১১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

দুদকের জালে অবৈধ সম্পদ গড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান

  • আপডেট: ০৬:২০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮০১৫

এম.এন. আলী নাইম:

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মোস্তাফিজুর রহমান (সবুজ)-এর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের নথি নং- ০০.০১.০০০০.৫০১.০১.০৭৭.২৫ এবং ই/আর নম্বর: ২৯৮/২০২৫ (বিশেষ তদন্ত) অনুযায়ী এ অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলমকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও তথ্যাদি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ঠিকাদারি কাজ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি, অতিরিক্ত বিল উত্তোলন এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি নির্মাণ প্রকল্পে কাজের মান কমিয়ে বেশি বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। যেখানে সরকারি অর্থের বড় অংশ আত্মসাতের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করতেন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে নিজের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নিতেন। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি নিজের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন স্থানে জমি, ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাব গড়ে তুলেছেন যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনুসন্ধানে তার স্ত্রী মোসা: মুর্শিদা খাতুন, পিতা মো: আব্দুস সালাম এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামও উঠে এসেছে, যাদের নামে সম্পদ গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া তার স্ত্রী মোসা: মুর্শিদা খাতুন এর নামে ঢাকা মেট্রো-গ-৪৩-২৭২৬ একটি বিলাশবহুল গাড়ি রয়েছে বলে বিআরটিএ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া তার সন্তানদের তথ্যও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে, যাদের নামে ব্যাংক লেনদেন বা সম্পদ স্থানান্তরের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তা তদন্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমানে তার ঠিকানা হিসেবে ঢাকার লালবাগ এলাকায় বুয়েটের ডা. এম এ রশীদ হল এবং তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত মহিলা হোস্টেলের ঠিকানা পাওয়া গেছে, যা নিয়ে তদন্তকারীরা যাচাই-বাছাই করছেন। পাশাপাশি তার স্থায়ী ঠিকানা রাজশাহী জেলার পবা থানার মল্লিকপুর এলাকায় হওয়ায় সেখানেও সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন। অনেক ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা সরকারি অর্থের অপচয় এবং দুর্নীতির সুস্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির কাগজপত্র, টেন্ডার নথি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে এ ঘটনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ভেতরেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তদন্ত শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের দুর্নীতির চিত্র উন্মোচন করতে পারে এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

দুদকের জালে অবৈধ সম্পদ গড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান

আপডেট: ০৬:২০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

এম.এন. আলী নাইম:

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মোস্তাফিজুর রহমান (সবুজ)-এর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের নথি নং- ০০.০১.০০০০.৫০১.০১.০৭৭.২৫ এবং ই/আর নম্বর: ২৯৮/২০২৫ (বিশেষ তদন্ত) অনুযায়ী এ অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলমকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও তথ্যাদি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ঠিকাদারি কাজ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি, অতিরিক্ত বিল উত্তোলন এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি নির্মাণ প্রকল্পে কাজের মান কমিয়ে বেশি বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। যেখানে সরকারি অর্থের বড় অংশ আত্মসাতের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করতেন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে নিজের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নিতেন। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি নিজের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন স্থানে জমি, ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাব গড়ে তুলেছেন যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনুসন্ধানে তার স্ত্রী মোসা: মুর্শিদা খাতুন, পিতা মো: আব্দুস সালাম এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামও উঠে এসেছে, যাদের নামে সম্পদ গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া তার স্ত্রী মোসা: মুর্শিদা খাতুন এর নামে ঢাকা মেট্রো-গ-৪৩-২৭২৬ একটি বিলাশবহুল গাড়ি রয়েছে বলে বিআরটিএ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া তার সন্তানদের তথ্যও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে, যাদের নামে ব্যাংক লেনদেন বা সম্পদ স্থানান্তরের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তা তদন্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমানে তার ঠিকানা হিসেবে ঢাকার লালবাগ এলাকায় বুয়েটের ডা. এম এ রশীদ হল এবং তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত মহিলা হোস্টেলের ঠিকানা পাওয়া গেছে, যা নিয়ে তদন্তকারীরা যাচাই-বাছাই করছেন। পাশাপাশি তার স্থায়ী ঠিকানা রাজশাহী জেলার পবা থানার মল্লিকপুর এলাকায় হওয়ায় সেখানেও সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন। অনেক ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা সরকারি অর্থের অপচয় এবং দুর্নীতির সুস্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির কাগজপত্র, টেন্ডার নথি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে এ ঘটনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ভেতরেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তদন্ত শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের দুর্নীতির চিত্র উন্মোচন করতে পারে এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।