০৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

পূর্বের মারামারি ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে আসাদুলকে হত্যা করে পরিচিতরা: পুলিশ

  • আপডেট: ০২:১৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮০০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে (২৮) হত্যার ঘটনায় জড়িত চার জনকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

পুলিশ বলছে, পূর্বের মারামারি ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে পরিচিতরাই তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. মুন্না (২৪), আকতার হোসেন (৪৫), মিরাজ ফকির (২২) ও নয়ন ওরফে খোকন (২৪)।

এদের ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার ও একটি মোটর সাইকেল।

মো. ইবনে মিজান বলেন, এই হত্যাকান্ড হওয়ার পর আমরা প্রথমে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করি। প্রথমে আমরা মোহাম্মদপুর ও আশাপাশের এলাকায় অভিযান চালাই। পরে কেরানীগঞ্জ থেকে আমরা এই হত্যাকান্ডের মূল হোতাসহ চারজনকে আটক করি। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আলামত হিসেবে একটি মোটরসাইকেল ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার জব্দ করা হয়।

হত্যাকান্ডের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, নিহত আসাদুল ও গ্রেপ্তারকৃত আকতারের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। যার প্রেক্ষিতে আসাদুলকে আসামীকে করে একটি মামলা করে আকতার। সেই মামলার আসাদুল পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় এবং জেলেও যায়। কিছুদিন আগে আসাদুল জামিনে বের হয়ে আসে। এছাড়া আকতার ও আসাদুলের টাকা-পয়সা সংক্রান্ত একটি বিরোধও আছে। এই দুইটি কারণে আকতার প্রতিশোধ নিতে আসাদুলকে তারই বন্ধুদের সহায়তায় মধ্যরাতে ডেকে এনে ছুরিকাঘাতে এবং ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে।

গ্রেফতারকৃত চারজনের বাইরেও আমরা আরো কয়েকজনের নাম পেয়েছি। তাদের ধরতে আমরা অভিযান অব্যহত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, এই ঘটনায় নিহতে চাচাতো বোন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে। সেই মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং আমরা আদালতে রিমান্ডের আবেদনও করবো।

গ্রেফতারকৃত এবং নিহতের নামে একাধিক মামলা রয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত নিহত আসাদুলের নামে ৬টি মামলা পেয়েছি। এর মধ্যে ৪টি মাদক মামলা, একটি অন্য ধারার মামলা, অন্যটি দ্রুত বিচার আইনের মামলা। গ্রেপ্তারকৃত মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক ও  ছিনতাইয়ের ৭টি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি ও নয়নের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা পেয়েছি। আকতারের বিরুদ্ধে আমরা এখনো কোনো মামলা পাইনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ঘটনায় দেখা গেছে, বাইরে থেকে কিছু সন্ত্রাসী এসে অপরাধ করে আবার চলে গেছে এবং অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এজন্যই আমরা ঢাকার বাইরে থেকে তাদের গ্রেফতার করেছি। আমরা চেকপোস্ট জোরদার করব এবং চলমান অভিযান আরও শক্তিশালী করব, যাতে বাইরে থেকে এসে কেউ অপরাধ করতে না পারে এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

গ্রেফতারকৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা আকতারের রাজনৈতিক পরিচয় পেয়েছি। সেটি আমরা যাচাই-বাছাই করছি।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকার সাদেক খানের ইটখোলা সংলগ্ন রাস্তায় আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। তিনি বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার কালনা এলাকার জলিল সর্দারের ছেলে। পরিবার নিয়ে মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিংয়ের বি-ব্লকের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

এই ঘটনায় পুলিশের বাইরে র‍্যাব-২ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন, আসাদুল ইসলাম ও মো. শাওন। তাদের মোহাম্মদপুরের মেট্রোহাউজিং এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

পূর্বের মারামারি ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে আসাদুলকে হত্যা করে পরিচিতরা: পুলিশ

আপডেট: ০২:১৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে (২৮) হত্যার ঘটনায় জড়িত চার জনকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

পুলিশ বলছে, পূর্বের মারামারি ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে পরিচিতরাই তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. মুন্না (২৪), আকতার হোসেন (৪৫), মিরাজ ফকির (২২) ও নয়ন ওরফে খোকন (২৪)।

এদের ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার ও একটি মোটর সাইকেল।

মো. ইবনে মিজান বলেন, এই হত্যাকান্ড হওয়ার পর আমরা প্রথমে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করি। প্রথমে আমরা মোহাম্মদপুর ও আশাপাশের এলাকায় অভিযান চালাই। পরে কেরানীগঞ্জ থেকে আমরা এই হত্যাকান্ডের মূল হোতাসহ চারজনকে আটক করি। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আলামত হিসেবে একটি মোটরসাইকেল ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার জব্দ করা হয়।

হত্যাকান্ডের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, নিহত আসাদুল ও গ্রেপ্তারকৃত আকতারের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। যার প্রেক্ষিতে আসাদুলকে আসামীকে করে একটি মামলা করে আকতার। সেই মামলার আসাদুল পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় এবং জেলেও যায়। কিছুদিন আগে আসাদুল জামিনে বের হয়ে আসে। এছাড়া আকতার ও আসাদুলের টাকা-পয়সা সংক্রান্ত একটি বিরোধও আছে। এই দুইটি কারণে আকতার প্রতিশোধ নিতে আসাদুলকে তারই বন্ধুদের সহায়তায় মধ্যরাতে ডেকে এনে ছুরিকাঘাতে এবং ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে।

গ্রেফতারকৃত চারজনের বাইরেও আমরা আরো কয়েকজনের নাম পেয়েছি। তাদের ধরতে আমরা অভিযান অব্যহত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, এই ঘটনায় নিহতে চাচাতো বোন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে। সেই মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং আমরা আদালতে রিমান্ডের আবেদনও করবো।

গ্রেফতারকৃত এবং নিহতের নামে একাধিক মামলা রয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত নিহত আসাদুলের নামে ৬টি মামলা পেয়েছি। এর মধ্যে ৪টি মাদক মামলা, একটি অন্য ধারার মামলা, অন্যটি দ্রুত বিচার আইনের মামলা। গ্রেপ্তারকৃত মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক ও  ছিনতাইয়ের ৭টি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি ও নয়নের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা পেয়েছি। আকতারের বিরুদ্ধে আমরা এখনো কোনো মামলা পাইনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ঘটনায় দেখা গেছে, বাইরে থেকে কিছু সন্ত্রাসী এসে অপরাধ করে আবার চলে গেছে এবং অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এজন্যই আমরা ঢাকার বাইরে থেকে তাদের গ্রেফতার করেছি। আমরা চেকপোস্ট জোরদার করব এবং চলমান অভিযান আরও শক্তিশালী করব, যাতে বাইরে থেকে এসে কেউ অপরাধ করতে না পারে এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

গ্রেফতারকৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা আকতারের রাজনৈতিক পরিচয় পেয়েছি। সেটি আমরা যাচাই-বাছাই করছি।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকার সাদেক খানের ইটখোলা সংলগ্ন রাস্তায় আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। তিনি বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার কালনা এলাকার জলিল সর্দারের ছেলে। পরিবার নিয়ে মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিংয়ের বি-ব্লকের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

এই ঘটনায় পুলিশের বাইরে র‍্যাব-২ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন, আসাদুল ইসলাম ও মো. শাওন। তাদের মোহাম্মদপুরের মেট্রোহাউজিং এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।