একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন:ডিএমপি কমিশনার
- আপডেট: ১২:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৮০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান ঘিরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কেন্দ্রীক ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো.সাজ্জাত আলী।
এরপরেও দিবসটি উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কেন্দ্রীক সোয়াত,ডগ স্কোয়াড,বোম্ব ডিসপোজাল টিম,ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন,মহান শহীদ দিবসে ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ব্যাপক লোক সমাগম হবে। এই উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপটাল পুলিশ নিয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক মোতায়ন থাকবে। শৃঙ্খলা ও শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় রেখে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বসাধনকে অনুরোধ জানান তিনি।
এ সময় তিনি এক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে পুলিশের সফলতার কথা তুলে ধরে বলেন,অত্যন্ত সুন্দর এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে জনগণ ভোট কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন,কোথাও কোনো নিরাপত্তা সংখ্যা ছিল না। অমর একুশের অনুষ্ঠানেও কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই।
এরপরেও শহীদ মিনারে নিয়মিত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সোয়াত,ডগ স্কোয়াড,বোম্ব ডিসপোজাল টিম, ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিসহ সাইবার মনিটরিংও জোরদার করার করার কথা বলেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন,আমি আশা করি কোনো সমস্যা হবে না এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু শহীদ মিনার কেন্দ্রিক হয় না। আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরা ঢাকা শহর নিয়ে এবং পুরা ঢাকা শহরকে আমরা সিকিউর রাখার জন্য সকল সময় চেষ্টা করি। এখনো সেই চেষ্টা করে যাব।
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি,প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এছাড়া বিদেশী কূটনীতিকরাও শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাবেন। ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
সাধারণের জন্য পলাশীর মোড়-জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে শহীদ মিনারের রুট অনুসরণ করার নির্দেশনা দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন,এর বাইরে অন্য কোনো রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ করা যাবে না। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এটি সবাইকে মেনে চলতে হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার থেকে রোমানা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্তর অথবা চানখার পুল হয়ে শহীদ মিনার ত্যাগ করা যাবে।
ঢাকার পুলিশ প্রধান আরও বলেন,শহীদ মিনারে কেউ কোনো ধরনের ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফরক দ্রব্য নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন না। সবাই নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করে শহীদ মিনারে প্রবেশ করবেন এবং নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করে প্রস্থান করবেন। আপনার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অন্যকে সুযোগ দিন এবং শৃঙ্খলা বজা রাখুন।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশপথে ড্রাইভারসন চলবে জানিয়ে কমিশনার বলেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষক ছাত্র কর্মকর্তা কর্মচারীরা সেসব ট্রাফিক নির্দেশনা অনুসরণ করে আমাদের সহযোগিতা করবেন।
শহীদ মিনার কেন্দ্রীক ডাইভারসন ও যান চলাচলের বিষয়ে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন,শাহবাগ ক্রসিং,নীলক্ষেত ক্রসিং,শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং,হাইকোর্ট ক্রসিং,চাংখারপুল ক্রসিং,পলাসি ক্রসিং এবং বক্সিবাজার ক্রসিংয়ে আমাদের ডাইভারসন থাকবে। আমরা যে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েছি প্রত্যেকবারের মত, এবারও সবাই আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় আমরা এই অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হব।




















