০৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ডিবি হারুনের ‘শিষ্য’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আরাফায় লেনিনকে রাঙামাটিতে সংযুক্ত

  • আপডেট: ০৭:৪১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮০০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদের ‘শিষ্য’ হিসেবে পরিচিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার রবিউল আরাফাত লেনিনকে রাঙামাটির বেতবুনিয়া পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে (পিএসটিএস) সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে নোয়াখালীর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে (পিটিসি) কর্মরত।

বুধবার (১৯ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, খন্দকার রবিউল আরাফাতকে ২২ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার হস্তান্তর করতে হবে। অন্যথায় ২৩ আগস্ট থেকে তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।

চব্বিশের ৫ আগস্ট ও তার তার পূর্বে খন্দকার রবিউল আরাফাত লেনিন ডিবিতে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে পুলিশের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন, অপহরণ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থী মাশরুর হাসানের বাবা আবদুল হাসেম ও ভাই মেহেদী হাসানকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনায়ও লেনিনের নাম আলোচনায় আসে। ২০২৪ সালের ওই ঘটনায় মাশরুরের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, ডিবির তৎকালীন এডিসি খন্দকার রবিউল আরাফাত লেনিনের নেতৃত্বে একটি দল তাদের ডিআরইউ থেকে নিয়ে যায়।

পরিবারের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, মাশরুর হাসানকে ২৫ জুলাই কয়েকজন সাদা পোশাকের ব্যক্তি তুলে নিয়ে যান। তারা নিজেদের ডিবির কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন থানা ও আদালতে খোঁজ করেও মাশরুরের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

লেনিনের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা মজনুকে নির্যাতন এবং যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের স্ত্রীকে ডিবি কার্যালয়ে এনে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ডিবিতে দায়িত্ব পালনের সময় তার নেতৃত্বাধীন ডেমরা টিমের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

শিশুবক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানিকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতনের অভিযোগের বর্ণনাতেও লেনিনের নাম উঠে আসে।

এছাড়া ২০১৭ সালে প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘ডিবির অপহরণ ও চাঁদাবাজি: অভিযোগ করে আরও বিপাকে ব্যবসায়ীরা’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মগবাজার রেলগেট এলাকায় ডিবির সোর্স হিসেবে কাজ করতেন সোহেল ও মিয়া মো. আমিন। মিয়া মো. আমিন লেনিনের খালাতো ভাই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের তুলে নেওয়া এবং তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগের বর্ণনাও ওই প্রতিবেদনে ছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

ডিবি হারুনের ‘শিষ্য’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আরাফায় লেনিনকে রাঙামাটিতে সংযুক্ত

আপডেট: ০৭:৪১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদের ‘শিষ্য’ হিসেবে পরিচিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার রবিউল আরাফাত লেনিনকে রাঙামাটির বেতবুনিয়া পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে (পিএসটিএস) সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে নোয়াখালীর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে (পিটিসি) কর্মরত।

বুধবার (১৯ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, খন্দকার রবিউল আরাফাতকে ২২ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার হস্তান্তর করতে হবে। অন্যথায় ২৩ আগস্ট থেকে তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।

চব্বিশের ৫ আগস্ট ও তার তার পূর্বে খন্দকার রবিউল আরাফাত লেনিন ডিবিতে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে পুলিশের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন, অপহরণ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থী মাশরুর হাসানের বাবা আবদুল হাসেম ও ভাই মেহেদী হাসানকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনায়ও লেনিনের নাম আলোচনায় আসে। ২০২৪ সালের ওই ঘটনায় মাশরুরের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, ডিবির তৎকালীন এডিসি খন্দকার রবিউল আরাফাত লেনিনের নেতৃত্বে একটি দল তাদের ডিআরইউ থেকে নিয়ে যায়।

পরিবারের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, মাশরুর হাসানকে ২৫ জুলাই কয়েকজন সাদা পোশাকের ব্যক্তি তুলে নিয়ে যান। তারা নিজেদের ডিবির কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন থানা ও আদালতে খোঁজ করেও মাশরুরের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

লেনিনের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা মজনুকে নির্যাতন এবং যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের স্ত্রীকে ডিবি কার্যালয়ে এনে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ডিবিতে দায়িত্ব পালনের সময় তার নেতৃত্বাধীন ডেমরা টিমের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

শিশুবক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানিকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতনের অভিযোগের বর্ণনাতেও লেনিনের নাম উঠে আসে।

এছাড়া ২০১৭ সালে প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘ডিবির অপহরণ ও চাঁদাবাজি: অভিযোগ করে আরও বিপাকে ব্যবসায়ীরা’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মগবাজার রেলগেট এলাকায় ডিবির সোর্স হিসেবে কাজ করতেন সোহেল ও মিয়া মো. আমিন। মিয়া মো. আমিন লেনিনের খালাতো ভাই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের তুলে নেওয়া এবং তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগের বর্ণনাও ওই প্রতিবেদনে ছিল।