০৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রয়োজনে নির্বাচনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ, তবে আইনের বাইরে নয়: সেনাসদর

  • আপডেট: ০৪:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৮০০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করতে পারে, তবে তা হবে সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত ‘রুলস অফ এনগেজমেন্ট’ অনুসরণ করে বলে জানিয়েছেন সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন। 

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম  সম্পর্কিত  বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর অবস্থা বিবেচনায় যদি অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর রুলস অফ এনগেজমেন্টটা কি হবে? বিজিবি বলেছে তারা কোন অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করবে না। এক্ষেত্রে আপনারা কি করবেন জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে এনগেজমেন্ট বলে দেয়া আছে। আমরা আইনের আওতায় থেকে সে রুলস অফ এনগেজমেন্ট অনুসরণ করে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে থাকি। যদি সত্যি সত্যি কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয় তাহলে রুলস অফ এনগেজমেন্টে যে ক্রমান্বয়ে বল প্রয়োগের মাত্রা বৃদ্ধির একটা প্রক্রিয়া আছে সেটা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভোটের দিন আগে কিংবা পরে মব হলে সেনাবাহিনীর কি ভূমিকা থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি যে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে, মবের ইনসিডেন্ট আমরা দেখেছি। বাংলাদেশ সরকার, নির্বাচন কমিশন, অসামরিক প্রশাসন এবং সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী একটি অবাধ এবং সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয় তা করতে বদ্ধপরিকর। যে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন করতে গিয়ে যা করণীয় আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন সে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বড় রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে বা কার্যক্রম না থাকার কারণে এই নির্বাচন থেকে বাহিরে আছে এবং এই দলটির অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপন করে আছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বা ভার্চুয়াল জগতে দেখছি যে এই দলটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক থ্রেড বা হুমকি ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে বা না যাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের থ্রেড দেওয়া হচ্ছে। তো সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোন থ্রেড পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে আমি আলোচনায় যাব না। যে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতা প্রতিরোধের জন্য যে ধরনের দরকার, যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীও সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

আর মাত্র এক সপ্তাহ কম সময় ইলেকশনে, সেখানে এখনো মানুষের মাঝে একটা সংশয় রয়ে গেছে যে আসলে ইলেকশনটা কিভাবে হবে, কতটুকু এনভায়রনমেন্ট আসলে হয়েছে বা ভোট হবে কিনা। এখানে কি আসলে সরকারের পক্ষ থেকে কোন ব্যর্থতা দেখছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সংশয় দূর করার জন্যই কিন্তু সেনাবাহিনী প্রধান সকল বিভাগে ব্যক্তিগতভাবে গিয়েছেন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অসামরিক প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যারা এই নির্বাচনের সাথে নিয়োজিত থাকবেন তাদের সঙ্গে মত বিনিময় করেছেন। দুটো উদ্দেশ্য নিয়ে গিয়েছেন। একটা হচ্ছে তাদেরকে আস্থা দেয়া যে তাদের যেকোনো সহায়তা প্রদানের জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত আছে এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে জনগণকে আস্থা দেয়া এবং ওই বার্তাটা সুস্পষ্টভাবে দেয়া যে সকল বাহিনী সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য প্রস্তুত।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবসময় একটি সেন্সিটিভ জায়গা এবং এ ব্যাপারে আপনারা জানেন যে শুধুই বর্তমানে নির্বাচন কেন্দ্রিক নয় নির্বাচনের পূর্বাপর সময়ও আমরা ওখানে আমাদের সেনা মোতায়ন সার্বক্ষণিকভাবে থাকে। যেই আশঙ্কার কথা আপনি বলেছেন আমরা এগুলো আমাদের অ্যাসেসমেন্টের মধ্যে নিয়েছি।

অপর আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারে সে ব্যাপারে আমাদের নিয়মিত টহল জারি থাকবে এবং এ কারণেই আমরা এবার উপজেলা ভিত্তিক এবং ক্ষেত্রবিশেষে কেন্দ্রভিত্তিক আমাদের ক্যাম্প স্থাপন করেছি যাতে বিপুল সংখ্যক পেট্রোল একসঙ্গে বাইরে থাকতে পারে যাতে সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গাটা হয়। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বন্ধে সর্বাত্মক আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর মোতায়ন থাকা অবস্থায় যদি ভোটার আস্থা ক্ষুণ্ণ হয় এবং নির্বাচন পরবর্তী ফলাফল নিয়ে যদি কোনো প্রশ্ন উঠে তবে সেনাবাহিনী যে মাঠে গণতান্ত্রিকভাবে নিরপেক্ষ ছিল এটি তারা কিভাবে প্রমাণ করবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী এবং দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত একটি বাহিনী। সেনাপ্রধান পরিষ্কারভাবে একটি কথা বলে দিয়েছেন যে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব। দেশের সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে এবং তার ভোটটা সে দিতে পারে এটা নিশ্চিত করা হবে আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। আর আমাদের দায়িত্ব পালনকালে আমরা যদি আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারি তাহলে আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে জনগণ আমাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ আলাদা করে পেয়ে যাবে।

একটি রাজনৈতিক দলের দুজন শীর্ষ নেতার একাউন্ট হ্যাক হয়েছে, যা চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এই হ্যাকারদের ব্যাপারে সেনাবাহিনীর আইটি সেকশন বা সেনাবাহিনী কোনো ভূমিকা রাখছেন কিনা চিহ্নিত করার জন্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব প্রয়োজনে আমরা যাতে এই আক্রমণের শিকার না হই সে প্রস্তুতি আমরা আমাদের নিয়েছি। আর এর বাইরে প্রত্যেকের যার যার জায়গা থেকে এই প্রস্তুতি তাকে নিতে হবে। বাট আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারি যে সেনাবাহিনী তার যে সমস্ত আইটি সাইট আছে সেগুলো যাতে হ্যাক না হয় সে ব্যাপারে যতটুকু প্রস্তুতি নেয়ার সেই প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি এবং নিচ্ছি।

নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে আপনাদের নিজস্ব কোন থ্রেড অ্যানালাইসিস রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, থ্রেড অ্যাসেসমেন্ট অবশ্যই একটি সেনাবাহিনী তার কর্মপন্থায় প্রথম কাজ যেটা করে তা হচ্ছে থ্রেড অ্যাসেসমেন্ট। আমরা অবশ্যই এটা একটা থ্রেড অ্যাসেসমেন্ট করেছি এবং তদঅনুযায়ী আমাদের এই মোতায়ন পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমরা নন-লিথাল ওয়েপন এবং রায়ট কন্ট্রোল ইকুইপমেন্ট দিয়ে আমাদের বাহিনীকে ইকুইপ করেছি। নির্বাচন কেন্দ্রিক কথা যদি বলি আমরা নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও বেশ কিছু রায়ট কন্ট্রোল ইকুইপমেন্ট আমরা আমাদের সেনা সদস্যদের জন্য নিয়ে এসেছি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

প্রয়োজনে নির্বাচনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ, তবে আইনের বাইরে নয়: সেনাসদর

আপডেট: ০৪:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করতে পারে, তবে তা হবে সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত ‘রুলস অফ এনগেজমেন্ট’ অনুসরণ করে বলে জানিয়েছেন সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন। 

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম  সম্পর্কিত  বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর অবস্থা বিবেচনায় যদি অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর রুলস অফ এনগেজমেন্টটা কি হবে? বিজিবি বলেছে তারা কোন অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করবে না। এক্ষেত্রে আপনারা কি করবেন জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে এনগেজমেন্ট বলে দেয়া আছে। আমরা আইনের আওতায় থেকে সে রুলস অফ এনগেজমেন্ট অনুসরণ করে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে থাকি। যদি সত্যি সত্যি কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয় তাহলে রুলস অফ এনগেজমেন্টে যে ক্রমান্বয়ে বল প্রয়োগের মাত্রা বৃদ্ধির একটা প্রক্রিয়া আছে সেটা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভোটের দিন আগে কিংবা পরে মব হলে সেনাবাহিনীর কি ভূমিকা থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি যে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে, মবের ইনসিডেন্ট আমরা দেখেছি। বাংলাদেশ সরকার, নির্বাচন কমিশন, অসামরিক প্রশাসন এবং সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী একটি অবাধ এবং সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয় তা করতে বদ্ধপরিকর। যে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন করতে গিয়ে যা করণীয় আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন সে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বড় রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে বা কার্যক্রম না থাকার কারণে এই নির্বাচন থেকে বাহিরে আছে এবং এই দলটির অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপন করে আছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বা ভার্চুয়াল জগতে দেখছি যে এই দলটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক থ্রেড বা হুমকি ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে বা না যাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের থ্রেড দেওয়া হচ্ছে। তো সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোন থ্রেড পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে আমি আলোচনায় যাব না। যে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতা প্রতিরোধের জন্য যে ধরনের দরকার, যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীও সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

আর মাত্র এক সপ্তাহ কম সময় ইলেকশনে, সেখানে এখনো মানুষের মাঝে একটা সংশয় রয়ে গেছে যে আসলে ইলেকশনটা কিভাবে হবে, কতটুকু এনভায়রনমেন্ট আসলে হয়েছে বা ভোট হবে কিনা। এখানে কি আসলে সরকারের পক্ষ থেকে কোন ব্যর্থতা দেখছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সংশয় দূর করার জন্যই কিন্তু সেনাবাহিনী প্রধান সকল বিভাগে ব্যক্তিগতভাবে গিয়েছেন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অসামরিক প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যারা এই নির্বাচনের সাথে নিয়োজিত থাকবেন তাদের সঙ্গে মত বিনিময় করেছেন। দুটো উদ্দেশ্য নিয়ে গিয়েছেন। একটা হচ্ছে তাদেরকে আস্থা দেয়া যে তাদের যেকোনো সহায়তা প্রদানের জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত আছে এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে জনগণকে আস্থা দেয়া এবং ওই বার্তাটা সুস্পষ্টভাবে দেয়া যে সকল বাহিনী সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য প্রস্তুত।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবসময় একটি সেন্সিটিভ জায়গা এবং এ ব্যাপারে আপনারা জানেন যে শুধুই বর্তমানে নির্বাচন কেন্দ্রিক নয় নির্বাচনের পূর্বাপর সময়ও আমরা ওখানে আমাদের সেনা মোতায়ন সার্বক্ষণিকভাবে থাকে। যেই আশঙ্কার কথা আপনি বলেছেন আমরা এগুলো আমাদের অ্যাসেসমেন্টের মধ্যে নিয়েছি।

অপর আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারে সে ব্যাপারে আমাদের নিয়মিত টহল জারি থাকবে এবং এ কারণেই আমরা এবার উপজেলা ভিত্তিক এবং ক্ষেত্রবিশেষে কেন্দ্রভিত্তিক আমাদের ক্যাম্প স্থাপন করেছি যাতে বিপুল সংখ্যক পেট্রোল একসঙ্গে বাইরে থাকতে পারে যাতে সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গাটা হয়। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বন্ধে সর্বাত্মক আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর মোতায়ন থাকা অবস্থায় যদি ভোটার আস্থা ক্ষুণ্ণ হয় এবং নির্বাচন পরবর্তী ফলাফল নিয়ে যদি কোনো প্রশ্ন উঠে তবে সেনাবাহিনী যে মাঠে গণতান্ত্রিকভাবে নিরপেক্ষ ছিল এটি তারা কিভাবে প্রমাণ করবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী এবং দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত একটি বাহিনী। সেনাপ্রধান পরিষ্কারভাবে একটি কথা বলে দিয়েছেন যে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব। দেশের সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে এবং তার ভোটটা সে দিতে পারে এটা নিশ্চিত করা হবে আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। আর আমাদের দায়িত্ব পালনকালে আমরা যদি আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারি তাহলে আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে জনগণ আমাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ আলাদা করে পেয়ে যাবে।

একটি রাজনৈতিক দলের দুজন শীর্ষ নেতার একাউন্ট হ্যাক হয়েছে, যা চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এই হ্যাকারদের ব্যাপারে সেনাবাহিনীর আইটি সেকশন বা সেনাবাহিনী কোনো ভূমিকা রাখছেন কিনা চিহ্নিত করার জন্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব প্রয়োজনে আমরা যাতে এই আক্রমণের শিকার না হই সে প্রস্তুতি আমরা আমাদের নিয়েছি। আর এর বাইরে প্রত্যেকের যার যার জায়গা থেকে এই প্রস্তুতি তাকে নিতে হবে। বাট আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারি যে সেনাবাহিনী তার যে সমস্ত আইটি সাইট আছে সেগুলো যাতে হ্যাক না হয় সে ব্যাপারে যতটুকু প্রস্তুতি নেয়ার সেই প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি এবং নিচ্ছি।

নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে আপনাদের নিজস্ব কোন থ্রেড অ্যানালাইসিস রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, থ্রেড অ্যাসেসমেন্ট অবশ্যই একটি সেনাবাহিনী তার কর্মপন্থায় প্রথম কাজ যেটা করে তা হচ্ছে থ্রেড অ্যাসেসমেন্ট। আমরা অবশ্যই এটা একটা থ্রেড অ্যাসেসমেন্ট করেছি এবং তদঅনুযায়ী আমাদের এই মোতায়ন পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমরা নন-লিথাল ওয়েপন এবং রায়ট কন্ট্রোল ইকুইপমেন্ট দিয়ে আমাদের বাহিনীকে ইকুইপ করেছি। নির্বাচন কেন্দ্রিক কথা যদি বলি আমরা নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও বেশ কিছু রায়ট কন্ট্রোল ইকুইপমেন্ট আমরা আমাদের সেনা সদস্যদের জন্য নিয়ে এসেছি।