১০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এসআরবি: মাদক সিন্ডিকেট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষোভে সাংবাদিকের বাসায় গুলি

  • আপডেট: ০৮:২৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

পল্লবীতে সাংবাদিকের বাসায় গুলির ঘটনায় “ভইরা-দে” গ্রুপের আতিক’কে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটিলিয়ন (এসআরবি)। এ ঘটনায় ৯ রাউন্ড তাঁজা গুলিসহ বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করা হয় বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।

এসআরবি বলছে, রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যাবসা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসা ভইরা-দে গ্রুপ বা আশিক গ্রুপ এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি সংবাদ সম্প্রচার করেছিল ভুক্তভোগী সাংবাদিক। ফলে সংবাদ প্রকাশের ক্ষোভে ওই গণমাধ্যমকর্মীর বাসায় গুলির ঘটনা ঘটে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান এসআরবি-৪এর পদাতিক অধিনায়ক লে. কর্নেল মো.হাফিজুর রহমান।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- গুলির ঘটনায় জড়িত আসামি “ভইরা-দে গ্রুপের” অন্যতম সহযোগী ও সক্রিয় সদস্য মো. আতিক চোরা (২২), পলাতক আসামি রবিনের মা মোছা. ডলি বেগম (৪৫), এবং কিশোর গ্যাং মো. নিলয় সুজন (৩১)।

মো.হাফিজুর রহমান বলেন, গত (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর পল্লবীর সবুজবাংলা এলাকায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গভীর রাতে তার বাসায় এসে তাকে খোঁজাখুঁজি করে। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী সাংবাদিক এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন।

তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই তৎক্ষণাৎ এসআরবি-৪ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তি, সিসি টিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে জানতে পারি এ ঘটনায় রবিন (২২) জড়িত রয়েছে। পরে এসআরবি-৪ এর আভিযানিক দল (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানাধীন তালতলা বস্তি এলাকায় রবিন (২২) এর বাসায় অভিযান চালিয়ে রবিন এর মা মাদক ব্যবসায়ী মোছা. ডলি বেগম (৪৫) কে গ্রেফতার করা হয় এবং টের পেয়ে রবিন পালিয়ে যায়। এসময় তার কাছ থেকে ৭৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১৫ গ্রাম ইয়াব ট্যাবলেট এর গুড়া উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে আসামিরা পল্লবীর মোহাম্মদিয়া মার্কেট এলাকায় অবস্থান করেছে। পরে আভিযানিক দল আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অভিযান চালিয়ে “ভইরা-দে গ্রুপের” অন্যতম সহযোগী ও সক্রিয় সদস্য আসামি মো. আতিক চোরা আতিক (২২)’কে গ্রেফতার করে।

পরে তার দেওয়া তথ্যে গুলির ঘটনায় জড়িত আসামি রবিন (২২), ইব্রাহিম, শুটার শাহিন (২৫) এবং আল আমিন মাদক সেবন- বিক্রি ও আড্ডার স্থানে অভিযান চালালে আসামিরা পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে একটি টিনের ঘরের পিছন থেকে ১টি খালি ম্যাগাজিন, ৯ রাউন্ড তাঁজা গুলিসহ ১টি বিদেশী পিজ্বল উদ্ধার করা হয়।

এছাড়াও এছাড়াও একই রাতে পল্লবী থানা এলাকায় অভিযানকালে কিশোর গ্যাং অন্যতম সক্রিয় সদস্য মো. নিলয় সুজন (৩১)’কে গ্রেফতার করা হয়।

গণমাধ্যম কর্মীর বাসায় গুলির কারন জানতে চাইলে মো.হাফিজুর রহমান বলেন, মিরপুর ও পল্লবীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যাবসা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসা ভইরা-দে গ্রুপ বা আশিক গ্রুপ এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি সংবাদ সম্প্রচার করেছিল ভুক্তভোগী সাংবাদিক। ফলে সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে এই গুলি ঘটনা ঘটায়। আশিক গ্রুপের মূলহোতা আশিকের নির্দেশে তার সহযোগীরা মিলে অবৈধ অস্ত্র মহড়া দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল।

আশিক গ্রুপ ও ভইরা দে গ্রুপের মূলহোতা আশিককে গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু আশিক না যে কোন ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। সমাজ থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে জানিয়ে অপরাধীদের তথ্য দিতেও আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এসআরবি: মাদক সিন্ডিকেট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষোভে সাংবাদিকের বাসায় গুলি

আপডেট: ০৮:২৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

পল্লবীতে সাংবাদিকের বাসায় গুলির ঘটনায় “ভইরা-দে” গ্রুপের আতিক’কে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটিলিয়ন (এসআরবি)। এ ঘটনায় ৯ রাউন্ড তাঁজা গুলিসহ বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করা হয় বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।

এসআরবি বলছে, রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যাবসা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসা ভইরা-দে গ্রুপ বা আশিক গ্রুপ এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি সংবাদ সম্প্রচার করেছিল ভুক্তভোগী সাংবাদিক। ফলে সংবাদ প্রকাশের ক্ষোভে ওই গণমাধ্যমকর্মীর বাসায় গুলির ঘটনা ঘটে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান এসআরবি-৪এর পদাতিক অধিনায়ক লে. কর্নেল মো.হাফিজুর রহমান।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- গুলির ঘটনায় জড়িত আসামি “ভইরা-দে গ্রুপের” অন্যতম সহযোগী ও সক্রিয় সদস্য মো. আতিক চোরা (২২), পলাতক আসামি রবিনের মা মোছা. ডলি বেগম (৪৫), এবং কিশোর গ্যাং মো. নিলয় সুজন (৩১)।

মো.হাফিজুর রহমান বলেন, গত (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর পল্লবীর সবুজবাংলা এলাকায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গভীর রাতে তার বাসায় এসে তাকে খোঁজাখুঁজি করে। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী সাংবাদিক এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন।

তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই তৎক্ষণাৎ এসআরবি-৪ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তি, সিসি টিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে জানতে পারি এ ঘটনায় রবিন (২২) জড়িত রয়েছে। পরে এসআরবি-৪ এর আভিযানিক দল (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানাধীন তালতলা বস্তি এলাকায় রবিন (২২) এর বাসায় অভিযান চালিয়ে রবিন এর মা মাদক ব্যবসায়ী মোছা. ডলি বেগম (৪৫) কে গ্রেফতার করা হয় এবং টের পেয়ে রবিন পালিয়ে যায়। এসময় তার কাছ থেকে ৭৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১৫ গ্রাম ইয়াব ট্যাবলেট এর গুড়া উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে আসামিরা পল্লবীর মোহাম্মদিয়া মার্কেট এলাকায় অবস্থান করেছে। পরে আভিযানিক দল আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অভিযান চালিয়ে “ভইরা-দে গ্রুপের” অন্যতম সহযোগী ও সক্রিয় সদস্য আসামি মো. আতিক চোরা আতিক (২২)’কে গ্রেফতার করে।

পরে তার দেওয়া তথ্যে গুলির ঘটনায় জড়িত আসামি রবিন (২২), ইব্রাহিম, শুটার শাহিন (২৫) এবং আল আমিন মাদক সেবন- বিক্রি ও আড্ডার স্থানে অভিযান চালালে আসামিরা পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে একটি টিনের ঘরের পিছন থেকে ১টি খালি ম্যাগাজিন, ৯ রাউন্ড তাঁজা গুলিসহ ১টি বিদেশী পিজ্বল উদ্ধার করা হয়।

এছাড়াও এছাড়াও একই রাতে পল্লবী থানা এলাকায় অভিযানকালে কিশোর গ্যাং অন্যতম সক্রিয় সদস্য মো. নিলয় সুজন (৩১)’কে গ্রেফতার করা হয়।

গণমাধ্যম কর্মীর বাসায় গুলির কারন জানতে চাইলে মো.হাফিজুর রহমান বলেন, মিরপুর ও পল্লবীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যাবসা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসা ভইরা-দে গ্রুপ বা আশিক গ্রুপ এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি সংবাদ সম্প্রচার করেছিল ভুক্তভোগী সাংবাদিক। ফলে সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে এই গুলি ঘটনা ঘটায়। আশিক গ্রুপের মূলহোতা আশিকের নির্দেশে তার সহযোগীরা মিলে অবৈধ অস্ত্র মহড়া দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল।

আশিক গ্রুপ ও ভইরা দে গ্রুপের মূলহোতা আশিককে গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু আশিক না যে কোন ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। সমাজ থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে জানিয়ে অপরাধীদের তথ্য দিতেও আহ্বান জানান তিনি।