দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান,আগ্নেয়াস্ত্র পাচ্ছেন ডিএনসির মাঠ কর্মকর্তারা
- আপডেট: ০৮:৪০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / ১৮০০২
মো:দীন ইসলাম,ঢাকা
মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে পরিচালিত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে আগ্নেয়াস্ত্র পেতে যাচ্ছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। প্রথম ধাপে তাদের জন্য ২৭৫টি ৯ এমএম আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব অস্ত্র ব্যবহারের জন্য ইতোমধ্যে ২৬০ জন কর্মকর্তার বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।
এতদিন ডিএনসি কর্মকর্তাদের অধিকাংশ অভিযান পরিচালনা করতে হতো আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াই। অথচ সশস্ত্র মাদক কারবারি ও সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে প্রায়ই হামলার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। এতে বহু কর্মকর্তা আহত হয়েছেন, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় ১২৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন এবং দুজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে বিভিন্ন অভিযানে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে ৭৮টি পিস্তল, সাতটি শটগান, ১৭টি রিভলভার ও এক হাজারের বেশি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে ডিএনসি কর্মকর্তাদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালা অনুমোদন দেয় সরকার।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরের (ডিজিডিপি) তত্ত্বাবধানে অস্ত্রগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকার মোট ৫৯৫টি অস্ত্র কেনার অনুমোদন দিলেও প্রথম ধাপে ২৭৫টি ৯ এমএম পিস্তল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অস্ত্রের নিরাপদ ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩৫ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে অধিদপ্তরের ৫৭৯ জন কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে অংশ নিচ্ছেন। উপপরিদর্শক (এসআই), পরিদর্শক, সহকারী পরিচালক ও উপপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অস্ত্র পরিচালনা ও ব্যবহারবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, ‘মাদক কারবারিদের কাছে প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্র থাকে। আমাদের কর্মকর্তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়। নিরাপদ ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োজন। এতে অভিযান পরিচালনা, মাদক উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতারের সক্ষমতা বাড়বে।’
তবে অস্ত্র পেলেও তা ইচ্ছামতো ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সর্বশেষ উপায় হিসেবে। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথমে লাঠিচার্জ বা অন্যান্য ন্যূনতম বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। তা ব্যর্থ হলে আত্মরক্ষার্থে সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছোড়া যাবে। এরপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে জীবননাশের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সন্দেহভাজনের কোমরের নিচে বা পায়ে লক্ষ্য করে গুলি চালানো যাবে।
এ ছাড়া ডিএনসির নিজস্ব অস্ত্রাগার গড়ে ওঠার আগ পর্যন্ত পিস্তলগুলো জেলা প্রশাসকের ট্রেজারি, জেলা পুলিশ লাইনস বা সংশ্লিষ্ট থানার নিরাপদ হেফাজতে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



















