০৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় তামাকপণ্যের কর বৃদ্ধির বিকল্প নেই: নারী মৈত্রীর সভায় বক্তারা

  • আপডেট: ০৫:০১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / ১৮০০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও কর বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নারী মৈত্রী আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণদের সুরক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যে কর বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, তরুণদের শক্তি ও নেতৃত্ব আজ দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো মুনাফার জন্য তরুণদের আসক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আসন্ন বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধি করলে তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও অগ্রগতি সম্ভব হবে। এ বিষয়ে তিনি সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলেও জানান।

আলোচনা সভায় তুলে ধরা তথ্যে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। দেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
বক্তারা জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা হলেও তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। ফলে প্রাপ্ত রাজস্বের তুলনায় ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি।

সভায় বর্তমান তামাক কর কাঠামোকে জটিল ও অকার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়। বক্তাদের মতে, সিগারেটের চারটি মূল্যস্তর থাকায় ভোক্তারা সহজেই এক স্তর থেকে অন্য স্তরে চলে যেতে পারেন, ফলে কর বৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত প্রভাব পড়ে না।

তারা আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর চারটি থেকে কমিয়ে তিনটিতে আনার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি নিম্ন স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের দাম ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৫০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে সব স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখা এবং প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা নির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট-এর পরিচালক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, দেশে তামাকপণ্যের খুচরা মূল্য কম হওয়ায় উচ্চ করহারও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবিত কর ও মূল্য বৃদ্ধি কার্যকর হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু থেকে বিরত থাকবে। একই সঙ্গে সরকার প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় করতে পারবে।

সভায় শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও বিড়ি-সিগারেট এখনও সহজলভ্য থাকায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে তামাকসেবন কমছে না। তাই তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে তরুণ প্রতিনিধিরাও তামাকবিরোধী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হলে তামাকপণ্যকে তাদের নাগালের বাইরে নিতে হবে।

শাহীন আকতার ডলি-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নারী মৈত্রী তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, শিক্ষক ফোরাম, সাংবাদিক ফোরাম ও ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় তামাকপণ্যের কর বৃদ্ধির বিকল্প নেই: নারী মৈত্রীর সভায় বক্তারা

আপডেট: ০৫:০১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও কর বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নারী মৈত্রী আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণদের সুরক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যে কর বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, তরুণদের শক্তি ও নেতৃত্ব আজ দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো মুনাফার জন্য তরুণদের আসক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আসন্ন বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধি করলে তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও অগ্রগতি সম্ভব হবে। এ বিষয়ে তিনি সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলেও জানান।

আলোচনা সভায় তুলে ধরা তথ্যে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। দেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
বক্তারা জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা হলেও তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। ফলে প্রাপ্ত রাজস্বের তুলনায় ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি।

সভায় বর্তমান তামাক কর কাঠামোকে জটিল ও অকার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়। বক্তাদের মতে, সিগারেটের চারটি মূল্যস্তর থাকায় ভোক্তারা সহজেই এক স্তর থেকে অন্য স্তরে চলে যেতে পারেন, ফলে কর বৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত প্রভাব পড়ে না।

তারা আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর চারটি থেকে কমিয়ে তিনটিতে আনার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি নিম্ন স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের দাম ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৫০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে সব স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখা এবং প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা নির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট-এর পরিচালক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, দেশে তামাকপণ্যের খুচরা মূল্য কম হওয়ায় উচ্চ করহারও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবিত কর ও মূল্য বৃদ্ধি কার্যকর হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু থেকে বিরত থাকবে। একই সঙ্গে সরকার প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় করতে পারবে।

সভায় শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও বিড়ি-সিগারেট এখনও সহজলভ্য থাকায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে তামাকসেবন কমছে না। তাই তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে তরুণ প্রতিনিধিরাও তামাকবিরোধী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হলে তামাকপণ্যকে তাদের নাগালের বাইরে নিতে হবে।

শাহীন আকতার ডলি-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নারী মৈত্রী তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, শিক্ষক ফোরাম, সাংবাদিক ফোরাম ও ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।