচনা ও মতবিনিময়ের বাইরে গিয়ে বাস্তব কর্মপথ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি’ নামে নতুন এই কাঠামোয় সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি কার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, কী তথ্য প্রয়োজন এবং কোন পদক্ষেপ আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নেওয়া সম্ভব—এসবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুয়েটের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (সিইআরএম) ও যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে ২৫ থেকে ২৭ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত তিন দিনের ‘ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি ওয়ার্কশপ ২০২৬’-এ এই কর্মপথ তৈরি করা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত, নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক সহায়তায়।

আয়োজকদের ভাষ্য, উদ্যোগটির বিশেষত্ব হলো—এটি কেবল সমস্যা নিয়ে আলোচনা বা নীতিগত সুপারিশ তৈরির আয়োজন নয়; বরং তথ্য, সক্ষমতা, স্বার্থের সংঘাত ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবায়নযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর একটি কাঠামো।

গঙ্গার পানি: কূটনীতির সঙ্গে তথ্যের সমন্বয়

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন বাংলাদেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত পানি কূটনীতির বিষয়। কর্মশালায় এ আলোচনাকে আরও তথ্যনির্ভর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন ও সূচকভিত্তিক একটি ন্যূনতম নিশ্চিত পানি প্রবাহের ধারণা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি প্রবাহ বাড়ানোর বা পানি ‘অগমেন্টেশন’ উদ্যোগের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে বাংলাদেশের পানির প্রকৃত চাহিদা, নদীর প্রবাহের পরিবর্তন, কৃষি, শিল্প, পরিবেশ ও জনজীবনে পানির প্রয়োজন এবং ফারাক্কায় বাংলাদেশের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় প্রবাহের পরিমাণ নির্ভুলভাবে নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে। সে কারণে আগামী ৯০ দিনে বিভিন্ন উৎসে ছড়িয়ে থাকা গবেষণা ও তথ্য একত্র করা এবং ভারতের সম্ভাব্য আলোচনার অবস্থান বিশ্লেষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, এ ধরনের তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পানি কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ আলোচনার টেবিলে রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি পরিমাপযোগ্য তথ্য ও বৈজ্ঞানিক যুক্তি থাকলে দর-কষাকষির ভিত্তিও শক্তিশালী হয়।

বিদ্যুৎ আমদানিতে একক নির্ভরতা কমানোর ভাবনা

আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু সম্ভাবনার কথা এসেছে কর্মশালায়। দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডকে আরও সক্ষম করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতায় ভারতের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে যুক্ত। কর্মশালায় ভবিষ্যতে একটি মাত্র প্রবেশপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সংযোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার হয়ে পূর্বাঞ্চলীয় সংযোগ এবং বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ সহযোগিতার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ জন্য জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদা ও তথ্য আদান-প্রদানের ওপর একটি সমীক্ষা, আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য গ্রিড কোড সমন্বয়ের প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি চুক্তি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইনগত ও ক্রয়সংক্রান্ত সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলোকে ৯০ দিনের কর্মসূচিতে রাখা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তায় আস্থার সংকট কাটানোর উদ্যোগ

দেশীয় সাইবার নিরাপত্তা শিল্পের সম্ভাবনা থাকলেও স্থানীয় প্রযুক্তিপণ্য ও স্টার্টআপের ক্ষেত্রে আস্থা ও পণ্যের কার্যকারিতা যাচাই বড় বাধা—এমন পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে কর্মশালায়।

সমাধান হিসেবে ব্যাংক, সাইবার নিরাপত্তা স্টার্টআপ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সাইবার নিরাপত্তা পণ্যের মান ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য বিশ্বাসযোগ্য মূল্যায়ন কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বড় প্রতিষ্ঠানের মতো ‘অ্যাঙ্কর পার্টনার’ তৈরি করে স্থানীয় সাইবার নিরাপত্তা সমাধানের বাজার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ শুধু বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী দেশীয় প্রযুক্তি তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।

‘ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি’ কতটা বদল আনতে পারবে?

এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রকৌশল জ্ঞানকে কূটনীতি ও নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করা। কর্মশালায় ছয় ধাপের একটি কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে—সমস্যা নির্ণয়, পরিস্থিতি ও সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্তের পথ নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও উপকরণ চিহ্নিত করা, ফলাফল পরিমাপ এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা নিশ্চিত করা।

জটিল সমস্যা সমাধানে ‘একই তথ্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা’, ‘পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর জায়গা কোথায়’ এবং ‘প্রচলিত কাঠামোর বাইরে নতুন সমাধান কীভাবে তৈরি করা যায়’—এই তিনটি প্রশ্নও সামনে রাখা হয়েছে।

বুয়েটের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগস্টের কর্মশালা কেবল একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বুয়েটের নেতৃত্বে একটি স্থায়ী ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি’ কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণ, প্রয়োগভিত্তিক গবেষণা, বার্ষিক কর্মশালা এবং সরকারি ও শিল্পখাতকে নীতিগত ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে উদ্যোগটির সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে কর্মশালায় তৈরি প্রস্তাবগুলো বাস্তব নীতিতে কতটা রূপ নেয় তার ওপর। আগামী ৯০ দিনের কর্মসূচিই হবে সেই পরীক্ষার প্রথম ধাপ। পানি, বিদ্যুৎ ও সাইবার নিরাপত্তার মতো কৌশলগত খাতে প্রস্তাবগুলো যদি পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপ নিতে পারে, তাহলে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি’ বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণে প্রকৌশলভিত্তিক নতুন একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।