রাজনীতিতে এখন এমপি নামক পদের কদরটি তলানিতে
- আপডেট: ০৩:০৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৮০৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
শেখ হাসিনা এমন এমন লোকদের মন্ত্রী বানিয়েছেন যে সে নিজেও ভাবে নাই কখনো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হবে । পলক একবার এসেছিলো ২০ বছর আগে আমার ল চেম্বারে যে সে পেশায় কিছু করতে চায় – নাটোর বারে আইনপেশা ভালো হবে না ,কি করা যায়। বললাম তোমার বাপও রাজনীতি করছে তুমি পৌরসভার মেয়র হয়ে যাও – একটু তোতলায় মনে হচ্ছিল প্রথমে , পরেতো সে টকশো শুরু করলো । সকালে উঠে হয়ে গেলো মন্ত্রী।
আমি যদি বেশী দুরে না যাই – আমার গ্রামেই তাহলে কি পাবো জানেন ? মন্ত্রী পাবো রীতিমতো দুইদফা মহা মন্ত্রী, একদফা হুইপ । যে কল্পনায় ভাবে নাই মন্ত্রী হবে। মুজিবুল হকের কথা বলছি । এখন বলতে পারেন তার কপালে লিখা আছে – রাজনীতিতে ত্যাগ আছে , লেগে ছিলো । ভাই আজও দেশে এমপি দের কি কাজ তা নির্ধারণ করতে পারি নি ? এমপি হলেই ভাবে ১০ কোটি খরচ করেছি ১০০ কোটি ৫ বছরে কামাবো , গোটা আসনের সব খাবার আমার।
এবারও যারা এমপি হবে বা হতে চায় এরা অনেকে আদৌ সংবিধানের বইটি সব গূলো অনুচ্ছেদ পড়ে দেখে নি । কিংবা তার গতিপথের চিত্র অনুধাবন করেনি । যদি ১৭ বছরের ত্যাগ তার মানদণ্ড বা মাপকাঠি হয় তাহলে সে বিচারে লক্ষ মানুষ যোগ্য হয়ে দাঁড়াবে কারন আমার ড্রাইভার যে আমার শুধু গাডী চালিয়েছে তার বিরুদ্ধে ৯ টি মামলা , আমার বাসায় যে দাঁড়োয়ান সে পুলিশকে ডুকতে দেয় নাই বাসায় তার জন্য তার মাথায় ও বুকে বন্দুক এর নল দিয়ে মেরেছে – তার ত্যাগ , তার কষ্টের সমাধান আমি কি দিয়ে করবো ?
নিজেকে ১৭ বছরের ত্যাগ , এলাকা ছাড়া , দেশ ছাড়া , ৫০ বছর বয়সের একটি নির্দিষ্ট পেশায় গিয়ে পৌঁছানোর পর তা ছেড়ে দেয়া , মামলা মোকদ্দমা, হামলা নির্যাতন, মায়ের , ভাইয়ের সব নীপিডিত হওয়ার পরও আমি ভাবি আমার ছোট্ট পরিসরে ছোট্ট একটি নেতৃত্ব পাওয়া পর্যন্ত মানায় বা আমার লেভেলে এমপি এখনো যায় না – অনেকে ফোন করে অতি প্রশংসা করতে গিয়ে বলে আপনি মন্ত্রীদের পড়াবেন – আপনার অনেক কর্মী বা শীর্ষরাই মন্ত্রী হবে আর আমি কলকলিয়ে ওদের কথায় সুখের বা খুশির ঢেকুর গিলবো আরকি ?
আমরা এতোটাই আবেগের জাতি যে কোনদিন বলে ফেলতে পারি ম্যাডামের সাথে যে কাজ করছে ফাতেমা তার অনেক ত্যাগ – সত্যিই অনেক অনেক ত্যাগ তাই তাকে মন্ত্রী বানানো উচিত , কিংবা তারেক রহমানের সাথে যে কাজ করে সানি তাঁকেও মন্ত্রী পদমর্যাদার কিছু দেয়া হউক , সেও কষট করে তারেক সাহেবের সেবা করছে , এবং ভালো ছেলেও বটে – কেউ সাহস করে উফ শব্দটি বলবে না , কিংবা কেউ এই প্রস্তাবনা দিলে নেতাকে খুশি করার জন্য তালও মিলাবে – দেশের ডিজাইনাররা এভাবেই ডিজাইন করে আগামীর ফ্যাশন ধরে রাখতে চায়। লালু বুলু ফালু আলুরা দেশ চালায় নাই আগে ? চালিয়েছে তো ? রুচির কথা বললেই বিপদ। এই যে হাদী শহীদ হলো – আমি কেঁদেছি , ২ রাত ঘুমাই নাই কিন্তু ঘোর কেটে যাচ্ছে যেই লোকজন বলা শুরু করলো শহীদ জিয়ার জানাজার থেকে বেশী লোক হইছে , জাতীয় কবি নজরুলের পাশেই তার দাফন হবে – তখন বলতে বাধ্য হলাম হাদি ঐ উচ্চতায় থাকা সে আসলেই কোনো সংগ্রামী নেতা বা কবিও না – তার তেমন বর্নাঢ্য অতীতও নাই , আছে উদ্দম সাহস ভরা দরাজ কন্ঠ যা লাখো লাখো যুবক এখনো ধারন করে – পার্থক্য একটাই যে ও শহীদ হয়েছে , গুলি খেয়েছে আর বেচে থাকা এই লাখো সংগরামী যুবকরা এখনও মরে নাই – আর এরা জীবন্ত যোদ্ধা ।আমি নিজেও আসলে তুলনা করাও শিখি নাই তাই সিপাহীরে মন্ত্রী বানাই , সিএসপি রে বানাই পৌরসভার মেয়র ।কর্মীরা চাকর বাকর ধরে হয় এমপি মন্ত্রী আর নেতার নেতারা পার্টি অফিসের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে রাজার দর্শন পেতে।
(নয়ন বাংগালীর ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া)





















