রাজপথের ত্যাগী নেতা মশিউল আযম চুন্নুকে গ্রেফতার নিয়ে বালিয়াকান্দিতে ক্ষোভ, নিঃশর্ত মুক্তির দাবি
- আপডেট: ০৬:৩২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৮০৭২
নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খোন্দকার মশিউল আজম চুন্নু (৫৪) গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ও পরিবারের দাবি-এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিকে দুর্বল করার অপচেষ্টা।
গতকাল রবিবার বালিয়াকান্দি উপজেলার দুবলাবাড়ি এলাকায় নিজ ইটভাটা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় মো. হৃদয় শেখ নামের আরও একজনকে গ্রেফতার হন। অভিযানে একটি এয়ার রাইফেল, ৩টি ওয়াকি-টকি সেট, ৩টি ওয়াকি-টকি চার্জার, ৮টি মোবাইল ফোন, ২টি দেশীয় অস্ত্র, ৪টি খালি মদের বোতল এবং নগদ ৩৮ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরিবারের বরাতে জানা গেছে, এয়ার রাইফেলটি (এয়ারগান) নষ্ট, নিজের ইটভাটায় পাখি তাড়ানোর কাজে এটি রেখে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ওয়াকিটকিগুলো সম্প্রতি বালিয়াকান্দি উপজেলায় আয়োজিত একটি ক্রিকেট লিগ পরিচালনার জন্য ভাড়ায় আনা হয়েছিল। আর টাকাগুলো ব্যবসায়ীক লেনদেনের কারণে রাখা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে টেলিকম ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা হয়েছে। এ মামলা দুটির ছাড়া অতীতে তার বিরুদ্ধে থাকা আরও দুই মামলায়, মোট চারটি মামলা তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এসব মামলায় তাকে আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে এ ঘটনায় ভিন্নমত পোষণ করেছেন তার পরিবার ও বিএনপি নেতারা। চুন্নুর স্ত্রী লুৎফুন নাহার শিউলি বলেন, “তার বিরুদ্ধে মামলা আছে-আমি সেটুকুই শুনেছি। কিন্তু এর পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও জানতে পারছি। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য, খোন্দকার মশিউল আজম চুন্নু বালিয়াকান্দির একজন পরীক্ষিত, ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব রাজনীতিক। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলা ছাত্র দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ১৯৯০ সৈরাচার এরশার বিরোধী আন্দলোনের বালিয়াকান্দি উপজেলা সর্ব দলীয় ছাত্র ঐক্যের আহবায়ক ছিলেন।
জানা যায়, শিক্ষাজীবন শেষে সরকারি চাকরি (সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে কার্যসহকারী) হলে বিএনপির প্রতি ভালোবাসা থেকে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে রাজনীতিতেই যু্ক্ত থাকেন তিনি। তিনি বালিয়াকান্দি বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি দুইবার বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সদস্য সচিব এবং রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী সরকারের সময় তিনি ৪৯টিরও বেশি রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, বারবার কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন-তবু রাজনীতি থেকে সরে যাননি।
দলীয় সূত্র জানায়, ফ্যাসিস্ট বিদায় নিলেও ফ্যাসিবাদের আমলের মতো এবারও নির্বাচনের আগে তাকে গ্রেফতার করে এলাকায় ধানের শীষের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। ২০১৮ সালের নির্বাচন পূর্বেও তার বিরুদ্ধে একাধিক গায়েবি মামলা দিয়ে তাকে এলাকা ছাড়া করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মী দাবি করেন, গ্রেফতারের সময় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “একটি মুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যাশায় যারা দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন, তাদের এভাবে বারবার রক্তাক্ত করা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।”
এদিকে বালিয়াকান্দি ও রাজবাড়ী জেলার বিএনপি নেতারা খোন্দকার মশিউল আজম চুন্নুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে “মিথ্যা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত” আখ্যা দিয়ে তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
দলীয় নেতারা বলেন, “রাজপথ ও কারাগারে গড়ে ওঠা চুন্নু’র মতো রাজনীতিকদের দমন করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন থামানো যাবে না। তিনি অতীতের মতো এবারও জনগণের ভালোবাসা নিয়ে ফিরে আসবেন।”




















