কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণ করেন সেখানকারই ইলেকট্রিশিয়ান:পুলিশ
- আপডেট: ০৪:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৮০০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শাহজাহানপুর থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন–শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কমলাপুর রেলস্টেশনের ইলেকট্রিশিয়ান মো. সাখাওয়াত হোসেন রায়হান (৩২) এবং স্থানীয় যুবলীগকর্মী মো. সাইমুন (২৩)।
পুলিশের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের ডাকা লকডাউন সফল করা এবং নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
সংবাদ সম্মেলনে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৩৭ মিনিটের দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ২৯ ও ৩০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ঘটনার পর রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি আমরাও সেখানে উপস্তিত হয় এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করি।
তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গতকাল রাত ও আজ ভোরে রায়হান ও সাইমুনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, লকডাউন সফল করা এবং নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম ও পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই এবং গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এছাড়া এ ঘটনায় ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ জানায়, রাজধানীতে এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার কাজও চলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা কী? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ঘটনা ঘটালে তারা সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করে। ঢাকা শহরে পুলিশের কর্মকাণ্ডের পরিধিও অনেক বিস্তৃত। নিয়মিত জনসভা, মিছিল-মিটিং ও বিভিন্ন আন্দোলন হচ্ছে, সেগুলো আমাদের দেখতে হয়। পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠন বা যাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তারাও কর্মসূচি দিচ্ছে। এদের অনেক সমর্থক রয়েছে, আবার এদের মধ্যে অনেকে ভাড়ায় পরিচালিত হয়। এর মধ্যেও পুলিশ নিয়মিত আসামিদের গ্রেফতার করছে। বিভিন্ন জায়গায় যেসব ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনা ঘটার পর তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তাই পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বা পুলিশের কোনো দুর্বলতা আছে—এমনটা বলার সুযোগ নেই।



















