১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

বেড়া-চরবর্ণিয়া সেতু বদলে দেবে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলের মানুষের জীবন

  • আপডেট: ০১:২৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / ১৮০২১

নেক মোহাম্মদ, বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:

পাবনার বেড়া থেকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি, এনায়েতপুর হয়ে সায়দাবাদ পর্যন্ত সংযোগ সড়ক এবং যমুনা নদীর ওপর প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগে নতুন আশার আলো দেখছেন দুই জেলার চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নেওয়া এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদ, এনায়েতপুর ও কৈজুরি হয়ে পাবনার বেড়া পর্যন্ত প্রায় ৬৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বেড়া থেকে চরবর্ণীয়া ঘাট পর্যন্ত যমুনা নদীর ওপর প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

স্থানীয়দের মতে, এই সেতু ও সড়ক নির্মিত হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে নৌপথই এসব এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা। এতে শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সেতু চালু হলে শিক্ষার্থীরা সহজে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবে। একই সঙ্গে জরুরি রোগীদের দ্রুত উপজেলা ও জেলা শহরের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার মানও উন্নত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের কৃষকরাও প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বড় ধরনের সুবিধা পাবেন। চরাঞ্চলে উৎপাদিত ধান, পাট, সবজি, মাছ ও গবাদিপশু দ্রুত এবং কম খরচে বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও কমাতে পারবেন।

চরওমরপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন, “সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।”

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফাহান সুমেল বলেন, “এই সেতু বাস্তবায়িত হলে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে। সময় ও যাতায়াত ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটানো

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

বেড়া-চরবর্ণিয়া সেতু বদলে দেবে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলের মানুষের জীবন

আপডেট: ০১:২৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

নেক মোহাম্মদ, বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:

পাবনার বেড়া থেকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি, এনায়েতপুর হয়ে সায়দাবাদ পর্যন্ত সংযোগ সড়ক এবং যমুনা নদীর ওপর প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগে নতুন আশার আলো দেখছেন দুই জেলার চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নেওয়া এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদ, এনায়েতপুর ও কৈজুরি হয়ে পাবনার বেড়া পর্যন্ত প্রায় ৬৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বেড়া থেকে চরবর্ণীয়া ঘাট পর্যন্ত যমুনা নদীর ওপর প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

স্থানীয়দের মতে, এই সেতু ও সড়ক নির্মিত হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে নৌপথই এসব এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা। এতে শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সেতু চালু হলে শিক্ষার্থীরা সহজে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবে। একই সঙ্গে জরুরি রোগীদের দ্রুত উপজেলা ও জেলা শহরের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার মানও উন্নত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের কৃষকরাও প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বড় ধরনের সুবিধা পাবেন। চরাঞ্চলে উৎপাদিত ধান, পাট, সবজি, মাছ ও গবাদিপশু দ্রুত এবং কম খরচে বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও কমাতে পারবেন।

চরওমরপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন, “সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।”

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফাহান সুমেল বলেন, “এই সেতু বাস্তবায়িত হলে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে। সময় ও যাতায়াত ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটানো