ঈদুল ফিতরের দিনের আমাদের করণীয় আমল
- আপডেট: ০৯:০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
- / ১৮০২৩

-মুফতি মৌলানা মুহাম্মদ হায়দার আলী (এম.এ)
আজ ২০ মার্চ ২৬ ইং,শুক্রবার বাংলাদেশের
৩০ তম রোজা। মহিমান্বিত রমজানুল মোবারক বিদায় নিতে যাচ্ছে আমাদের থেকে। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাসের বিদায়ের সাথে সাথে আমাদের কাছে শুভাগমন করবে পবিত্র শাওয়াল মাসের পহেলা তারিখ ঈদুল ফিতর তথা এক মহান দিন। সবাই জানাচ্ছি ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।
আমরা জানি ঈদ মানি খুশি,ঈদ মানে আনন্দ তবে ইসলাম ধর্মে ঈদ মানে শুধু খুশি আনন্দের নাম নয়, এটা একটা মুসলমানদের ধর্মীয় ইবাদতের নাম৷ ঈদুল ফিতরের দিন রোজাদারদের পুরুষ্কার গ্রহণের দিন। এদিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরষ্পরের মাঝে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি সদকাতুল ফিতর আদায় করে ঈদগাহে গিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে যান।
এদিন মুসলমানদের জন্য কিছু ধর্মীয় করণীয় আমল রয়েছে যা সকল মুসলমানেরা পালন করে তাকে। কোরআন ও সুন্নাহ মতে ঈদুল ফিতরের দিনের সুন্নাত আমল গুলো নিন্মে দৈনিক সোনালী খবর পত্রিকার পাঠকের জন্য আমল তুলে ধরা হল।
প্রখ্যাত হাদীসের ইমাম বায়হাকী (রহ:) তার গ্রন্হে ৬১২৬ নং হাদীসের বরাত দিয়ে বলেন,প্রতি দিনের তুলনায় ঈদুল ফিতরের দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া সুন্নাত।
ঈদুল ফিতরের দিন সকালে মিসওয়াক করা বা দাঁত পরিষ্কার করার কথা “তাবয়ীনুল হাকায়েক” নামক কিতাবে এসেছে। হাদীস নং ৫৩৮।
বিখ্যাত হাদীসগ্রন্হ “সুনানে ইবনে মাজাহ” এর ১৩১৫ নং হাদীসে এসেছে ঈদুল ফিতরের দিন ভালভাবে ওজু গোসল করা ও সুন্নাত।
প্রসিদ্ধ সিহাহ সিত্তার হাদীসগ্রন্হ সহিহ “বুখারী শরীফের” ৯৪৮ নং হাদীসে ও “মুস্তাদরাকে হাকেমের” ৭৫৬০ নং হাদীসে পাকে এসেছে ঈদুল ফিতরের দিন “সামর্থ অনুপাতে উত্তম বা তাকওয়াবান পোশাক পরিধান করা” করার কথা।
হাদীসের কিতাব “মুস্তাদরাকে হাকেমের” ৭৫৬০ নং হাদীসে এসেছে ঈদুল দিন সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করার কথা। এদিন সুগন্ধি ব্যবহার করাও সুন্নাত আমল।
সহিহ “বুখারী”শরীফের ৯৪৮ নং হাদীসে এসেছে
ঈুদুল ফিতরের দিন ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী তথা ইসলামী নিয়ম মোতাবেক যথাসম্ভব সজ্জিত হওয়ার কথা। এটাও সুন্নাত আমলের অন্তর্ভুক্ত।
বিখ্যাত হাদীসের কিতাব সুনানে “আবু দাউদ” শরীফের ১১৫৭ নং হাদীসে এসেছে ঈদুল ফিতরের দিনে সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়ার কথা। এটাও সুন্নাত আমল।
সিয়াহ সিত্তার হাদীস গ্রন্হ সহিহ “বুখারী” শরীফের ৯৫৩ নং হাদীস, জামে ” তিরমিজী”শরীফের ৫৪২ নং হাদীসে ও “সুনানে দারেমী” শরীফের ১৬০৩ নং হাদীসে এসেছে, ঈদুল ফিতরে দিন সকালে ঈদগাহে যাবার আগে মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন খেজুর ইত্যাদি খাওয়া সুন্নাত। তবে ঈদুল আযহাতে কিছু না খেয়ে ঈদের নামাযের পর নিজের কুরবানীর গোশত আহার করা উত্তম মর্মে হাদীসের বর্ননা পাওয়া যায়।
প্রসিদ্ধ কিতাব “দারেকুতনী” শরীফের ১৬৯৪ নং হাদীসে পাওয়া যায়, ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে সদকায়ে ফিতর আদায় করা সুন্নাত।
অন্যান্য হাদীস গ্রন্হেও ঈদুল ফিতরের সদকাতুল ফিতর আদায়ের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
সহিহ “বুখারী শরীফের” ৯৫৬ নং হাদীস ও “সুনানে আবু দাউদ” শরীফের ১১৫৮ নং হাদীসে এসেছে
ঈদুল ফিতরের নামায ঈদগাহে আদায় করার কথা। তবে জরুরত (বিশেষ) কারণে মসজিদের ভিতরেও ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে।
প্রসিদ্ধ হাদীসের কিতাব “সুনানে আবু দাউদ” শরীফের ১১৪৩ নং হাদীসে এসেছে ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া সুন্নাত।
বিখ্যাত হাদীসগ্রন্হ “সহিহ বুখারী”শরীফের ৯৮৬ নং হাদীসে ঈদগাহে ‘এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া, অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা। এটাও সুন্নাত আমলের অন্তর্ভুক্ত।
”মুস্তাদরাকে হাকেমের” ১১০৫ নং হাদীসে এসেছে
ঈদুল ফিতরের দিনে অনুচ্চস্বরে এবং ঈদুল আযহার দিনে উচ্চস্বরে তাকবীরে তাশরীক বলতে বলতে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত। তাকবীরে তাশরীক হল,”আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ” বলা।
সুনানে “আবূ দাউদ” শরীফের ৫২১০ নং হাদীস, “সিলসিলাহ সহীহাহ আল-মাকতাবাতুশ শামেলার” হাদীস নং ১৪১২, ও “ইরওয়াউল গালীল” এর হাদীস নং ৭৭০ তে এসেছে, ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের নামাজ আদায় শেষে একে অপরকে সালাম দেওয়া ও তার উত্তর নেওয়া সুন্নাত।
সুনানে আবু দাউদ শরীফের ৫২১২ নং হাদীস ও জামেউত তিরমিজি শরীফের ২৭২৭ নং হাদীসে
এসেছে, একজন মুসলিমের সাথে অপর মুসলিমের দেখা হলে মুসাফাহা করা উত্তম।আর ঈদের নামাজ আদায় শেষে একে অপরের সাথে মুসাফাহা করা সুন্নাত। মুসাফাহার দোয়া হল, “ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম”। আল্লাহ পাক আমাদের কে ঈদুল ফিতরের দিনের সকল ধর্মীয় আমল পালন করার তৌফিক দান করুন আমিন৷
দোয়া কামনায়.
সাংবাদিক মুফতি মৌলানা মুহাম্মদ হায়দার আলী (এম.এ),কামিল-হাদিস/মাস্টার্স (ফাস্ট ক্লাস), কামিল- ফিকাহ/মাস্টার্স (ফাস্ট ক্লাস)। সিনিয়র মুদাররিস/মৌলভী (আরবী), সুলতানুল আরেফীন ক্যাডেট মাদ্রাসা। কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম। প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, আন-নাফিছ ইসলামী রিসার্চ সেন্টার। বাঁশখালী,চট্টগ্রাম।























