০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

এপিবিএনের অভিযানে ৮ কোটি টাকার সোনা,নিখোঁজ শিশু ও ৮৬২ মোবাইলসহ বিপুল মালামাল উদ্ধার

  • আপডেট: ০২:২০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

দেশে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অভিযানে গত সেপ্টেম্বর মাসে নিখোঁজ ৬ শিশু উদ্ধার এবং ৮ কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭৫ টাকার সোনা ও ৮৬২ মোবাইলসহ বিপুল মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে এপিবিএন সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) নুরুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এপিবিএন গত সেপ্টেম্বরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার ভিত্তিতে বিভিন্ন ইউনিটে মোট ৮৬২টি হারানো মোবাইল ফোন, ৩টি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, ২টি হ্যাকড হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্ট, ৩টি হ্যাকড ই-মেইল একাউন্ট এবং ১টি হ্যাকড টেলিগ্রাম একাউন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিকাশ ও নগদ প্রতারণার ২ লাখ ২২ হাজার ২৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

সোনা উদ্ধারের বিষয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, এপিবিএন-এর বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ৪.৩৪৪ কেজি স্বর্ণের বার-অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে যার আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭৫ টাকা। এ সংক্রান্ত ২২টি মামলা দায়ের এবং ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সামুদ্রিক কাঁকড়া উদ্ধার ৪৪০ কেজি, তামার তার উদ্ধার ৮ কেজি ৫০০ গ্রাম, কসমেটিকস ১০৬২ কেজি, এলইজি মনিটরসহ জিপিএস ট্রেকার-ফ্যান-সোলার প্যানেল ব্যাটারি উদ্ধার ৩টি, কারেন্ট জাল ৭৫০ ফুট (১৫ কেজি), মোটর সাইকেল ৩টি, শাড়ি-থ্রি-পিস ২৭৭ পিস, খাদ্যদ্রব্য ৩০৯ কেজি, ফেব্রিক্স ২৬২ কেজি, মেডিসিন ২ কেজি, ইমিটেশন জুয়েলারি ১০ কেজি, চুরাই মালামাল বিক্রির টাকা উদ্ধার ৫২৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রা ৩২ হাজার ৫৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, সেপ্টেম্বরে নিখোঁজ ৬ জন শিশু, ২২ জন ভিকটিম উদ্ধার, ১টি মামলা এবং এই ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অস্ত্র ও মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, এপিবিএন-এর বিভিন্ন ইউনিট কর্তৃক পরিচালিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে ১টি ওয়ান শুটার গান, ১ রাউন্ড গুলি এবং ২টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংক্রান্তে ১টি মামলা ও ১ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৩ হাজার ৪৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬.০৫৮ কেজি গাঁজা, ১৭.২৫ লিটার মদ, ৬৭৩ কার্টন সিগারেট, এবং ৫৩৯০টাকা মাদক অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, ৪১৮টি মামলায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসটিআই-কাস্টমস-ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে ৪২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৯৯টাকা জরিমানা আদায় ও সাজা প্রদান করা হয়েছে এবং এ কার্যক্রমে ৫২টি মামলা ও ৩৪৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে ৩৪ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ১৪ জন এজাহারনামীয় আসামি এবং ৪ জন সন্দেহভাজন আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় ২টি চুরি মামলা দায়ের করে ১ জনকে গ্রেফতার, মারামারি মামলা ১ জন গ্রেফতার, সড়ক দূর্ঘটনা মামলা ১ মামলা ও গ্রেফতার ১ জন, অবৈধ সিএনজি উদ্ধার ১টি, অপহরণ মামলা ৩টি, ধর্ষন মামলা ১টি, সিপি মামলা ১টি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা ১টি, দস্যুতা মামলা ১ এতে গ্রেফতার ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও পলায়নকালে এফডিএমএন সদস্য আটক ও নগদ অর্থ ১৫ হাজার টাকা ১টি মামলা দায়ের ও ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জুয়া খেলায় সরঞ্জাম সহ টাকা উদ্ধার ১৮৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এপিবিএন অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ২২টি যানবাহন আটক পূর্বক শাহপুরী হাইওয়ে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা হতে নগদ টাকা ৫৫ হাজার ৮৮০টাকা, ইট ৩০টি, মোবাইল ২টি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, সেপ্টেম্বর মাসে ৮, ১৪ ও ১৬ এপিবিএন-এর মাধ্যমে মোট ৪৩টি মামলা করা হয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) নুরুল ইসলাম বলেন, এপিবিএন এর বিভিন্ন ইউনিট অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন এবং নাগরিক সেবা আরও সহজ ও দ্রুততর করতে এপিবিএন ভবিষ্যতেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এপিবিএনের অভিযানে ৮ কোটি টাকার সোনা,নিখোঁজ শিশু ও ৮৬২ মোবাইলসহ বিপুল মালামাল উদ্ধার

আপডেট: ০২:২০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

দেশে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অভিযানে গত সেপ্টেম্বর মাসে নিখোঁজ ৬ শিশু উদ্ধার এবং ৮ কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭৫ টাকার সোনা ও ৮৬২ মোবাইলসহ বিপুল মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে এপিবিএন সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) নুরুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এপিবিএন গত সেপ্টেম্বরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার ভিত্তিতে বিভিন্ন ইউনিটে মোট ৮৬২টি হারানো মোবাইল ফোন, ৩টি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, ২টি হ্যাকড হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্ট, ৩টি হ্যাকড ই-মেইল একাউন্ট এবং ১টি হ্যাকড টেলিগ্রাম একাউন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিকাশ ও নগদ প্রতারণার ২ লাখ ২২ হাজার ২৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

সোনা উদ্ধারের বিষয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, এপিবিএন-এর বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ৪.৩৪৪ কেজি স্বর্ণের বার-অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে যার আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭৫ টাকা। এ সংক্রান্ত ২২টি মামলা দায়ের এবং ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সামুদ্রিক কাঁকড়া উদ্ধার ৪৪০ কেজি, তামার তার উদ্ধার ৮ কেজি ৫০০ গ্রাম, কসমেটিকস ১০৬২ কেজি, এলইজি মনিটরসহ জিপিএস ট্রেকার-ফ্যান-সোলার প্যানেল ব্যাটারি উদ্ধার ৩টি, কারেন্ট জাল ৭৫০ ফুট (১৫ কেজি), মোটর সাইকেল ৩টি, শাড়ি-থ্রি-পিস ২৭৭ পিস, খাদ্যদ্রব্য ৩০৯ কেজি, ফেব্রিক্স ২৬২ কেজি, মেডিসিন ২ কেজি, ইমিটেশন জুয়েলারি ১০ কেজি, চুরাই মালামাল বিক্রির টাকা উদ্ধার ৫২৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রা ৩২ হাজার ৫৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, সেপ্টেম্বরে নিখোঁজ ৬ জন শিশু, ২২ জন ভিকটিম উদ্ধার, ১টি মামলা এবং এই ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অস্ত্র ও মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, এপিবিএন-এর বিভিন্ন ইউনিট কর্তৃক পরিচালিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে ১টি ওয়ান শুটার গান, ১ রাউন্ড গুলি এবং ২টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংক্রান্তে ১টি মামলা ও ১ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৩ হাজার ৪৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬.০৫৮ কেজি গাঁজা, ১৭.২৫ লিটার মদ, ৬৭৩ কার্টন সিগারেট, এবং ৫৩৯০টাকা মাদক অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, ৪১৮টি মামলায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসটিআই-কাস্টমস-ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে ৪২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৯৯টাকা জরিমানা আদায় ও সাজা প্রদান করা হয়েছে এবং এ কার্যক্রমে ৫২টি মামলা ও ৩৪৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে ৩৪ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ১৪ জন এজাহারনামীয় আসামি এবং ৪ জন সন্দেহভাজন আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় ২টি চুরি মামলা দায়ের করে ১ জনকে গ্রেফতার, মারামারি মামলা ১ জন গ্রেফতার, সড়ক দূর্ঘটনা মামলা ১ মামলা ও গ্রেফতার ১ জন, অবৈধ সিএনজি উদ্ধার ১টি, অপহরণ মামলা ৩টি, ধর্ষন মামলা ১টি, সিপি মামলা ১টি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা ১টি, দস্যুতা মামলা ১ এতে গ্রেফতার ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও পলায়নকালে এফডিএমএন সদস্য আটক ও নগদ অর্থ ১৫ হাজার টাকা ১টি মামলা দায়ের ও ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জুয়া খেলায় সরঞ্জাম সহ টাকা উদ্ধার ১৮৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এপিবিএন অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ২২টি যানবাহন আটক পূর্বক শাহপুরী হাইওয়ে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা হতে নগদ টাকা ৫৫ হাজার ৮৮০টাকা, ইট ৩০টি, মোবাইল ২টি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, সেপ্টেম্বর মাসে ৮, ১৪ ও ১৬ এপিবিএন-এর মাধ্যমে মোট ৪৩টি মামলা করা হয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) নুরুল ইসলাম বলেন, এপিবিএন এর বিভিন্ন ইউনিট অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন এবং নাগরিক সেবা আরও সহজ ও দ্রুততর করতে এপিবিএন ভবিষ্যতেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।