দেশের ভূমি অফিসগুলোতে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীদের নিঃশব্দ আর্তনাদ, ব্যর্থ হচ্ছে সরকারি নির্দেশনা
- আপডেট: ০৭:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮০০১
মোঃ মনিরুজ্জামান মনির :
বাংলাদেশ জুড়ে ভূমি অফিসগুলোতে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এক চরম ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, যা সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। দেশের যেকোনো প্রান্তের ভূমি কার্যালয়ে পা রাখলেই চোখে পড়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস, হয়রানির চিত্র এবং পর্দার অন্তরালে চলা অনৈতিক লেনদেনের এক বিশাল সাম্রাজ্য। নামে-বেনামে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ নাগরিকরা। জমিজমা সংক্রান্ত যেকোনো সেবা, তা হোক নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, ভূমি উন্নয়ন কর বা পর্চা উত্তোলন, ঘুষ ছাড়া সম্পন্ন করা যেন এক অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুযোগসন্ধানী দালালদের সুগভীর যোগসাজশে যে অপরাধচক্র গড়ে উঠেছে, তার শিকার হচ্ছেন মেহনতী মানুষ থেকে শুরু করে প্রান্তিক কৃষক ও শহরের বাসিন্দারা। সরকার পর্যায়ক্রমে ভূমি খাতের সকল সেবা ডিজিটাল করার মাধ্যমে নাগরিক দুর্ভোগ কমানো এবং স্বচ্ছতা আনার জোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে, কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। ডিজিটালাইজেশনের সুফল বাস্তবায়নে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অসাধু সিন্ডিকেট। প্রযুক্তির আড়ালেও তারা তৈরি করেছে অনিয়মের নতুন নতুন পথ ও কৌশল। সাধারণ মানুষ যখন সেবার আশায় অনলাইন পোর্টালে আবেদন করতে যান, তখন বাধে আসল বিপত্তি। সার্ভার ধীরগতির অজুহাত, কারিগরি ত্রুটি কিংবা নথিপত্রের অযৌক্তিক ভুল ধরে দিনের পর দিন আবেদন আটকে রাখা হয়। এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য থাকে সেবাপ্রত্যাশীদের বাধ্য করে অতিরিক্ত অর্থ বা ঘুষ আদায় করা। ভুমি সেবার এই সার্বিক অচলাবস্থা কেবল আইনি প্রক্রিয়াকে ধীরগতি করছে না, বরং সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে দিচ্ছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ।
ভূমি অফিস মানেই যেন ঘুষের অলিখিত লেনদেন কেন্দ্র। কার্যালয়ের নিচতলা থেকে শুরু করে ওপরের সারির কর্মকর্তা পর্যন্ত বিস্তৃত এই নেটওয়ার্ক এমনভাবে গঠিত যে, প্রতিটি টেবিলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ না পৌঁছালে ফাইল এক ইঞ্চিও সামনে নড়ে না। সেবাপ্রত্যাশীরা যখন নিজেদের বৈধ নথিপত্র নিয়ে নিয়মমাফিক কাজের জন্য হাজির হন, তখন তাদের সরাসরি না বলে বিভিন্ন অজুহাতে ঘোরানো হতে থাকে। ফাইলের বানান ভুল, নথিপত্রের অস্পষ্টতা, পুরোনো রেকর্ডের অমিল কিংবা তথাকথিত জটিলতার কথা বলে দিনকে দিন, মাসকে মাস ঝুলিয়ে রাখা হয়। কিন্তু যেই মুহূর্তেই কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তি হয়, অমনি সব জটিলতা অলৌকিকভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। যে ফাইলগুলো মাসের পর মাস ধুলো জমছিল, সেগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি সেবার জন্য নির্দিষ্ট রেট বা হার নির্ধারণ করা রয়েছে, যা অফিসের ভেতরের লোকজনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশে পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত সঞ্চয় কিংবা জমি বিক্রির টাকা থেকে ঘুষ প্রদান করেন, কেবল নিজের আইনসম্মত অধিকার বা জমির মালিকানাটুকু বুঝে পাওয়ার জন্য। এই দীর্ঘমেয়াদী হয়রানির কারণে দেশের অসংখ্য পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে দেউলিয়া হওয়ার পথে বসেছে।
ভূমি খাতের অনিয়মের মূলে রয়েছে দালালচক্র ও একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার গোপন সমঝোতা। অফিসের প্রধান ফটক, আশপাশের চায়ের দোকান বা পানের দোকানে সার্বক্ষণিক অবস্থান নেওয়া দালালরাই মূলত এই সিন্ডিকেটের দৃশ্যমান চেহারা। তারা সেবাপ্রত্যাশীদের ওপর নজর রাখে, তাদের দুশ্চিন্তা ও অজ্ঞতার সুযোগ নেয় এবং খুব কম সময়ে কাজ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। সাধারণ মানুষ কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের কক্ষে সরাসরি প্রবেশ করতে নানা বাধার সম্মুখীন হলেও দালালদের অবাধ যাতায়াত থাকে অফিসের প্রতিটি টেবিলে। তারা অনায়াসে কর্মকর্তাদের খাসকামরায় ঢুকে ফাইলের স্তূপ নাড়াচাড়া করে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার ও সরকারি কাগজপত্রও দালালদের হাতে দেখা যায়। এতে প্রতীয়মান হয় যে, মাঠ পর্যায়ের অনেক কর্মচারী নিজেদের কাজের বড় একটি অংশ এই দালালদের দিয়ে করিয়ে নেন। বিনিময় হিসেবে দালালরা সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে আদায় করা ঘুষের এক বিরাট অংশ অফিসে জমা দেয় এবং নিজেরা কমিশন হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ রেখে দেয়। এই অশুভ আঁতাতের কারণে একজন সাধারণ নাগরিক কোনো দালালের সাহায্য ছাড়া সরাসরি সার্ভিস কাউন্টারে গেলে তাকে চরম দুর্ব্যবহার, অবহেলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের মুখোমুখি হতে হয়। এতে করে নাগরিকরা বাধ্য হয়েই দালালদের শরণাপন্ন হন, যা দালাল নির্ভরতা ও ঘুষ বাণিজ্যকে প্রতিনিয়ত আরও উসকে দিচ্ছে।
ডিজিটাল ভূমি সেবা চালুর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাব এবং অসাধু চক্রের গ্যাঁড়াকলে পড়ে তা বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সরকার শতভাগ ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, ডিজিটাল পর্চা ও খতিয়ান উত্তোলনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিলেও সেবাপ্রত্যাশীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অত্যন্ত তিক্ত। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আসার পর সাধারণ মানুষ আশা করেছিলেন যে, অন্তত মুখোমুখি যোগাযোগ কমে গেলে ঘুষের দৌরাত্ম্য কমবে। কিন্তু বাস্তবে দুর্নীতির ধরন বদলেছে মাত্র, কমেনি বিন্দুমাত্র। অনলাইনে আবেদন দাখিল করার পর মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা আবেদন ঝুলিয়ে রাখেন এবং অনলাইনে নথি পাওয়া যাচ্ছে না বা সার্ভারে আপডেট হয়নি জাতীয় মিথ্যা অযুহাত দাঁড় করান। অনেক সময় সার্ভার বিকল বা ধীরগতির কৃত্রিম বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে তারা সেবাপ্রত্যাশীদের বাধ্য করেন সরাসরি অফিসে আসতে। সরাসরি যোগাযোগের পরপরই আবার শুরু হয় পুরোনো ধাঁচের দর কষাকষি। বিশেষ করে বয়স্ক, প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ ও গ্রাম্য সেবাপ্রত্যাশীদের ডিজিটাল প্রক্রিয়ার জটিলতা বুঝিয়ে ভয় দেখানো হয় এবং তাদের বলা হয় যে, দালাল বা ক্যাশিয়ার ছাড়া অনলাইনে আবেদন করলে কাজ বাতিল হয়ে যাবে। এভাবে প্রযুক্তির সুযোগ নিয়েও একটি চক্র সরকারের এই জনকল্যাণমুখী ও আধুনিক উদ্যোগকে ভেস্তে দিচ্ছে।
ভূমি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান অভিজ্ঞতা হলো মানসিক ও শারীরিক চরম হয়রানি। একজন সেবাগ্রহীতাকে সামান্য একটি কাগজের জন্য বা একটি আবেদনের নিষ্পত্তির জন্য শত শত মাইল পথ অতিক্রম করে বারবার ভূমি অফিসে দৌড়াতে হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রবীণ নাগরিক, নারী, কিংবা দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। প্রশাসনিক কাউন্টারে বসা কর্মচারীদের পেশাদারিত্বের চরম অভাব থাকে এবং তারা প্রায়শই সাধারণ মানুষের প্রতি চরম অসৌজন্যমূলক ও উদাসীন আচরণ প্রকাশ করেন। কোনো সেবাপ্রত্যাশী যদি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে কাজের অগ্রগতি জানতে চান, তবে তাকে অহেতুক ধমক দেওয়া হয় কিংবা ফাইল আটকে রাখার হুমকি দেওয়া হয়। সামান্য কাজের জন্যও মানুষকে মাসের পর মাস ঘোড়ানো যেন একটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। সময়ের এই অপচয় ও যাতায়াত খরচের কারণে সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, কিন্তু চূড়ান্ত সেবা পেতে তাদের শেষ পর্যন্ত অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের কাছেই মাথা নত করতে হয়।
ভূমি অফিসের দালাল ও বড়বাবুদের পকেট ভারী করার এই মহোৎসব দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপরও একটি মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়ায় অযথা বিলম্ব ঘটিয়ে, রেকর্ড সংশোধনে কৃত্রিম জটিলতা সৃষ্টি করে এবং খতিয়ান প্রদানে বাধা দিয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত শুষে নেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় একই জমির একাধিক ভুয়া রেকর্ড তৈরি করে বা জালিয়াতির সুযোগ রেখে ঘুষ আদায়ের পথ সুগম করা হয়, যা পরবর্তীতে সাধারণ নাগরিকদের আদালতের দ্বারে দ্বারে বছরের পর বছর ঘোরার পথ তৈরি করে। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারীরা নিজেদের দায়িত্বকে একটি নিশ্চিত আয়ের ব্যবসায় রূপান্তর করেছেন। বদলি বাণিজ্য, পদোন্নতির সুপারিশ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে এই দুর্নীতির শিকড় আরও গভীরে প্রবেশ করেছে। সরকারি নিয়মানুযায়ী সেবার যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে, তা কেবল কাগজে-কলমে বা অফিসের দেয়ালে ঝুলানো নোটিশ বোর্ডেই সীমাবদ্ধ থাকে। বাস্তবে সেই নিয়ম মেনে কোনো কাজ হতে দেখা যায় না বললেই চলে।
ঘুষ ও অনিয়মের বিস্তার রোধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আকস্মিক পরিদর্শন, হেল্পলাইন চালু, নজরদারি বাড়ানো, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি এবং দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তের মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এসব উদ্যোগ কোনো স্থায়ী সমাধান আনেনি। পরিদর্শনের খবর পেলে কিছুদিনের জন্য কার্যালয়গুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য কিছুটা কম মনে হলেও, তদারকি শেষ হওয়ার পরপরই পরিস্থিতি আগের রূপ ধারণ করে। দুর্নীতির সমান্তরাল এই ব্যবস্থাটি এত শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, ছোটখাটো কোনো ব্যবস্থা এটিকে নড়াতে পারে না। তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত দায়বদ্ধতার ঘাটতি এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ শাস্তি কার্যকর না হওয়ার কারণে অসাধু কর্মকর্তা ও দালালরা বরাবরই অধরা থেকে যায়। ফলে সরকারের একের পর এক ইতিবাচক ও দূরদর্শী নীতি কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কার কর্মসূচীসমূহ পুরোপুরি ফলপ্রসূ হতে পারছে না।
এই অচলাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এবং সারাদেশের ভূমি কার্যালয়গুলোকে সত্যিকার অর্থে নাগরিকবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে প্রয়োজন সমন্বিত, কঠোর ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। কেবল আংশিক ডিজিটালাইজেশন বা বিচ্ছিন্ন পরিদর্শন দিয়ে এই বিশাল দুর্নীতির সাম্রাজ্য ধ্বংস করা সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে সার্ভার স্লো বা কারিগরি অজুহাত দেখিয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের বিভ্রান্ত করার সুযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়। অনলাইনে জমা হওয়া প্রতিটি আবেদনের বাস্তবভিত্তিক সময়সীমা নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফাইল নিষ্পত্তি না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয় প্রশাসনিক তদন্ত ও বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি, ভূমি অফিস এলাকাগুলোকে সম্পূর্ণভাবে দালালমুক্ত ঘোষণা করে কঠোর সিসিটিভি নজরদারির আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রতিটি ভূমি অফিসে স্বচ্ছ তথ্য প্রদানকারী বুথ চালু রাখা এবং সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি রোধে স্বাধীন অডিট বা পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করা জরুরি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং তাদের বার্ষিক কর্মমূল্যায়নে সেবার মানকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। ভূমি হলো প্রতিটি মানুষের অস্তিত্ব, জীবন-জীবিকা ও স্থায়ী সম্পদের মূল ভিত্তি। এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষকে যদি প্রতিদিন দুর্নীতির বলি হতে হয়, তবে তা একটি দেশের সার্বিক আইনি ব্যবস্থা ও সুশাসনের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে। মেহনতী ও সাধারণ নাগরিকদের হাড়ভাঙা উপার্জনের টাকা ঘুষ হিসেবে কেড়ে নেওয়ার এই সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগী দালালদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করতে হবে। তবেই সরকারের উদ্ভাবনী পদক্ষেপ ও ডিজিটাল সেবাগুলোর প্রকৃত সুফল বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছাবে এবং দেশের ভূমি অফিসগুলো হয়রানি ও দুর্নীতির বিষাক্ত রূপ ছেড়ে একটি স্বচ্ছ, আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য সেবা কেন্দ্রে পরিণত হতে পারবে।



















