কিশোর গ্যাং নির্মূলে ‘শর্টকাট সমাধান’ নয়, মূল হোতাদের ধরতে চায় এসআরবি
- আপডেট: ০৬:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৮০০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
কিশোর গ্যাং নির্মূলে শুধু সদস্যদের গ্রেফতার নয়, এসব অপরাধী গ্রুপের মূল হোতাদের শনাক্ত করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ক্ষেত্রে ‘শর্টকাট সমাধান’ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকায় ‘পাটালী গ্রুপের’ ফরহাদ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় তিন নম্বর আসামি এবং ‘আরমান-শাহরুখ’ গ্রুপের শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী সবুজ হোসেন আরমানকে (২১) গ্রেফতার করেছে এসআরবি-২। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও চারটি সামুরাই এবং মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেডে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনে ঢুকে আরমানসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এবং চাপাতি দিয়ে ‘পাটালী গ্রুপের’ ফরহাদকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত ফরহাদের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ১৬ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ৩০২/৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এসআরবি-২। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ সেপ্টেম্বর ভোররাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার তিন নম্বর আসামি আরমান মোহাম্মদপুর থানাধীন বুদ্ধিজীবী ১ নম্বর রোড এলাকায় অবস্থান করছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এসআরবি-২ এর অধিনায়ক জানান, গ্রেফতারের সময় আরমানের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত সামুরাই উদ্ধার করা হয়। পরে তার ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে চারটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়। এরপর আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় রাস্তার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেডে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-২-এর কর্মকর্তারা জানান, আরমান-শাহরুখ গ্রুপের আরেক শীর্ষ সদস্য শাহরুখকে গত ১৬ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এতো দিন আরমান কোথায় ছিলো এমন প্রশ্নের জবাবে নায়মুল হাসান বলেন, বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থাকলেও আরমান ঢাকাতেই ছিল। আশপাশেই অবস্থান করছিল। তাকে গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনায় সাব্বির ও সোহেলসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
আরমানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দাঙ্গা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এছাড়া তিনি এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন।
আইনের ফাঁক দিয়ে বারবার বেরিয়ে আসার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নায়মুল হাসান বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি, এবার যেন সে আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসতে না পারে।
কিশোর গ্যাং নির্মূল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গ্রেফতার করলে গ্রুপগুলো দুর্বল হয়ে যায়। তাদের গ্রেফতার করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কৌশলের অংশ।
তিনি বলেন, “আপনি যদি শর্টকাট সলিউশন চান, এটা ভুল হবে। এ ধরনের গ্রুপ যাতে ভবিষ্যতে গড়ে উঠতে না পারে এবং তাদের কার্যক্রম যাতে বন্ধ করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে।”
এসআরবি-২-এর অধিনায়ক আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএনডি) সেল কাজ করছে। খুব শিগগিরই এসব অপরাধী গ্রুপের কার্যক্রমের পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে আরও বিস্তৃতভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
মোহাম্মদপুরে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি ঘটনায় গতকাল ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলার দুই নম্বর আসামিকে নোয়াখালী থেকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি আরও তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।



















