ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার ও নির্যাতন, গ্রেফতার ২
- আপডেট: ০৩:৪২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮০০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর তাকে মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাচার এবং সেখানে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন– মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২) ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪)।
গতকাল সোমবার বিকাল পাঁচটার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থানার আশকোনা হাজি ক্যাম্পের সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর)সিআইডির মিডিয়া বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালীর সেনবাগের ওই যুবক প্রায় তিন বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফেরার পথে বিমানে এক সহযাত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি মানবপাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হন। চক্রটি তাকে লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। এ জন্য ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ইতালি পাঠানোর চুক্তি করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল ওই যুবক ঢাকার আশকোনার একটি অফিসে পাসপোর্ট জমা দেন এবং অগ্রিম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। ৭ এপ্রিল তাকে প্রথমে ভারতের নয়াদিল্লি এবং সেখান থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় ১৬ দিন অবস্থানের পর বিভিন্ন অজুহাতে তার পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। পরে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ হয়ে মিশরের কায়রোতে পাঠানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের এক সদস্য তাকে একটি বাসায় নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন আটকে রাখেন। পরে আগের চুক্তির কথা বলে তাঁর কাছে আরও ৬ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। নগদ টাকা, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ওই যুবক ও তার পরিবারের কাছ থেকে মোট প্রায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
এরপর তাকে মিশর থেকে গাড়িতে করে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত পেরিয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে চক্রের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্যদের সঙ্গে ওই যুবককেও আটক করে কারাগারে পাঠায়। তাকে মুক্ত করার কথা বলে তখন তার পরিবারের কাছে আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
সিআইডি জানায়, লিবিয়া পুলিশ ওই যুবককে আটক করার পর ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে তিনি বাদী হয়ে গত ৫ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডি তথ্য-উপাত্ত যাচাই ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।


















