০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

এসিল্যান্ড শাহাদাতের ঘুষ-বাণিজ্য

  • আপডেট: ০৯:২১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / ১৮০০৫

মোঃ মনিরুজ্জামান মনির :
সাভারের আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলকে ঘিরে দিনদিন বিস্তৃত হচ্ছে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, দালালচক্র ও ফাইল জিম্মির ভয়াবহ অভিযোগ। আর এসব অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খানের নাম। স্থানীয় ও সেবাপ্রত্যাশীদের ভাষ্য দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি পুরো ভূমি অফিস ব্যবস্থাকে এমন এক সিন্ডিকেট নির্ভর কাঠামোয় রূপ দিয়েছেন যেখানে সরকারি নিয়মের চেয়ে দালালদের প্রভাবই বেশি কার্যকর। বর্তমানে সাধারণ মানুষ আমিনবাজার ভূমি অফিসকে সরকারি সেবা কেন্দ্রের বদলে ঘুষের অভয়ারণ্য হিসেবেই দেখছেন। বিশেষ করে সামনে ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ আদায় ও ফাইল জিম্মির অভিযোগ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি নামজারি, মিসকেস, জমির তদন্ত, রেকর্ড সংশোধন কিংবা অন্যান্য ভূমি সংক্রান্ত কাজে এখন প্রকাশ্যেই ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা হচ্ছে এবং সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে শাহাদাত হোসেন খান ইতোমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন যে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নীরব অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরেও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা চলছে। যেকোনো সময় বদলি কিংবা বিভাগীয় ব্যবস্থা আসতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি এখন বিদায়ের আগে যত বেশি সম্ভব অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার দৌড়ে নেমেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর সে কারণেই আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলকে তিনি কার্যত দুর্নীতির আতুড়ঘরে পরিণত করেছেন বলে দাবি ভুক্তোভোগীদের। অভিযোগ রয়েছে বর্তমানে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল পুরোপুরি “ওমেদার বান্ধব” প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। এসিল্যান্ড শাহাদাত হোসেন খানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তার নিজ কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং বিভিন্ন ক্যাম্প অফিস মিলিয়ে অন্তত ১৫ জনের বেশি কথিত ওমেদার বা স্থানীয় দালাল সক্রিয় রয়েছে। এই ওমেদারদের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ঘুষ আদায়, ফাইল তদবির এবং বিভিন্ন আর্থিক সমঝোতার কাজ পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে অফিসে সরাসরি গিয়ে কোনো কাজ করতে চাইলে প্রথমেই দালালদের মুখোমুখি হতে হয়। তারা মানুষকে বোঝায় সরাসরি করলে ফাইল ঝুলে থাকবে, স্যারের অনুমতি ছাড়া কিছু হবে না, টাকা না দিলে রিপোর্ট নামবে না এমন নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে দালালদের মাধ্যমেই কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে নামজারি নং-১৬৩৩৫ কেসটি বর্তমানে এই দুর্নীতির অন্যতম আলোচিত উদাহরণ। জানা গেছে কেসটিতে সরকারি কোনো স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা না থাকায় নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শাহাদাত হোসেন খানের চাহিদামতো ঘুষ না দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ফাইলটি আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবেদনকারী একাধিকবার অফিসে গেলেও কখনও রিপোর্টের অজুহাত, কখনও তদন্তের কথা, আবার কখনও উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। অথচ একই ধরনের অন্য ফাইল দালালদের মাধ্যমে আর্থিক সমঝোতার পর দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের অভিযোগ এভাবে শত শত নামজারি ও মিসকেস ফাইল জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন শাহাদাত হোসেন খান ও তার ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেট সদস্যরা। অভিযোগের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলোর একটি অফিস সহকারী গাজী মাহামুদুল হাসান ওরফে ‘ওমেদার ইভান’। স্থানীয়দের দাবি তিনি শাহাদাত হোসেন খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে অফিসের অভ্যন্তরে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে রেখেছেন। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের গতি দালালদের সমন্বয় এবং ঘুষের টাকা সংগ্রহ সবকিছুতেই তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি বহিরাগতদের অফিসের ভেতরে বসিয়ে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন পরিচালনারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তোভোগীরা বলছেন সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হলে অফিসের ভেতরে কারা দিনের পর দিন দালালতন্ত্র চালাচ্ছে তা সহজেই বেরিয়ে আসবে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে বর্তমানে আলমনগর হাউজিং এলাকায় যে ভবনে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের অফিস পরিচালিত হচ্ছে সেই ভবনের ভাড়া বাবদ সরকার প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ টাকা পরিশোধ করছে। ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভূমি সংক্রান্ত অফিস কার্যক্রম পরিচালিত হলেও তৃতীয় তলাকে ঘিরে উঠেছে বিস্ময়কর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি ওই তলায় শাহাদাত হোসেন খানের মদদপুষ্ট কথিত ওমেদার ও দালালদের জন্য আলাদা আড্ডা ও আমোদ-ফুর্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডও চলে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অশ্লীল কার্যকলাপের জন্য শোয়ার খাট পর্যন্ত রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায় সরকারি অফিসের ভবনকে কেন্দ্র করে এমন কর্মকাণ্ড প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অভিযোগ রয়েছে শাহাদাত হোসেন খান এসব বিষয়ে কোনো আইনি তোয়াক্কা করেন না। বরং তার আশ্রয়-প্রশ্রয়েই পুরো সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এদিকে শাহাদাত হোসেন খানকে ঘিরে রাজনৈতিক বলয়ের অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি তিনি অতীতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক বলয়ের একজন সক্রিয় অনুসারী ছিলেন এবং সেই সময়ের প্রভাব কাজে লাগিয়েই নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি তবুও স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ এখন আমিনবাজার ভূমি অফিসে ন্যায়সঙ্গত সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কোনো কাজ হচ্ছে না। কেউ প্রতিবাদ করলে তার ফাইল মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে সেবাপ্রত্যাশীরা চরম হতাশা, আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সচেতন মহলের মতে ভূমি অফিসের দুর্নীতি শুধু অর্থ আত্মসাতের বিষয় নয়, এটি মানুষের সম্পদ, উত্তরাধিকার এবং নাগরিক অধিকারকে সরাসরি হুমকির মুখে ঠেলে দেয়। আর যখন সেই দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে একজন এসিল্যান্ডের নাম উঠে আসে তখন পুরো প্রশাসনের ওপরই মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। তাই স্থানীয়দের দাবি শাহাদাত হোসেন খান ও তার কথিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে ঘুষ বাণিজ্য, ফাইল জিম্মি, দালালতন্ত্র ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল অচিরেই দুর্নীতির এমন এক দুর্গে পরিণত হবে যেখানে সাধারণ মানুষের ন্যায়সঙ্গত সেবা পাওয়ার শেষ আশাটুকুও বিলীন হয়ে যাবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এসিল্যান্ড শাহাদাতের ঘুষ-বাণিজ্য

আপডেট: ০৯:২১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

মোঃ মনিরুজ্জামান মনির :
সাভারের আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলকে ঘিরে দিনদিন বিস্তৃত হচ্ছে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, দালালচক্র ও ফাইল জিম্মির ভয়াবহ অভিযোগ। আর এসব অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খানের নাম। স্থানীয় ও সেবাপ্রত্যাশীদের ভাষ্য দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি পুরো ভূমি অফিস ব্যবস্থাকে এমন এক সিন্ডিকেট নির্ভর কাঠামোয় রূপ দিয়েছেন যেখানে সরকারি নিয়মের চেয়ে দালালদের প্রভাবই বেশি কার্যকর। বর্তমানে সাধারণ মানুষ আমিনবাজার ভূমি অফিসকে সরকারি সেবা কেন্দ্রের বদলে ঘুষের অভয়ারণ্য হিসেবেই দেখছেন। বিশেষ করে সামনে ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ আদায় ও ফাইল জিম্মির অভিযোগ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি নামজারি, মিসকেস, জমির তদন্ত, রেকর্ড সংশোধন কিংবা অন্যান্য ভূমি সংক্রান্ত কাজে এখন প্রকাশ্যেই ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা হচ্ছে এবং সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে শাহাদাত হোসেন খান ইতোমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন যে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নীরব অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরেও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা চলছে। যেকোনো সময় বদলি কিংবা বিভাগীয় ব্যবস্থা আসতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি এখন বিদায়ের আগে যত বেশি সম্ভব অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার দৌড়ে নেমেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর সে কারণেই আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলকে তিনি কার্যত দুর্নীতির আতুড়ঘরে পরিণত করেছেন বলে দাবি ভুক্তোভোগীদের। অভিযোগ রয়েছে বর্তমানে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল পুরোপুরি “ওমেদার বান্ধব” প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। এসিল্যান্ড শাহাদাত হোসেন খানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তার নিজ কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং বিভিন্ন ক্যাম্প অফিস মিলিয়ে অন্তত ১৫ জনের বেশি কথিত ওমেদার বা স্থানীয় দালাল সক্রিয় রয়েছে। এই ওমেদারদের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ঘুষ আদায়, ফাইল তদবির এবং বিভিন্ন আর্থিক সমঝোতার কাজ পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে অফিসে সরাসরি গিয়ে কোনো কাজ করতে চাইলে প্রথমেই দালালদের মুখোমুখি হতে হয়। তারা মানুষকে বোঝায় সরাসরি করলে ফাইল ঝুলে থাকবে, স্যারের অনুমতি ছাড়া কিছু হবে না, টাকা না দিলে রিপোর্ট নামবে না এমন নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে দালালদের মাধ্যমেই কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে নামজারি নং-১৬৩৩৫ কেসটি বর্তমানে এই দুর্নীতির অন্যতম আলোচিত উদাহরণ। জানা গেছে কেসটিতে সরকারি কোনো স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা না থাকায় নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শাহাদাত হোসেন খানের চাহিদামতো ঘুষ না দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ফাইলটি আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবেদনকারী একাধিকবার অফিসে গেলেও কখনও রিপোর্টের অজুহাত, কখনও তদন্তের কথা, আবার কখনও উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। অথচ একই ধরনের অন্য ফাইল দালালদের মাধ্যমে আর্থিক সমঝোতার পর দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের অভিযোগ এভাবে শত শত নামজারি ও মিসকেস ফাইল জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন শাহাদাত হোসেন খান ও তার ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেট সদস্যরা। অভিযোগের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলোর একটি অফিস সহকারী গাজী মাহামুদুল হাসান ওরফে ‘ওমেদার ইভান’। স্থানীয়দের দাবি তিনি শাহাদাত হোসেন খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে অফিসের অভ্যন্তরে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে রেখেছেন। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের গতি দালালদের সমন্বয় এবং ঘুষের টাকা সংগ্রহ সবকিছুতেই তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি বহিরাগতদের অফিসের ভেতরে বসিয়ে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন পরিচালনারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তোভোগীরা বলছেন সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হলে অফিসের ভেতরে কারা দিনের পর দিন দালালতন্ত্র চালাচ্ছে তা সহজেই বেরিয়ে আসবে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে বর্তমানে আলমনগর হাউজিং এলাকায় যে ভবনে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের অফিস পরিচালিত হচ্ছে সেই ভবনের ভাড়া বাবদ সরকার প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ টাকা পরিশোধ করছে। ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভূমি সংক্রান্ত অফিস কার্যক্রম পরিচালিত হলেও তৃতীয় তলাকে ঘিরে উঠেছে বিস্ময়কর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি ওই তলায় শাহাদাত হোসেন খানের মদদপুষ্ট কথিত ওমেদার ও দালালদের জন্য আলাদা আড্ডা ও আমোদ-ফুর্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডও চলে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অশ্লীল কার্যকলাপের জন্য শোয়ার খাট পর্যন্ত রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায় সরকারি অফিসের ভবনকে কেন্দ্র করে এমন কর্মকাণ্ড প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অভিযোগ রয়েছে শাহাদাত হোসেন খান এসব বিষয়ে কোনো আইনি তোয়াক্কা করেন না। বরং তার আশ্রয়-প্রশ্রয়েই পুরো সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এদিকে শাহাদাত হোসেন খানকে ঘিরে রাজনৈতিক বলয়ের অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি তিনি অতীতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক বলয়ের একজন সক্রিয় অনুসারী ছিলেন এবং সেই সময়ের প্রভাব কাজে লাগিয়েই নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি তবুও স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ এখন আমিনবাজার ভূমি অফিসে ন্যায়সঙ্গত সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কোনো কাজ হচ্ছে না। কেউ প্রতিবাদ করলে তার ফাইল মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে সেবাপ্রত্যাশীরা চরম হতাশা, আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সচেতন মহলের মতে ভূমি অফিসের দুর্নীতি শুধু অর্থ আত্মসাতের বিষয় নয়, এটি মানুষের সম্পদ, উত্তরাধিকার এবং নাগরিক অধিকারকে সরাসরি হুমকির মুখে ঠেলে দেয়। আর যখন সেই দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে একজন এসিল্যান্ডের নাম উঠে আসে তখন পুরো প্রশাসনের ওপরই মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। তাই স্থানীয়দের দাবি শাহাদাত হোসেন খান ও তার কথিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে ঘুষ বাণিজ্য, ফাইল জিম্মি, দালালতন্ত্র ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল অচিরেই দুর্নীতির এমন এক দুর্গে পরিণত হবে যেখানে সাধারণ মানুষের ন্যায়সঙ্গত সেবা পাওয়ার শেষ আশাটুকুও বিলীন হয়ে যাবে।