০২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই: ডিএমপি কমিশনার

  • আপডেট: ০১:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / ১৮০০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। ঢাকা মহানগরে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

বুধবার (২০ মে) মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, বর্তমান গনতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম মূল অঙ্গীকার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। ঢাকা মহানগরীতে এই লক্ষ্য অর্জনে ডিএমপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সম্প্রতি সমাপ্ত পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর স্লোগান “আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” আমাদের দর্শনকে প্রতিফলিত করে। আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীতে প্রায় তিন কোটি মানুষের বসবাস। এই নগরীতে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদকের বিস্তার, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও হ্যাকিংয়ের মতো অপরাধসমূহের বিরুদ্ধে গত ১ মে থেকে ডিএমপি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। সাইবার হ্যাকিং ও সাইবার বুলিং, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণাসহ অনলাইনভিত্তিক অপরাধসমূহ প্রতিরোধে ডিএমপি নিরলসভাবে কাজ করছে।

নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা দিতে ডিএমপির সাইবার ইউনিটকে ক্রমশ: শক্তিশালী করা হচ্ছে। সম্প্রতি ডিএমপির সিটিটিসির অধীনে স্থাপিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে, যা সাইবার সুরক্ষা আইন এর অধীন মামলা সমূহের তদন্তে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরো বলেন, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী এবং অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলমান রয়েছে। ছিনতাই এবং যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। অপরাধী যে-ই হোক, তার কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা ট্রাফিক জ্যাম। আমরা ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও সচল করতে নিত্যনতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছি এবং চালক ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি। আমরা এরই মধ্যে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে প্রযুক্তিনির্ভর করেছি। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এআই ভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে সড়কে আইন মানার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কমিশনার বলেন, নাগরিকদের অনলাইন জিডি করার সুবিধাসহ সকল ধরনের অপরাধের তথ্য শেয়ার করার জন্য “হ্যালো ডিএমপি” এবং হোটেলে অস্থানকারী সন্ধিগ্ধ ব্যক্তি ও অপরাধী সনাক্তকরণের নিমিত্তে “হোটেল বোর্ডার সিস্টেম” সহ বেশ কিছু প্রযুক্তি নির্ভর অ্যাপস চালু করা হয়েছে। ডিএমপিকে আরও জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানির পশুর হাট, ঈদ জামাত, শপিংমল ও আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদের ছুটিতে নগরীর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নগদ টাকার লেনদেন কমিয়ে ব্যাংকে লেনদেন করার জন্য এবং বড় অংকের আর্থিক লেনদেন করলে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আসন্ন ঈদকে ঘিরে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও জালনোট প্রতিরোধে ডিবি ও থানা পুলিশকে সক্রিয় করা হয়েছে। ডিএমপি’র প্রতিটি থানায় মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। আমরা ঢাকার সম্মানিত নাগরিকদের মতামত নিয়ে সর্বোত্তম পুলিশি সেবা দিতে চাই। অনেক ক্ষেত্রে জনসাধারণের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের কাজ করা দুরূহ। চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সমাজের সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

ঢাকার এই বিশাল জনসমষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল পুলিশের একার পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। আইনশৃঙ্খলার টেকসই উন্নয়ন এবং একটি নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে আমি সম্মানিত নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। আপনার এলাকায় কোনো ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি কিংবা চাঁদাবাজের তথ্য থাকলে অবিলম্বে পুলিশকে জানান। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে জানান, পুলিশ তড়িৎ ব্যবস্থা নেবে। পুলিশের কোন সদস্য যদি ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব করে তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।

আপনাদের একটি সঠিক তথ্য বড় কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনা রুখে দিতে পারে। আসন্ন ঈদুল আযহায় পশুর হাটে কেনাবেচা থেকে শুরু করে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা রক্ষায় আপনারা সচেতন থাকবেন এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলে আমাদের আধুনিকায়নের এই যাত্রাকে সফল করতে সহায়তা করবেন।

কমিশনার বলেন, আপনারা আপনাদের লেখনী ও রিপোর্টের মাধ্যমে আমাদের যেমন গঠনমূলক সমালোচনা করবেন, তেমনি পুলিশের ভালো কাজেরও প্রচার করে নগরবাসীকে সচেতন করতে ভূমিকা রাখবেন। আপনাদের কাছে যদি চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদকসহ যে কোনো অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকে আমাদেরকে দিন, আমরা ব্যবস্থা নিব।
পুলিশ, গণমাধ্যম ও জনগণ — আমরা সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে ঢাকাকে একটি নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। ডিএমপি সবসময় আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।

মিট দ্যা প্রেসে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) সানা শামীনুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি, পিপিএম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই: ডিএমপি কমিশনার

আপডেট: ০১:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। ঢাকা মহানগরে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

বুধবার (২০ মে) মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, বর্তমান গনতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম মূল অঙ্গীকার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। ঢাকা মহানগরীতে এই লক্ষ্য অর্জনে ডিএমপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সম্প্রতি সমাপ্ত পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর স্লোগান “আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” আমাদের দর্শনকে প্রতিফলিত করে। আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীতে প্রায় তিন কোটি মানুষের বসবাস। এই নগরীতে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদকের বিস্তার, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও হ্যাকিংয়ের মতো অপরাধসমূহের বিরুদ্ধে গত ১ মে থেকে ডিএমপি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। সাইবার হ্যাকিং ও সাইবার বুলিং, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণাসহ অনলাইনভিত্তিক অপরাধসমূহ প্রতিরোধে ডিএমপি নিরলসভাবে কাজ করছে।

নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা দিতে ডিএমপির সাইবার ইউনিটকে ক্রমশ: শক্তিশালী করা হচ্ছে। সম্প্রতি ডিএমপির সিটিটিসির অধীনে স্থাপিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে, যা সাইবার সুরক্ষা আইন এর অধীন মামলা সমূহের তদন্তে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরো বলেন, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী এবং অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলমান রয়েছে। ছিনতাই এবং যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। অপরাধী যে-ই হোক, তার কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা ট্রাফিক জ্যাম। আমরা ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও সচল করতে নিত্যনতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছি এবং চালক ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি। আমরা এরই মধ্যে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে প্রযুক্তিনির্ভর করেছি। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এআই ভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে সড়কে আইন মানার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কমিশনার বলেন, নাগরিকদের অনলাইন জিডি করার সুবিধাসহ সকল ধরনের অপরাধের তথ্য শেয়ার করার জন্য “হ্যালো ডিএমপি” এবং হোটেলে অস্থানকারী সন্ধিগ্ধ ব্যক্তি ও অপরাধী সনাক্তকরণের নিমিত্তে “হোটেল বোর্ডার সিস্টেম” সহ বেশ কিছু প্রযুক্তি নির্ভর অ্যাপস চালু করা হয়েছে। ডিএমপিকে আরও জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানির পশুর হাট, ঈদ জামাত, শপিংমল ও আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদের ছুটিতে নগরীর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নগদ টাকার লেনদেন কমিয়ে ব্যাংকে লেনদেন করার জন্য এবং বড় অংকের আর্থিক লেনদেন করলে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আসন্ন ঈদকে ঘিরে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও জালনোট প্রতিরোধে ডিবি ও থানা পুলিশকে সক্রিয় করা হয়েছে। ডিএমপি’র প্রতিটি থানায় মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। আমরা ঢাকার সম্মানিত নাগরিকদের মতামত নিয়ে সর্বোত্তম পুলিশি সেবা দিতে চাই। অনেক ক্ষেত্রে জনসাধারণের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের কাজ করা দুরূহ। চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সমাজের সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

ঢাকার এই বিশাল জনসমষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল পুলিশের একার পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। আইনশৃঙ্খলার টেকসই উন্নয়ন এবং একটি নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে আমি সম্মানিত নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। আপনার এলাকায় কোনো ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি কিংবা চাঁদাবাজের তথ্য থাকলে অবিলম্বে পুলিশকে জানান। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে জানান, পুলিশ তড়িৎ ব্যবস্থা নেবে। পুলিশের কোন সদস্য যদি ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব করে তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।

আপনাদের একটি সঠিক তথ্য বড় কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনা রুখে দিতে পারে। আসন্ন ঈদুল আযহায় পশুর হাটে কেনাবেচা থেকে শুরু করে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা রক্ষায় আপনারা সচেতন থাকবেন এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলে আমাদের আধুনিকায়নের এই যাত্রাকে সফল করতে সহায়তা করবেন।

কমিশনার বলেন, আপনারা আপনাদের লেখনী ও রিপোর্টের মাধ্যমে আমাদের যেমন গঠনমূলক সমালোচনা করবেন, তেমনি পুলিশের ভালো কাজেরও প্রচার করে নগরবাসীকে সচেতন করতে ভূমিকা রাখবেন। আপনাদের কাছে যদি চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদকসহ যে কোনো অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকে আমাদেরকে দিন, আমরা ব্যবস্থা নিব।
পুলিশ, গণমাধ্যম ও জনগণ — আমরা সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে ঢাকাকে একটি নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। ডিএমপি সবসময় আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।

মিট দ্যা প্রেসে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) সানা শামীনুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি, পিপিএম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।