৩৪১ পুলিশ সদস্য পেলেন ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ’
- আপডেট: ০৮:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
- / ১৮০০১
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
দৃষ্টান্তমূলক ও প্রশংসনীয় কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৪১ জন পুলিশ সদস্যকে ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো.আলী হোসেন ফকির সংশ্লিষ্ট সদস্যদের হাতে ব্যাজ তুলে দেন ও পরিয়ে দেন।
গত ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ অবদান, পেশাদারিত্ব ও সেবার স্বীকৃতিতে তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আইজি’জ ব্যাজ, শীল্ড প্যারেড, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এই ব্যাজ পড়িয়ে দেন আইজিপি।
অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, মাদক আমাদের যুব সমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলেন, পুলিশ বাহিনীর কোন সদস্যের বিরুদ্ধে যদি মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আইজিপি আরও বলেন,বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী ও পেশাদার বাহিনী। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে পুলিশের প্রত্যেক সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আজকে পুরস্কারপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাদের সাহস, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি পুলিশের সকল সদস্যকে দেশের কল্যাণে আরো নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
পুলিশ সদরদপ্তর জানায়, অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক ও প্রশংসনীয় কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৪১ জন পুলিশ সদস্যকে ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৫’ প্রদান করা হয়। আইজিপি তাদেরকে ব্যাজ পরিয়ে দেন।
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানের ফলাফলের ভিত্তিতে গত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সাফল্য অর্জনকারী ইউনিটসমূহকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ‘ক’ গ্রুপে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রথম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্বিতীয় ও কুমিল্লা জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘খ’ গ্রুপে কক্সবাজার জেলা পুলিশ প্রথম,কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ দ্বিতীয়, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘গ’ গ্রুপে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ প্রথম, মাগুরা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও এপিবিএন তৃতীয় হয়েছে। ‘ঘ’ গ্রুপে র্যাব-১১ প্রথম, র্যাব-১৫ দ্বিতীয় ও র্যাব-২ তৃতীয় হয়েছে। ‘ঙ’ গ্রুপে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রথম, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ দ্বিতীয় ও ডিএমপির মিরপুর বিভাগ তৃতীয় হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তর আরও জানায়,২০২৫ সালে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে ‘ক’ গ্রুপে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ প্রথম, কুমিল্লা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘খ’ গ্রুপে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ ১ম, কক্সবাজার জেলা পুলিশ ২য় এবং হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ ৩য় হয়েছে। ‘গ’ গ্রুপে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ প্রথম,শেরপুর জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও গাজীপুর জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘ঘ’ গ্রুপে র্যাব-১৫ প্রথম, র্যাব-৯ দ্বিতীয় ও র্যাব-১১ তৃতীয় হয়েছে। ‘ঙ’ গ্রুপে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগ প্রথম, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ দ্বিতীয় ও ডিএমপির মতিঝিল বিভাগ তৃতীয় হয়েছে। ‘চ’ গ্রুপে হাইওয়ে পুলিশ প্রথম, রেলওয়ে পুলিশ দ্বিতীয় এবং এপিবিএন তৃতীয় হয়েছে।
শীল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে যৌথ মেট্রোপলিটন দল, দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে এপিবিএন দল এবং তৃতীয় হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ দল।



















