১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য,লালমনিরহাটে এমআরও কেন্দ্র
- আপডেট: ০৬:৫০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০২
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। একই সঙ্গে দেশের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত সক্ষমতা বাড়াতে লালমনিরহাটে মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বোয়িং ও এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) সেমিনার কক্ষে ‘এভিয়েশন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। পিআইবি ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির কাজ আগের সরকারের সময়ে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। পরবর্তী সময়েও এর কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর টার্মিনালের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ বছরের মধ্যেই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর চেষ্টা করছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর এটি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।’
দেশের বিমান রক্ষণাবেক্ষণ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে এমআরও কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আফরোজা খানম রিতা বলেন, এ বিষয়ে বিশ্বের বড় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং ও এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। লালমনিরহাটে একটি এমআরও কেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টা চলছে।
এ ধরনের কেন্দ্র চালু হলে দেশে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে এসব কাজে বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং বিমান খাতে নতুন সক্ষমতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি।
দেশে দক্ষ পাইলট তৈরির জন্য ফ্লাইট একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে যেন বিপুল অর্থ ব্যয় করতে না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পড়াশোনার খরচ সরকার বহন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমান ও পর্যটন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের সংকট দেখতে হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক জায়গায় প্রয়োজনীয় অর্থ ও তহবিলের ঘাটতি ছিল। এসব সমস্যা কাটিয়ে খাত দুটিকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে বিমান ও পর্যটন খাতের সক্ষমতা বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ধাপে ধাপে এসব খাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, সাংবাদিকতা শুধু জীবিকা বা পেশা নয়, এটি একটি মহান দায়িত্ব। এভিয়েশন সাংবাদিকতাকে কেবল বিমান চলাচল ও পর্যটনের খবরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর সঙ্গে যুক্ত অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের ভাবমূর্তির বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হলেও দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহির মানসিকতা নিজেদের ভেতর থেকেই তৈরি করতে হবে। সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
গণমাধ্যমকে জনগণের শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম উল্লেখ করে ফারুক ওয়াসিফ বলেন, মানুষ প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে নানা বিষয়ে জানতে ও শিখতে পারে। তাই অসত্য বা দায়িত্বহীন তথ্য প্রকাশের প্রভাব শুধু একজন পাঠকের ওপর নয়, তার পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও পড়তে পারে।
তিনি সাংবাদিকদের মাঠপর্যায়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানান। ‘শিকারী সাংবাদিকতা’ ও ‘ল্যাপটপ সাংবাদিকতা’ থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবতা যাচাই করে সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ফারুক ওয়াসিফ বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে। তাই সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে।


















