০২:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

কোস্ট গার্ডের অভিযান:সুন্দরবনে দুই বাহিনীর জিম্মিদশা থেকে ২১ জেলে উদ্ধার

  • আপডেট: ০৩:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • / ১৮০১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

সুন্দরবনে পৃথক দুটি অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর জিম্মিদশা থেকে ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

শুক্রবার (২২ মে) এ তথ্য জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এর অংশ হিসেবে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গভীরে গেলে দয়াল বাহিনীর সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখাল এলাকা থেকে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে।পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, জিম্মিকৃত জেলেদের নিয়ে ডাকাতরা কয়রা থানার আন্দারমানিকের টোটা ও কেওড়াতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা বনের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে দয়াল বাহিনীর জিম্মিদশা থেকে ১০ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে কোস্ট গার্ড ও র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কুখ্যাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানার সুন্দরবনের শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল এলাকায় অবস্থান করছে।

পরে একইদিন বিকেল ৫টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা সেখানে আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা অভিযানিক দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালালে ডাকাতরা বনের গভীরে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও এক রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর জিম্মিদশা থেকে আরও ১১ জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

কোস্ট গার্ডের অভিযান:সুন্দরবনে দুই বাহিনীর জিম্মিদশা থেকে ২১ জেলে উদ্ধার

আপডেট: ০৩:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

সুন্দরবনে পৃথক দুটি অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর জিম্মিদশা থেকে ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

শুক্রবার (২২ মে) এ তথ্য জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এর অংশ হিসেবে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গভীরে গেলে দয়াল বাহিনীর সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখাল এলাকা থেকে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে।পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, জিম্মিকৃত জেলেদের নিয়ে ডাকাতরা কয়রা থানার আন্দারমানিকের টোটা ও কেওড়াতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা বনের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে দয়াল বাহিনীর জিম্মিদশা থেকে ১০ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে কোস্ট গার্ড ও র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কুখ্যাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানার সুন্দরবনের শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল এলাকায় অবস্থান করছে।

পরে একইদিন বিকেল ৫টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা সেখানে আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা অভিযানিক দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালালে ডাকাতরা বনের গভীরে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও এক রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর জিম্মিদশা থেকে আরও ১১ জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।