১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

  • আপডেট: ০৬:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • / ১৮০০৭

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. আলা উদ্দিন (৪২), শাহাদাৎ হোসেন (৩২) ও মো. সাহাব উদ্দিন (৪৮)। চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (২৩ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও চেকবই উদ্ধার করা হয়েছে।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় বাংলাদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট অবৈধভাবে পরিচালনার তথ্য পায়। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করছিল। এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলা করে।

তিনি বলেন, দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিতভাবে এসব জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। তদন্তে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে অনলাইন বেটিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছিল।

তদন্তের তথ্য জানিয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আরও বলেন, জুয়ার সাইটগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে হতো। জমাকৃত অর্থের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ই-মানি বা বট মানি যুক্ত করা হতো, যা পরবর্তীতে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো। চক্রটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার ও পরিবর্তন করতো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এসব নম্বর সংগ্রহ করতো চক্রটি।

পরবর্তীতে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সেগুলো জুয়ার সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে সিআইডির একটি চৌকস দল চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে জসীম উদ্দিন বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থ লেনদেন চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের পুলিশি রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

আপডেট: ০৬:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. আলা উদ্দিন (৪২), শাহাদাৎ হোসেন (৩২) ও মো. সাহাব উদ্দিন (৪৮)। চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (২৩ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও চেকবই উদ্ধার করা হয়েছে।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় বাংলাদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট অবৈধভাবে পরিচালনার তথ্য পায়। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করছিল। এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলা করে।

তিনি বলেন, দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিতভাবে এসব জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। তদন্তে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে অনলাইন বেটিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছিল।

তদন্তের তথ্য জানিয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আরও বলেন, জুয়ার সাইটগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে হতো। জমাকৃত অর্থের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ই-মানি বা বট মানি যুক্ত করা হতো, যা পরবর্তীতে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো। চক্রটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার ও পরিবর্তন করতো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এসব নম্বর সংগ্রহ করতো চক্রটি।

পরবর্তীতে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সেগুলো জুয়ার সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে সিআইডির একটি চৌকস দল চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে জসীম উদ্দিন বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থ লেনদেন চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের পুলিশি রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।