১০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

যাত্রীসেবায় নতুন উদ্যোগ: বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে ফ্রি ওয়াইফাই

  • আপডেট: ০৯:১৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / ১৮০০৮

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

দেশের আটটি বিমানবন্দর, ছয়টি রেলস্টেশন ও চারটি আন্তঃনগর ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করেছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে একসঙ্গে প্রায় ৩৭ হাজার যাত্রী ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট।

রবিবার (১৭ মে) বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণকে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তার অংশ হিসেবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে এ সেবা চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যাত্রীরা এখন পুরো বিমানবন্দর এলাকা, এমনকি প্লেনে ওঠার আগ পর্যন্ত এবং কার পার্কিং এলাকাতেও ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবেন। একই সুবিধা অভ্যন্তরীণ টার্মিনালেও চালু হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে দেশের আটটি বিমানবন্দর, ছয়টি রেলস্টেশন এবং চারটি আন্তঃনগর ট্রেনে এ সেবা চালু করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে আরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনগুলোতে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যাত্রীসেবা সহজতর করা এবং দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে ইন্টারনেট সুবিধা আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড-এর মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ-এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মেয়াদ মাত্র আড়াই মাস হলেও এর মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। বিদেশফেরত প্রবাসীসহ সব যাত্রীর সুবিধা নিশ্চিত করাই বিমান মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, অচিরেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হবে, যা দেশের বিমান খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সরকারের ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমানবন্দরগুলোতে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হয়েছে। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশের আটটি বিমানবন্দরে এমন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৭ হাজার যাত্রী ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, কয়েক সপ্তাহের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই বিমানবন্দরগুলোতে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, সিঙ্গাপুর, দুবাই কিংবা লন্ডনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো বিশ্বমানের স্পিড ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ সেবা চালু করা হয়েছে। শুধু শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই প্রায় ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। ডোমেস্টিক ও ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল, পার্কিং লট থেকে বোর্ডিং ব্রিজ পর্যন্ত পুরো এলাকায় এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে প্লেনে ওঠা এবং বিদেশ থেকে ফিরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা পর্যন্ত যাত্রীরা যেন নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পান, সেটিই নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত কয়েক দিনেই শুধু ঢাকা বিমানবন্দরে ২০ হাজারের বেশি যাত্রী এ সেবা ব্যবহার করেছেন এবং প্রায় ২ দশমিক ৩ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৮০০ যাত্রী এ সেবা ব্যবহার করছেন।

এনইআইআর চালুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি ফ্রি ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় দেখছে এবং যথাসময়ে এ বিষয়ে জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, আগে সীমিত পরিসরে কিছু ওয়াইফাই সুবিধা থাকলেও নতুন এই সেবা সবার জন্য উন্মুক্ত এবং আগের তুলনায় আরও উন্নত মানের।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

যাত্রীসেবায় নতুন উদ্যোগ: বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে ফ্রি ওয়াইফাই

আপডেট: ০৯:১৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

দেশের আটটি বিমানবন্দর, ছয়টি রেলস্টেশন ও চারটি আন্তঃনগর ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করেছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে একসঙ্গে প্রায় ৩৭ হাজার যাত্রী ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট।

রবিবার (১৭ মে) বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণকে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তার অংশ হিসেবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে এ সেবা চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যাত্রীরা এখন পুরো বিমানবন্দর এলাকা, এমনকি প্লেনে ওঠার আগ পর্যন্ত এবং কার পার্কিং এলাকাতেও ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবেন। একই সুবিধা অভ্যন্তরীণ টার্মিনালেও চালু হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে দেশের আটটি বিমানবন্দর, ছয়টি রেলস্টেশন এবং চারটি আন্তঃনগর ট্রেনে এ সেবা চালু করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে আরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনগুলোতে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যাত্রীসেবা সহজতর করা এবং দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে ইন্টারনেট সুবিধা আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড-এর মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ-এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মেয়াদ মাত্র আড়াই মাস হলেও এর মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। বিদেশফেরত প্রবাসীসহ সব যাত্রীর সুবিধা নিশ্চিত করাই বিমান মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, অচিরেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হবে, যা দেশের বিমান খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সরকারের ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমানবন্দরগুলোতে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হয়েছে। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশের আটটি বিমানবন্দরে এমন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৭ হাজার যাত্রী ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, কয়েক সপ্তাহের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই বিমানবন্দরগুলোতে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, সিঙ্গাপুর, দুবাই কিংবা লন্ডনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো বিশ্বমানের স্পিড ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ সেবা চালু করা হয়েছে। শুধু শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই প্রায় ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। ডোমেস্টিক ও ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল, পার্কিং লট থেকে বোর্ডিং ব্রিজ পর্যন্ত পুরো এলাকায় এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে প্লেনে ওঠা এবং বিদেশ থেকে ফিরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা পর্যন্ত যাত্রীরা যেন নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পান, সেটিই নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত কয়েক দিনেই শুধু ঢাকা বিমানবন্দরে ২০ হাজারের বেশি যাত্রী এ সেবা ব্যবহার করেছেন এবং প্রায় ২ দশমিক ৩ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৮০০ যাত্রী এ সেবা ব্যবহার করছেন।

এনইআইআর চালুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি ফ্রি ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় দেখছে এবং যথাসময়ে এ বিষয়ে জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, আগে সীমিত পরিসরে কিছু ওয়াইফাই সুবিধা থাকলেও নতুন এই সেবা সবার জন্য উন্মুক্ত এবং আগের তুলনায় আরও উন্নত মানের।