গ্রেফতারি পরোয়ানা উপেক্ষা, প্রকাশ্যেই সক্রিয় ডেমরার ভুমিদস্যু জুনায়েদ সিন্ডিকেট
- আপডেট: ০৭:১৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৮০০৫
মোঃ মনিরুজ্জামান মনির:
রাজধানীর ডেমরা রাজস্ব সার্কেলকে কেন্দ্র করে বহুল আলোচিত ও আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠা ভূমিদস্যু জুনায়েদকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে যা শুধু একটি ব্যক্তির অপরাধ কর্মকাণ্ড নয় বরং একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের বিস্তৃতি ও প্রভাবের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। দীর্ঘদিন ধরে জাল দলিল, প্রতারণা, ভূমি দখল এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে অভিযুক্ত এই ব্যক্তিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। যেখানে সাধারণ মানুষ নিজেদের বৈধ সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন এবং আইনের আশ্রয় নিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে জুনায়েদ কেবল একজন প্রতারক নয় বরং একটি শক্তিশালী ভূমিদস্যু চক্রের নেতৃত্বদানকারী যার মাধ্যমে ডেমরা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জমির মালিকানা জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়ে আসছে। এতে করে অসংখ্য মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ছেন এবং অনেকেই শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ এই চক্রের কার্যক্রম এতটাই সুসংগঠিত যে তারা প্রথমে জমির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এরপর জাল দলিল তৈরি করে রেকর্ড পরিবর্তন করিয়ে নেয় এবং পরবর্তীতে দখল নিশ্চিত করে যার পেছনে ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ থাকার অভিযোগও রয়েছে। ঘুষ ও প্রভাবের বিনিময়ে এসব জালিয়াতিকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা ফলে প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো এই সিন্ডিকেট কেবল ভূমি দখলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপরও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের এক সৎ কর্মকর্তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তদবির চালানোর ঘটনাটি পরিস্থিতির গভীরতা স্পষ্ট করে যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে জুনায়েদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় দায়ের হওয়া মামলাগুলো তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের ইঙ্গিত বহন করে তবুও দীর্ঘ সময় ধরে গ্রেফতার এড়ানো রহস্যজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে একাধিক মিসকেস মামলায় জাল দলিল সৃষ্টির অভিযোগে তার নাম উঠে আসা এবং একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে যেখানে ভুক্তভোগীরা দাবি করছেন তারা প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে গিয়ে আরও বিপাকে পড়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে আদালতের নির্দেশে দৈনিক খবরপত্র ও বিজনেস বাংলাদেশ নামক পত্রিকার মাধ্যমে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩১, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, ঢাকা থেকে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতার সমনাদি বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়েছে যা প্রমাণ করে যে বিষয়টি আদালতের নজরেও এসেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবুও বাস্তবতায় তার গ্রেফতার না হওয়া জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের সহযোগিতার কারণে এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে টিকে আছে যার ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ভীতি ও হয়রানির কারণে অনেক সময় মুখ খুলতে সাহস পান না, আবার কেউ কেউ আইনি সহায়তা নিতে গিয়েও নানা বাধার সম্মুখীন হন। অনুসন্ধানে জানা যায় বিগত ফ্যাসিস্ট আ.লীগের অনেক আমলা ও বড় বড় নেতাদের ছত্রছায়ায় জুনায়েদ এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যা বর্তমানেও তার ক্ষমতার কমতি নেই। তার পেশি শক্তি ও লাঠিয়াল বাহিনীর কারনে জনসাধারন জিম্মি হয়ে পড়েছে তার কাছে। তার অবৈধ কালো টাকার ক্ষমতায় প্রশাসনও নিরুপায় হয়ে পড়েছে বলে জানা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে এ ধরনের ভূমিদস্যুতা শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের ক্ষতি নয় বরং সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় ভূমি ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয় যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সমন্বিত তদন্ত, জড়িতদের চিহ্নিতকরণ এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ডিজিটাল নজরদারি জোরদার না করলে এ ধরনের অপরাধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের একটাই দাবি এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক অন্যথায় ডেমরা অঞ্চলে ভূমিদস্যুতার এই অঘোষিত সাম্রাজ্য আরও বিস্তৃত হয়ে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকাকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেবে।



















