১২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আদালতে গ্রামবাসী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

  • আপডেট: ০১:১৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮০১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর:

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ৭ নম্বর আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের বড় বাউল ও গালতৈড় গ্রামের বাসিন্দারা সরকারি কবরস্থান ও পুকুর রক্ষার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড় বাউল মৌজার ছোট জিনাহার নামে পরিচিত প্রায় ১৫ একর আয়তনের একটি পুকুর ও সংলগ্ন জমি দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রামের মানুষের ব্যবহৃত কবরস্থান হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসীর দাবি, এখানে হাজার হাজার মানুষের কবর রয়েছে। পাশাপাশি পুকুরটি স্থানীয়রা গবাদিপশুর গোসল, কৃষিকাজ ও অন্যান্য জনস্বার্থে ব্যবহার করে আসছেন।
গ্রামবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিএস রেকর্ডে জমিটি তৎকালীন জমিদার শরবিন্দু নারায়ণ রায় ও পুনেন্দ নারায়ণ রায়ের নামে ‘কোর্টস অব ওয়ার্ড’ হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিল। পরে ১৯৫০ সালের জমিদারি অধিগ্রহণ আইনের আওতায় এটি সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে এসএ-১ খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়।

তাদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে একটি ভুয়া এসএ-২৭ খতিয়ান তৈরি করে ওই সম্পত্তির কাগজপত্র পরিবর্তন করা হয়। এরপর ওই জমি ব্যক্তিমালিকানায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং বর্তমানে তা নিয়ে আদালতে বিরোধ চলছে।

এ বিষয়ে ২০০৫ সালে ছোট জিনাহার পুকুর ও কবরস্থান রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে সরকারকে সহযোগী করে মামলা করা হয়। বর্তমানে মামলাটি চিরিরবন্দর সহকারী সিভিল জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে উপজেলা ভূমি অফিস তদন্ত করে একটি প্রতিবেদনে জমিটিতে সরকারি স্বার্থ বিদ্যমান বলে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে এসএ-২৭ খতিয়ানকে বানোয়াট ও ভুয়া বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেন মামলার বাদীপক্ষ। তবে এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।
কবরস্থান রক্ষা কমিটির পক্ষে মো. মকবুল হোসেন বলেন, “কবরস্থান ও পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে সর্বসাধারণের ব্যবহৃত সরকারি সম্পত্তি। ভুয়া খতিয়ান বাতিল করে এটি সংরক্ষণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আদালতে গ্রামবাসী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

আপডেট: ০১:১৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর:

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ৭ নম্বর আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের বড় বাউল ও গালতৈড় গ্রামের বাসিন্দারা সরকারি কবরস্থান ও পুকুর রক্ষার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড় বাউল মৌজার ছোট জিনাহার নামে পরিচিত প্রায় ১৫ একর আয়তনের একটি পুকুর ও সংলগ্ন জমি দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রামের মানুষের ব্যবহৃত কবরস্থান হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসীর দাবি, এখানে হাজার হাজার মানুষের কবর রয়েছে। পাশাপাশি পুকুরটি স্থানীয়রা গবাদিপশুর গোসল, কৃষিকাজ ও অন্যান্য জনস্বার্থে ব্যবহার করে আসছেন।
গ্রামবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিএস রেকর্ডে জমিটি তৎকালীন জমিদার শরবিন্দু নারায়ণ রায় ও পুনেন্দ নারায়ণ রায়ের নামে ‘কোর্টস অব ওয়ার্ড’ হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিল। পরে ১৯৫০ সালের জমিদারি অধিগ্রহণ আইনের আওতায় এটি সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে এসএ-১ খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়।

তাদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে একটি ভুয়া এসএ-২৭ খতিয়ান তৈরি করে ওই সম্পত্তির কাগজপত্র পরিবর্তন করা হয়। এরপর ওই জমি ব্যক্তিমালিকানায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং বর্তমানে তা নিয়ে আদালতে বিরোধ চলছে।

এ বিষয়ে ২০০৫ সালে ছোট জিনাহার পুকুর ও কবরস্থান রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে সরকারকে সহযোগী করে মামলা করা হয়। বর্তমানে মামলাটি চিরিরবন্দর সহকারী সিভিল জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে উপজেলা ভূমি অফিস তদন্ত করে একটি প্রতিবেদনে জমিটিতে সরকারি স্বার্থ বিদ্যমান বলে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে এসএ-২৭ খতিয়ানকে বানোয়াট ও ভুয়া বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেন মামলার বাদীপক্ষ। তবে এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।
কবরস্থান রক্ষা কমিটির পক্ষে মো. মকবুল হোসেন বলেন, “কবরস্থান ও পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে সর্বসাধারণের ব্যবহৃত সরকারি সম্পত্তি। ভুয়া খতিয়ান বাতিল করে এটি সংরক্ষণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।