০৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

সংসারে অশান্তি, ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পাকিস্তানি নাগরিকের আত্মহত্যার হুমকি, অতঃপর…

  • আপডেট: ০৩:১১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেছিলেন এক পাকিস্তানি নাগরিক। তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে তাকে আত্মহত্যা থেকে বিরত রাখা হয় এবং পুলিশি উদ্যোগে পারিবারিক মীমাংসা করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে। উত্তরা সেক্টর-১৮ এলাকা থেকে ফোন করে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি একজন পাকিস্তানি নাগরিক এবং পেশায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বাংলাদেশের একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। চার বছর আগে তিনি একজন বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করেন এবং তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।

কলার জানান, তিনি মাসিক প্রায় দুই লাখ টাকা বেতন পান। বেতনের সিংহভাগ স্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান।

একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে কলার জানান, তিনি গাড়ি চালাতে চালাতে ফোন করেছেন এবং আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে ৯৯৯ কলটেকার কনস্টেবল বায়েজিদ তাকে শান্ত হওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন এবং গাড়ি থামাতে বলেন। একই সঙ্গে তাকে আইনি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে কলারের দেওয়া ঠিকানার ভিত্তিতে তৎক্ষণাৎ তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। ৯৯৯ ডিসপাচার এসআই সাব্বির আহমেদ নিক্সন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় ও তদারকি করেন।

সংবাদ পেয়ে তুরাগ থানার একটি পুলিশ দল দ্রুত কলারের বাসায় পৌঁছায়। সেখানে কলারের সহকর্মী ও বন্ধুদের খবর দিয়ে ডেকে আনা হয়। পরে কলারের শাশুড়িও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় কলারের স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামী নিয়মিত গভীর রাতে বাসায় ফেরেন।

সবার উপস্থিতিতে পুলিশ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়। এ সময় স্বামী-স্ত্রী কেউই কারও বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে রাজি হননি। তবে ভবিষ্যতে আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ জানিয়েছে, সময়মতো ফোন কল ও দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য আত্মহত্যার ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

সংসারে অশান্তি, ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পাকিস্তানি নাগরিকের আত্মহত্যার হুমকি, অতঃপর…

আপডেট: ০৩:১১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেছিলেন এক পাকিস্তানি নাগরিক। তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে তাকে আত্মহত্যা থেকে বিরত রাখা হয় এবং পুলিশি উদ্যোগে পারিবারিক মীমাংসা করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে। উত্তরা সেক্টর-১৮ এলাকা থেকে ফোন করে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি একজন পাকিস্তানি নাগরিক এবং পেশায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বাংলাদেশের একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। চার বছর আগে তিনি একজন বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করেন এবং তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।

কলার জানান, তিনি মাসিক প্রায় দুই লাখ টাকা বেতন পান। বেতনের সিংহভাগ স্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান।

একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে কলার জানান, তিনি গাড়ি চালাতে চালাতে ফোন করেছেন এবং আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে ৯৯৯ কলটেকার কনস্টেবল বায়েজিদ তাকে শান্ত হওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন এবং গাড়ি থামাতে বলেন। একই সঙ্গে তাকে আইনি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে কলারের দেওয়া ঠিকানার ভিত্তিতে তৎক্ষণাৎ তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। ৯৯৯ ডিসপাচার এসআই সাব্বির আহমেদ নিক্সন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় ও তদারকি করেন।

সংবাদ পেয়ে তুরাগ থানার একটি পুলিশ দল দ্রুত কলারের বাসায় পৌঁছায়। সেখানে কলারের সহকর্মী ও বন্ধুদের খবর দিয়ে ডেকে আনা হয়। পরে কলারের শাশুড়িও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় কলারের স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামী নিয়মিত গভীর রাতে বাসায় ফেরেন।

সবার উপস্থিতিতে পুলিশ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়। এ সময় স্বামী-স্ত্রী কেউই কারও বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে রাজি হননি। তবে ভবিষ্যতে আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ জানিয়েছে, সময়মতো ফোন কল ও দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য আত্মহত্যার ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।