১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

বেসামরিক বিমান চলাচলের হুমকি-ঝুঁকি মোকাবিলায় CATRAC-এর দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত

  • আপডেট: ১১:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮০০২

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি ও ঝুঁকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে Civil Aviation Threat and Risk Assessment Committee (CATRAC)-এর দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন CATRAC-এর সভাপতি ও বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বেসামরিক বিমান চলাচল খাত সন্ত্রাসবাদ, সাইবার ঝুঁকি, Insider Threat, IED ও ড্রোন হামলাসহ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব হুমকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ICAO-এর Annex 17 অনুযায়ী নিয়মিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নে CATRAC গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে Civil Aviation Risk Context Statement (CARCS) চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতিও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম আসন্ন ICAO Universal Security Audit Programme–Continuous Monitoring Approach (USAP-CMA) অডিটের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় CATRAC-এর প্রথম সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বর্তমান ও উদীয়মান নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বিমানবন্দরের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের ওপর।

ফিশিং, পাসওয়ার্ড চুরি, অননুমোদিত প্রবেশ এবং যাত্রী ও ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্য চুরিসহ বিভিন্ন সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় বেবিচকের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সভায় তুলে ধরা হয়।

সভায় জানানো হয়, National Civil Aviation Security Programme (NCASP) ও Aviation Security Training Programme (ATSP)-এ Cybersecurity অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি Civil Aviation Cybersecurity Directives জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের e-Gov CIRT-এর সঙ্গে Cybersecurity Audit পরিচালনার জন্য সমঝোতা স্মারকও সম্পন্ন হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের বিমানবন্দরগুলোকে Critical Information Infrastructure (CII) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং National Cybersecurity Agency (NCSA) থেকে নিয়মিত নির্দেশনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিমানবন্দরে Aircraft Search-এর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে Higher-Risk Designation List (HRDL) প্রণয়নের জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, সময়োপযোগী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় আরও জোরদারের বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সময়োপযোগী তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা পরিবেশে কার্যকর হুমকি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ তথ্য বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম ICAO-এর আসন্ন নিরাপত্তা অডিট সফলভাবে মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভা শেষে CATRAC-এর পরবর্তী সভা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

বেসামরিক বিমান চলাচলের হুমকি-ঝুঁকি মোকাবিলায় CATRAC-এর দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট: ১১:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি ও ঝুঁকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে Civil Aviation Threat and Risk Assessment Committee (CATRAC)-এর দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন CATRAC-এর সভাপতি ও বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বেসামরিক বিমান চলাচল খাত সন্ত্রাসবাদ, সাইবার ঝুঁকি, Insider Threat, IED ও ড্রোন হামলাসহ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব হুমকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ICAO-এর Annex 17 অনুযায়ী নিয়মিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নে CATRAC গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে Civil Aviation Risk Context Statement (CARCS) চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতিও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম আসন্ন ICAO Universal Security Audit Programme–Continuous Monitoring Approach (USAP-CMA) অডিটের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় CATRAC-এর প্রথম সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বর্তমান ও উদীয়মান নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বিমানবন্দরের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের ওপর।

ফিশিং, পাসওয়ার্ড চুরি, অননুমোদিত প্রবেশ এবং যাত্রী ও ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্য চুরিসহ বিভিন্ন সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় বেবিচকের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সভায় তুলে ধরা হয়।

সভায় জানানো হয়, National Civil Aviation Security Programme (NCASP) ও Aviation Security Training Programme (ATSP)-এ Cybersecurity অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি Civil Aviation Cybersecurity Directives জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের e-Gov CIRT-এর সঙ্গে Cybersecurity Audit পরিচালনার জন্য সমঝোতা স্মারকও সম্পন্ন হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের বিমানবন্দরগুলোকে Critical Information Infrastructure (CII) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং National Cybersecurity Agency (NCSA) থেকে নিয়মিত নির্দেশনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিমানবন্দরে Aircraft Search-এর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে Higher-Risk Designation List (HRDL) প্রণয়নের জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, সময়োপযোগী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় আরও জোরদারের বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সময়োপযোগী তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা পরিবেশে কার্যকর হুমকি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ তথ্য বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম ICAO-এর আসন্ন নিরাপত্তা অডিট সফলভাবে মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভা শেষে CATRAC-এর পরবর্তী সভা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।