০৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যার ঘটনায় মামলা, এজাহারে নাম আছে যাদের

  • আপডেট: ০৫:৫১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর নিউমার্কেট থানাধীন শাহনেওয়াজ হলের সামনে বটতলা এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাইম আহমেদ টিটন (৫১) নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বাদী হয়ে নিউ মার্কেট থানায় মামলাটি করেন। তবে আলোচিত এই হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

এজাহারে ঘটনার পেছনে গরুর হাটের ইজারা (শিডিউল) নিয়ে বিরোধকে দায়ী করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, টিটন গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার খাপুরা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর গতবছরের ১৩ আগস্ট আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। এরপর ঢাকার হাজারীবাগের সুলতানগঞ্জ এলাকার একটি বাসায় বসবাস শুরু করেন।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, টিটন অতীতে পরিবারের আর্থিক ক্ষতির জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে বড় ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তিনি নতুন করে ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করছিলেন এবং একটি গরুর হাটের ইজারা (শিডিউল) কেনার কথাও জানান।

এ ইজারা নিয়ে এনামুল হাসান হেলাল (পিচ্ছি হেলাল), বাদল (কিলার বাদল/কাইলা বাদল), শাজাহান ও রনি (ভাঙ্গারি রনি)সহ কয়েকজনের সঙ্গে টিটনের বিরোধ তৈরি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ২৭ এপ্রিল টিটন তার বড় ভাইকে ফোন করে জানান, প্রতিপক্ষ তাকে ডেকেছে এবং তারা সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করতে চায়।

এর পরদিন ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে শাহনেওয়াজ হলের সামনে বটতলা পাকা সড়কে টিটনের ওপর হামলা চালানো হয়।

এজাহারে বলা হয়, মোটরসাইকেলে করে আসা দুইজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি এবং তাদের সঙ্গে থাকা আরও ৫ থেকে ৭ জনের পরিকল্পনায় টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়।

গুলিতে তার ডান কানের উপরের অংশ, বাম ভ্রুর উপরের কপাল, পিঠের বাম পাশের নিচে ও ডান পাশের ওপরের অংশ, বাম হাতের কনুইয়ের উপরের সামনের দিক ও নিচের অংশ এবং বাম বগলের নিচে গুরুতর আঘাত লাগে। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টা ২৭ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার খবর পেয়ে বাদী যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ২৯ এপ্রিল ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পৌঁছে ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন। এ সময় তিনি নিউমার্কেট থানা পুলিশের প্রস্তুত করা সুরতহাল রিপোর্টের সময় উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নিউমার্কেট থানায় এসে তিনি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখিতদের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাদী।

এদিকে বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এই হত্যার ঘটনায় গোয়েন্দারা মাঠে কাজ করছে। এরইমধ্যে বেশ কয়েকজনকে শনাক্তও করা হয়েছে। দ্রুত একটা ভালো ফলাফল মিলবে বলে জানান পুলিশের এই ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা।

২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় ২ নম্বরে থাকা টিটন ছিলেন দেশের অপরাধজগতের এক পরিচিত নাম। পুলিশের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই তিনি হত্যার শিকার হন। তিনি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক ছিলেন।

১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে স্থানীয় অপরাধী চক্রের মাধ্যমে অপরাধজগতে প্রবেশ করে টিটন ধীরে ধীরে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়া ছাড়াও তিনি অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। তার বিরুদ্ধে বহু হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা অন্যতম।

১৯৬৬ সালে জন্ম নেওয়া টিটনের বাবা কে এম ফখরুদ্দিন এবং মা আকলিমা বেগম। ২০০৪ সালে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যার ঘটনায় মামলা, এজাহারে নাম আছে যাদের

আপডেট: ০৫:৫১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর নিউমার্কেট থানাধীন শাহনেওয়াজ হলের সামনে বটতলা এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাইম আহমেদ টিটন (৫১) নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বাদী হয়ে নিউ মার্কেট থানায় মামলাটি করেন। তবে আলোচিত এই হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

এজাহারে ঘটনার পেছনে গরুর হাটের ইজারা (শিডিউল) নিয়ে বিরোধকে দায়ী করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, টিটন গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার খাপুরা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর গতবছরের ১৩ আগস্ট আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। এরপর ঢাকার হাজারীবাগের সুলতানগঞ্জ এলাকার একটি বাসায় বসবাস শুরু করেন।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, টিটন অতীতে পরিবারের আর্থিক ক্ষতির জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে বড় ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তিনি নতুন করে ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করছিলেন এবং একটি গরুর হাটের ইজারা (শিডিউল) কেনার কথাও জানান।

এ ইজারা নিয়ে এনামুল হাসান হেলাল (পিচ্ছি হেলাল), বাদল (কিলার বাদল/কাইলা বাদল), শাজাহান ও রনি (ভাঙ্গারি রনি)সহ কয়েকজনের সঙ্গে টিটনের বিরোধ তৈরি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ২৭ এপ্রিল টিটন তার বড় ভাইকে ফোন করে জানান, প্রতিপক্ষ তাকে ডেকেছে এবং তারা সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করতে চায়।

এর পরদিন ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে শাহনেওয়াজ হলের সামনে বটতলা পাকা সড়কে টিটনের ওপর হামলা চালানো হয়।

এজাহারে বলা হয়, মোটরসাইকেলে করে আসা দুইজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি এবং তাদের সঙ্গে থাকা আরও ৫ থেকে ৭ জনের পরিকল্পনায় টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়।

গুলিতে তার ডান কানের উপরের অংশ, বাম ভ্রুর উপরের কপাল, পিঠের বাম পাশের নিচে ও ডান পাশের ওপরের অংশ, বাম হাতের কনুইয়ের উপরের সামনের দিক ও নিচের অংশ এবং বাম বগলের নিচে গুরুতর আঘাত লাগে। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টা ২৭ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার খবর পেয়ে বাদী যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ২৯ এপ্রিল ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পৌঁছে ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন। এ সময় তিনি নিউমার্কেট থানা পুলিশের প্রস্তুত করা সুরতহাল রিপোর্টের সময় উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নিউমার্কেট থানায় এসে তিনি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখিতদের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাদী।

এদিকে বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এই হত্যার ঘটনায় গোয়েন্দারা মাঠে কাজ করছে। এরইমধ্যে বেশ কয়েকজনকে শনাক্তও করা হয়েছে। দ্রুত একটা ভালো ফলাফল মিলবে বলে জানান পুলিশের এই ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা।

২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় ২ নম্বরে থাকা টিটন ছিলেন দেশের অপরাধজগতের এক পরিচিত নাম। পুলিশের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই তিনি হত্যার শিকার হন। তিনি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক ছিলেন।

১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে স্থানীয় অপরাধী চক্রের মাধ্যমে অপরাধজগতে প্রবেশ করে টিটন ধীরে ধীরে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়া ছাড়াও তিনি অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। তার বিরুদ্ধে বহু হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা অন্যতম।

১৯৬৬ সালে জন্ম নেওয়া টিটনের বাবা কে এম ফখরুদ্দিন এবং মা আকলিমা বেগম। ২০০৪ সালে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে।