ঢাকা ডিসি অফিসের অধিগ্রহণ শাখায় সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি, সার্ভেয়ার মজিবুল সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি জনগণ
- আপডেট: ০৬:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৮০০৪
মোঃ মনিরুজ্জামান মনির:
অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ঢাকা ডিসি অফিসের অধিগ্রহণ শাখায় সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি। সরকারি এই শাখায় ঘুষ ছাড়া মিলে না সেবা। আবারও সার্ভেয়ার মজিবুলের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে অপরাধ সিন্ডিকেট। মজিবুল চক্রের কাছে বন্দী হয়ে পড়েছে সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ জনগণ। ফ্যাসিস্ট সরকারের একান্ত অনুগত আমলা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মহিবুল হক ঢাকায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তার প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার কাজে লাগিয়ে ডিসি অফিসে একচ্ছত্র দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তোলে বিতর্কিত সার্ভেয়ার মজিবুল হক। আওয়ামী ক্ষমতার প্রভাবে তৎকালীন ডিসি মহিবুল হকের সাথে সার্ভেয়ার মজিবুলের গড়ে তোলে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এ চক্রের মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সমুদয় কার্যক্রমকে হাতের পুতুল বানিয়ে অবাধ ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়ম পরিচালিত হতো। অভিযোগ আছে জেলা প্রশাসনের অন্য কোনো সার্ভেয়ার, কর্মচারী মুজিবুলের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পেত না। মতো ন্যূনতম সাহস ছিল না। মজিবুলের এই সিন্ডিকেট আইন কানুনের কোনো তোয়াক্কা না করে জালিয়াতির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এক ভাইয়ের অধিগ্রহণকৃত জমির পাওনা ক্ষতিপূরণের কোটি কোটি টাকা অন্য ভাইয়ের নামে ছাড় করে দেওয়ার মতো গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ করেও পার পেয়ে যেত। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন মূল্যবান সরকারি সম্পত্তির কোনো প্রকার আইনানুগ ছাড়পত্র সঠিক প্রশাসনিক অনুমোদ প্রক্রিয়া গ্রহণ না করেই ভুয়া কাগজপত্র সাজিয়ে অনায়াসে বিল প্রদান করিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের সাথে মজিবুল জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সে সময়ে সকল কাজের বরপুত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে মজিবুল। সার্ভেয়ার থেকে রাতারাতি হয়ে উঠেন কোটিকোটি টাকার সহায় সম্পদের মালিক। বর্তমান সরকারের সময়ে সার্ভেয়ার মজিবুল হকের নেতৃত্বাধীন দালাল চক্র ভূমি অধিগ্রহণের বিল হস্তান্তরের নামে নতুন করে সরকারি বিপুল পরিমাণ আত্মসাৎ জাল বিস্তার করে চলেছে। দাপ্তরিক পদায়ন অনুযায়ী মজিবুল হক কাগজপত্রে এলএ শাখা-১ এর সার্ভেয়ার হলেও ক্ষমতার দাপটে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এলএ- ৩ শাখাসহ দুইটি শাখার দাপ্তরিক কার্যক্রম পালন করে আসছে। তবে অভিযোগ রয়েছে সার্ভেয়ার মজিবুল হকের নেতৃত্বে সকল শাখার কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ফাইল অনুমোদন ও ভুমি বিল উত্তোলনের তদবির করে আসছে। সার্ভেয়ার মুজিবুলের কাজগুলো তড়িৎ গতিতে সম্পন্ন করতে স্বপন ও মোস্তফা নামীয় দুইজন বহিরাগত লোক সার্বক্ষণিক দেখভাল করে। সার্ভেয়ার মজিবুল হকের নেতৃত্বাধীন দালাল চক্রের কারণে এলএ- ৩ শাখার ভুমি অধিগ্রহণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বিলের ফাইলগুলো নিয়ম নীতি ভেঙে পড়েছে। আধিপত্য ধরে রাখতে সার্ভেয়ার মজিবুল হক গড়ে তুলেছেন সাইনবোর্ড সর্বস্ব অনুমোদনহীন ‘সার্ভেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ম্যানেজমেন্ট নামীয় একটি বেআইনি সংগঠন। কর্মকর্তাসহ সাধারণের কাছে সে এই সংগঠনের সভাপতি হিসেবে নিজেকে পরিচয় থাকেন। মজিবুল চক্রের মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বছরের পর বছর ধরে ঘুষ, নথি গায়েব, জাল দলিল তৈরি ও কৃত্রিম ভুমি অধিগ্রহণ বিল জটিলতার মতো অপরাধ নিত্যদিনের ঘটনা বলে জানাযায়। সেবা নিতে আসা ঢাকার দোহার, সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ নবাবগঞ্জ এলাকার সাধারণ জমির প্রকৃত মালিকরা নিজেদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে ভুমি অধিগ্রহণের বিল উত্তোলনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, নথি আটকে রেখে কৃত্রিমভাবে ‘ফাইল হারিয়ে গেছে’ নাটকের মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সিঁড়ি ও করিডোরে ওত পেতে থাকা মজিবুল চক্রের দালালেরা পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ফাইলের চাকা সচল করারমতো অনৈতিক অনিয়ম গুলো সচল করে থাকে। দেখা যায়, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত এল এ কেস নং-২০/২০১৫-১৬ এর অধীনে একাধিক মৌজার মধ্যে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মনগড়া মৌজা দর বসিয়ে বাড্ডা রেজিস্ট্রি অফিসে ভুয়া ও জাল দলিল সাজিয়ে কোটি কোটি সরকারি টাকা আত্মসাৎ করতে গিয়ে সার্ভেয়ার মজিবুল হকসহ কয়েকজন অভিযুক্ত হলে, চাকরি হারায় মজিবুল। বিস্ময়কর, কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে মজিবুল হক তার পুরনো চতুরতায় উর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ও আইনি ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে পুনরায় একই ডিসি অফিসে নিজের স্বপদে পুনর্বাহাল হতে সক্ষম হয়। আবারও তার অনুসারী দালাল চক্র মৌজা: উত্তর ব্রাহ্মণ চিরন, রাজারবাগ, সিদ্ধেশ্বরী ও উলুন ও উত্তর উলুন (এলএ কেস নং ১৭/২৩-২৪), মৌজা: কালাপুর সংশ্লিস্ট এই এল এ কেসটির ভুমি অধিগ্রহন ক্ষতিগ্রস্থ বিল প্রদান ও নিজেই তদবীর বানিজ্য করে এবং এই এল এ কেসের সকল ভুমি ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহক তার কাছে জিম্মি। দ্বিমুখা (এলএ কেস নং ১৫/২৩-২৪) এবং মৌজা: বাড্ডা (এলএ কেস নং ০৭/২৩-২৪) এর কোটি কোটি টাকার অধিগ্রহণ বিল ছাড় করতে ১ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ঘুষ দাবি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা ডিসি অফিস ষূত্রে জানাযায়, মজিবুল আগের থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পুরো ডিসি অফিসকে নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছে। মজিবুল হক চক্রের বেপরোয়া অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সরকার প্রশাসন এখনি ব্যবস্থা নিতে হবে অন্যথায় সরকার প্রশাসনের সুনাম তলানীতে হাবুডুবু খাবার আশঙ্কা রয়েছে। সার্ভেয়ার মজিবুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয় জানার জন্য তার মুঠোফোনে ফোন করলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। জনস্বার্থে হোক ডিসি অফিস, এমনটাই প্রতিবেদনের প্রত্যাশা।



















