অনলাইনে হেরোইন তৈরির কাঁচামাল বিক্রি, গ্রেফতার ১
- আপডেট: ০২:২৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
অনলাইনে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক পদার্থ বিক্রির অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
অভিযানে ৫০০ মিলিলিটার এসিটিক অ্যানহাইড্রাইড,১ লিটার এসিটোনসহ মোট ৬ লিটার রাসায়নিক পদার্থ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির আইটি ম্যানেজার মো. আব্দুল মোমিন পাটোয়ারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত সোমবার গুলশান থানাধীন নিকেতন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব রাসায়নিক জব্দ করে ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা দল।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মেহেদী হাসান।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিকের অবৈধ ব্যবহার ও অননুমোদিত সরবরাহ ঠেকাতে সাইবার পেট্রোলিং শুরু করে ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা দল। এ সময় অনলাইনে রাসায়নিক পদার্থ বিক্রির একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়। পরে যাচাই করে দেখা যায়, ‘ই-কেম’ নামের প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্ডার নিচ্ছে।
গোয়েন্দা তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ৫০০ মিলিলিটার এসিটিক অ্যানহাইড্রাইডের অর্ডার করা হয়। অধিদপ্তরের ভাষ্য, মরফিন থেকে হেরোইন তৈরির প্রক্রিয়ায় এই রাসায়নিক ব্যবহার করা হতে পারে।
অর্ডার নেওয়ার সময় ক্রেতার কাছ থেকে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক কেনার অনুমোদন, লাইসেন্স বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কোনো নথি চাওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। পরে পণ্যটি ঢাকার নিকেতন এলাকায় পৌঁছালে গোয়েন্দা দল অভিযান চালিয়ে পার্সেল থেকে ৫০০ মিলিলিটার এসিটিক অ্যানহাইড্রাইড ও ১ লিটার এসিটোন জব্দ করে।
জিজ্ঞাসাবাদে পার্সেল সরবরাহকারী জানান, ই-কেমের কার্যালয় কুড়িল-প্রগতি সরণি এলাকায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ওই কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের আইটি ম্যানেজার মো. আব্দুল মোমিন পাটোয়ারীকে আটক করা হয়। অভিযানকালে নিয়ন্ত্রিত প্রিকারসর কেমিক্যাল বিক্রির কাগজপত্রসহ মোট ৬ লিটার রাসায়নিক পদার্থ জব্দ করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, প্রিকারসর কেমিক্যাল এমন রাসায়নিক পদার্থ, যার বৈধ শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহার রয়েছে। তবে এসব রাসায়নিক অবৈধ মাদক উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণেও ব্যবহৃত হতে পারে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২-এর উপধারা (১৯)-এ প্রিকারসর কেমিক্যালের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই আইনের তফসিলের ‘ক’ শ্রেণির ৮ নম্বর ক্রমিকে এসব রাসায়নিকের তালিকা রয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসিটিক অ্যানহাইড্রাইড হেরোইন তৈরির প্রক্রিয়ায় এবং পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট কোকেন তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হতে পারে। এ ছাড়া এসিটোন, ইথাইল ইথার, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, মিথাইল ইথাইল কিটোন ও টলুইনের মতো রাসায়নিকও অবৈধ মাদক উৎপাদনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হতে পারে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, বৈধ শিল্পকারখানা ও গবেষণাগারে ব্যবহৃত এসব রাসায়নিক যেন অবৈধ মাদক তৈরির কাজে ব্যবহৃত না হয়, সে জন্য সরবরাহের উৎস, ক্রেতার পরিচয়, অনুমোদন, পরিমাণ ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিকভাবেও প্রিকারসর কেমিক্যালের সরবরাহ ও বাণিজ্যের ওপর নজরদারি করা হয়।
জব্দ করা রাসায়নিক, উদ্ধার করা নথিপত্র ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে দেখছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব রাসায়নিকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা, ক্রেতা ও সম্ভাব্য ব্যবহার শনাক্ত করার বিষয়েও তদন্ত চলছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদক নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম শুধু তৈরি মাদক উদ্ধার বা মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাদক তৈরির কাঁচামাল কোথা থেকে আসছে, কীভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বৈধ বাজারের কোন পথ ব্যবহার করে এসব রাসায়নিক অবৈধ কাজে যাচ্ছে, তা শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সাইবার পেট্রোলিং ও প্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হচ্ছে।



















