০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

‘মতাদর্শ নয়, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ’

  • আপডেট: ০৭:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের এক বক্তব্যকে ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।

‘জাতীয়তাবাদীর আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি’—এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে সমালোচনা ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ে।

এর পর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে ব্যাখ্যা তুলে ধরা হচ্ছে। সেখানে বলা হচ্ছে, ‘জাতীয়তাবাদ’ শব্দটি রাজনৈতিক দলের পরিচয় হিসেবে নয়, বরং দেশপ্রেম ও আদর্শিক চেতনা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছিল। জাতীয়তাবাদ এবং জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল—দুটি ভিন্ন বিষয় বলেও ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক ব্যাখ্যায় দাবি করা হয়, বক্তব্যের ভাষাগত অর্থ না বুঝেই অনেকেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয় বলেও সেখানে মত দেওয়া হয়।

১১ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় বক্তব্য দেন রেজাউল করিম মল্লিক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তারেক রহমান। বক্তব্যে তিনি নিজের দীর্ঘ চাকরি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, বঞ্চনা ও মানসিক চাপের বিষয় তুলে ধরেন।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, দীর্ঘ সময় একই পদে দায়িত্ব পালন, পদোন্নতিতে বিলম্ব এবং দূরবর্তী এলাকায় পদায়নের মতো অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলেছে। সেই বাস্তবতার কথাই আবেগের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছিল।

এ ছাড়া সেখানে বলা হয়, একজন মানুষের ব্যক্তিগত আদর্শ বা ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে। তবে সেটিকে ঘিরে বিদ্রূপ বা ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

ব্যাখ্যায় আরও দাবি করা হয়, ওই বক্তব্য কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা ছিল না; বরং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে পুলিশে যোগদান করেন রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি একসময় প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত বিশেষায়িত সংস্থা ‘চেয়ারপারসন’স সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে এ সম্পৃক্ততা তার কর্মজীবনে নানা সময়ে প্রভাব ফেলেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়ে তিনি পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত ছিলেন এবং অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়িত হন।

চাকুরিজীবনে ১৭ মাসের মাথায় তাকে হাসিনা সরকার চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়। পরবর্তীতে ৪ বছর পর মামলা করে আবার চাকুরিতে পুনর্বহাল হন।

পুলিশ সুপার হিসেবে সিআইডিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাকে প্রতিদিন অফিস হাজিরার সময় শেখ মুজিবুর রহমান ও তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির নিচে দাঁড়িয়ে হাজিরা হিসেবে মোবাইলে ছবি তুলে তৎকালীন সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়াকে পাঠাতে হতো। নিজে কিংবা পরিবারের কেউ অসুস্থ হলেও তাঁর জন্য ছুটি পাওয়া ছিল কষ্টকর।

৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ডিবিকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। বিশেষ করে তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, সচিব, আইজিপি, সেনা-নৌ বাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী সহ ৩০০-এর অধিক বড় বড় পদধারীদের দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেন রেজাউল করিম মল্লিক।

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ডিবিকে মানুষ ‘হারুনের ভাতের হোটেল’ নামে চিনতো। রেজাউল করিম মল্লিক ডিবিপ্রধান হবার পর পুলিশের এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাটি শতভাগ সেবামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম ফিরে পায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

‘মতাদর্শ নয়, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ’

আপডেট: ০৭:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের এক বক্তব্যকে ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।

‘জাতীয়তাবাদীর আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি’—এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে সমালোচনা ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ে।

এর পর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে ব্যাখ্যা তুলে ধরা হচ্ছে। সেখানে বলা হচ্ছে, ‘জাতীয়তাবাদ’ শব্দটি রাজনৈতিক দলের পরিচয় হিসেবে নয়, বরং দেশপ্রেম ও আদর্শিক চেতনা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছিল। জাতীয়তাবাদ এবং জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল—দুটি ভিন্ন বিষয় বলেও ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক ব্যাখ্যায় দাবি করা হয়, বক্তব্যের ভাষাগত অর্থ না বুঝেই অনেকেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয় বলেও সেখানে মত দেওয়া হয়।

১১ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় বক্তব্য দেন রেজাউল করিম মল্লিক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তারেক রহমান। বক্তব্যে তিনি নিজের দীর্ঘ চাকরি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, বঞ্চনা ও মানসিক চাপের বিষয় তুলে ধরেন।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, দীর্ঘ সময় একই পদে দায়িত্ব পালন, পদোন্নতিতে বিলম্ব এবং দূরবর্তী এলাকায় পদায়নের মতো অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলেছে। সেই বাস্তবতার কথাই আবেগের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছিল।

এ ছাড়া সেখানে বলা হয়, একজন মানুষের ব্যক্তিগত আদর্শ বা ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে। তবে সেটিকে ঘিরে বিদ্রূপ বা ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

ব্যাখ্যায় আরও দাবি করা হয়, ওই বক্তব্য কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা ছিল না; বরং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে পুলিশে যোগদান করেন রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি একসময় প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত বিশেষায়িত সংস্থা ‘চেয়ারপারসন’স সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে এ সম্পৃক্ততা তার কর্মজীবনে নানা সময়ে প্রভাব ফেলেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়ে তিনি পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত ছিলেন এবং অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়িত হন।

চাকুরিজীবনে ১৭ মাসের মাথায় তাকে হাসিনা সরকার চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়। পরবর্তীতে ৪ বছর পর মামলা করে আবার চাকুরিতে পুনর্বহাল হন।

পুলিশ সুপার হিসেবে সিআইডিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাকে প্রতিদিন অফিস হাজিরার সময় শেখ মুজিবুর রহমান ও তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির নিচে দাঁড়িয়ে হাজিরা হিসেবে মোবাইলে ছবি তুলে তৎকালীন সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়াকে পাঠাতে হতো। নিজে কিংবা পরিবারের কেউ অসুস্থ হলেও তাঁর জন্য ছুটি পাওয়া ছিল কষ্টকর।

৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ডিবিকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। বিশেষ করে তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, সচিব, আইজিপি, সেনা-নৌ বাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী সহ ৩০০-এর অধিক বড় বড় পদধারীদের দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেন রেজাউল করিম মল্লিক।

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ডিবিকে মানুষ ‘হারুনের ভাতের হোটেল’ নামে চিনতো। রেজাউল করিম মল্লিক ডিবিপ্রধান হবার পর পুলিশের এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাটি শতভাগ সেবামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম ফিরে পায়।