০৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

মিঠাপুকুরে এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদার রহমানের দুর্নীতির রাজত্ব, গৃহিণী স্ত্রীর নামে সম্পদের পাহাড়

  • আপডেট: ০৭:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮০০৮

সাফায়েত হোসেন :

ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার বাণিজ্য, প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ এবং শত শত লিখিত অভিযোগ থাকার পরও বহাল তবিয়তে আছেন রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিতর্কিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদার রহমান। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অর্থ এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে এবার তিনি বাগিয়ে নিয়েছেন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে প্রধান কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মিঠাপুকুর উপজেলা থেকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় তার পদায়ন বা ‘প্রাইজ পোস্টিং’ নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি বেতনভুক্ত একজন সাধারণ উপ-সহকারী প্রকৌশলী হয়েও তিনি ও তার গৃহিণী স্ত্রী শাহনাজ শারমীন মিলে কীভাবে দেশজুড়ে সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, তা নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এই কর্মকর্তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের বিবরণ ও বদলি বাণিজ্যের নেপথ্যের কাহিনী উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রংপুর সদরের জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা জুয়েল মিয়া। যার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও এলজিইডির অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী মাসুদার রহমান যার স্থায়ী ঠিকানা কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার জোড়গাছ ডাকঘরের অন্তর্গত পাত্রখাতা গ্রামে এবং বর্তমান ঠিকানা রংপুর শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের হনুমানতলার ইসলামপুরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের ৭৯ নম্বর বাসা। তিনি মিঠাপুকুর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজশ করে ভুয়া ভাউচার দাখিলপূর্বক সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন নিয়োগ বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রধান কার্যালয়ে তার দুর্নীতির খতিয়ান জমা পড়লেও রহস্যজনক কারণে তিনি প্রতিবারই পার পেয়ে গেছেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে গোবিন্দগঞ্জের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বড় উপজেলায় পদায়ন পেয়েছেন যা এলজিইডির সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সরকারি কোষাগার থেকে লুণ্ঠিত এই বিশাল অর্থ মাসুদার রহমান নিজের নামে না রেখে অত্যন্ত কৌশলে তার পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে তার স্ত্রী শাহনাজ শারমীনের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিতে রূপান্তর করেছেন।
লিখিত অভিযোগে সবচেয়ে চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য উঠে এসেছে। প্রকৌশলী মাসুদার রহমানের স্ত্রী শাহনাজ শারমীনের সম্পদের বিবরণীতে যেখানে দেখা যায় যে পেশায় একজন সাধারণ গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও তার নামে দেশের বিভিন্ন জেলায় কোটি কোটি টাকার জমি, বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, পরিবহন ব্যবসা ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাট গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের এই স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণ অত্যন্ত সুদীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। রংপুর শহরের হনুমানতলার ইসলামপুরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের ৭৯ নম্বর বর্তমান ঠিকানার জমিতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ৬ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন এই দম্পতি। এছাড়া রংপুরের অন্যতম অভিজাত এলাকা রাধাবল্লভে স্ত্রীর নামে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি দৃষ্টিনন্দন ৫ তলা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু রংপুরেই নয় কুড়িগ্রাম জেলা শহরেও শাহনাজ শারমীনের নামে প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের একটি ৬ তলা বিশাল ভবন রয়েছে। রংপুরের ধাপ বাজার এলাকায় তার স্ত্রীর নামে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে। আবাসন খাতের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জমিও তারা সস্তায় ও জোরপূর্বক গ্রাস করেছেন যার মধ্যে রংপুর শহরের লালবাগ এলাকায় ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে ১টি টিনশেড বাড়ি বানিয়ে মেস ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে এবং রংপুরের দর্শনা পাহাড়ী মৌজায় স্ত্রীর নামে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের ৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করাসহ পরশুরাম মৌজায় আরও ৩০ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে।
আবাসন ও ভূমির পাশাপাশি ব্যবসা এবং পরিবহন খাতেও এই দম্পতির বিনিয়োগ সাধারণ মানুষের কল্পনাকে হার মানায়। রংপুর-কাউনিয়া তিস্তা রোডে স্ত্রীর নামে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একটি ফিলিং স্টেশন বা তেলের পাম্প চালু করেছেন এই প্রকৌশলী। পরিবহন সেক্টরেও রয়েছে তাদের বিশাল আধিপত্য, যার অংশ হিসেবে রংপুর টু কুড়িগ্রাম রুটে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী বড় বাস, ৩টি মাইক্রোবাস ও ২টি প্রাইভেট কার রয়েছে তার স্ত্রীর নামে। এর বাইরে রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকে শাহনাজ শারমীনের নামে কোটি কোটি টাকা স্থায়ী আমানত হিসেবে জমা রয়েছে বলে অভিযোগে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন সাধারণ গৃহিণী কোনো বৈধ আয়ের উৎস ছাড়া কীভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেলেন এবং কীভাবে একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ক্ষমতার শীর্ষে বসে এই লুটপাট চালালেন, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগে আরও একটি গুরুতর বিষয় সামনে আনা হয়েছে যে প্রকৌশলী মাসুদার রহমান ও তার স্ত্রীর এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে স্থানীয় সাংবাদিকরা উদ্যোগ নিলে তিনি তাতে চরম বাধা সৃষ্টি করেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহের কাজ বন্ধ করতে তিনি বিভিন্ন সময় বহিরাগত সন্ত্রাসী, স্থানীয় মাস্তান ও লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। একজন সরকারি কর্মচারীর আইনসম্মত আয়ের সাথে তার এবং তার স্ত্রীর এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য না থাকায় এবং শত শত অভিযোগের পরও ঘুষের বিনিময়ে গোবিন্দগঞ্জে পদায়ন পাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিকরা। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এই কালো টাকা এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীসহ রংপুরের সর্বস্তরের বাসিন্দারা। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, অতি দ্রুত এই কর্মকর্তার গোবিন্দগঞ্জের প্রাইজ পোস্টিং বাতিল করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হোক এবং উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সরকারি অর্থের অপচয় এবং এলজিইডির ভেতরের এই গভীর দুর্নীতি সিন্ডিকেটকে চিরতরে উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

মিঠাপুকুরে এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদার রহমানের দুর্নীতির রাজত্ব, গৃহিণী স্ত্রীর নামে সম্পদের পাহাড়

আপডেট: ০৭:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সাফায়েত হোসেন :

ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার বাণিজ্য, প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ এবং শত শত লিখিত অভিযোগ থাকার পরও বহাল তবিয়তে আছেন রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিতর্কিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদার রহমান। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অর্থ এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে এবার তিনি বাগিয়ে নিয়েছেন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে প্রধান কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মিঠাপুকুর উপজেলা থেকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় তার পদায়ন বা ‘প্রাইজ পোস্টিং’ নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি বেতনভুক্ত একজন সাধারণ উপ-সহকারী প্রকৌশলী হয়েও তিনি ও তার গৃহিণী স্ত্রী শাহনাজ শারমীন মিলে কীভাবে দেশজুড়ে সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, তা নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এই কর্মকর্তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের বিবরণ ও বদলি বাণিজ্যের নেপথ্যের কাহিনী উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রংপুর সদরের জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা জুয়েল মিয়া। যার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও এলজিইডির অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী মাসুদার রহমান যার স্থায়ী ঠিকানা কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার জোড়গাছ ডাকঘরের অন্তর্গত পাত্রখাতা গ্রামে এবং বর্তমান ঠিকানা রংপুর শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের হনুমানতলার ইসলামপুরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের ৭৯ নম্বর বাসা। তিনি মিঠাপুকুর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজশ করে ভুয়া ভাউচার দাখিলপূর্বক সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন নিয়োগ বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রধান কার্যালয়ে তার দুর্নীতির খতিয়ান জমা পড়লেও রহস্যজনক কারণে তিনি প্রতিবারই পার পেয়ে গেছেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে গোবিন্দগঞ্জের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বড় উপজেলায় পদায়ন পেয়েছেন যা এলজিইডির সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সরকারি কোষাগার থেকে লুণ্ঠিত এই বিশাল অর্থ মাসুদার রহমান নিজের নামে না রেখে অত্যন্ত কৌশলে তার পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে তার স্ত্রী শাহনাজ শারমীনের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিতে রূপান্তর করেছেন।
লিখিত অভিযোগে সবচেয়ে চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য উঠে এসেছে। প্রকৌশলী মাসুদার রহমানের স্ত্রী শাহনাজ শারমীনের সম্পদের বিবরণীতে যেখানে দেখা যায় যে পেশায় একজন সাধারণ গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও তার নামে দেশের বিভিন্ন জেলায় কোটি কোটি টাকার জমি, বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, পরিবহন ব্যবসা ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাট গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের এই স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণ অত্যন্ত সুদীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। রংপুর শহরের হনুমানতলার ইসলামপুরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের ৭৯ নম্বর বর্তমান ঠিকানার জমিতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ৬ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন এই দম্পতি। এছাড়া রংপুরের অন্যতম অভিজাত এলাকা রাধাবল্লভে স্ত্রীর নামে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি দৃষ্টিনন্দন ৫ তলা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু রংপুরেই নয় কুড়িগ্রাম জেলা শহরেও শাহনাজ শারমীনের নামে প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের একটি ৬ তলা বিশাল ভবন রয়েছে। রংপুরের ধাপ বাজার এলাকায় তার স্ত্রীর নামে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে। আবাসন খাতের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জমিও তারা সস্তায় ও জোরপূর্বক গ্রাস করেছেন যার মধ্যে রংপুর শহরের লালবাগ এলাকায় ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে ১টি টিনশেড বাড়ি বানিয়ে মেস ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে এবং রংপুরের দর্শনা পাহাড়ী মৌজায় স্ত্রীর নামে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের ৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করাসহ পরশুরাম মৌজায় আরও ৩০ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে।
আবাসন ও ভূমির পাশাপাশি ব্যবসা এবং পরিবহন খাতেও এই দম্পতির বিনিয়োগ সাধারণ মানুষের কল্পনাকে হার মানায়। রংপুর-কাউনিয়া তিস্তা রোডে স্ত্রীর নামে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একটি ফিলিং স্টেশন বা তেলের পাম্প চালু করেছেন এই প্রকৌশলী। পরিবহন সেক্টরেও রয়েছে তাদের বিশাল আধিপত্য, যার অংশ হিসেবে রংপুর টু কুড়িগ্রাম রুটে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী বড় বাস, ৩টি মাইক্রোবাস ও ২টি প্রাইভেট কার রয়েছে তার স্ত্রীর নামে। এর বাইরে রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকে শাহনাজ শারমীনের নামে কোটি কোটি টাকা স্থায়ী আমানত হিসেবে জমা রয়েছে বলে অভিযোগে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন সাধারণ গৃহিণী কোনো বৈধ আয়ের উৎস ছাড়া কীভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেলেন এবং কীভাবে একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ক্ষমতার শীর্ষে বসে এই লুটপাট চালালেন, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগে আরও একটি গুরুতর বিষয় সামনে আনা হয়েছে যে প্রকৌশলী মাসুদার রহমান ও তার স্ত্রীর এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে স্থানীয় সাংবাদিকরা উদ্যোগ নিলে তিনি তাতে চরম বাধা সৃষ্টি করেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহের কাজ বন্ধ করতে তিনি বিভিন্ন সময় বহিরাগত সন্ত্রাসী, স্থানীয় মাস্তান ও লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। একজন সরকারি কর্মচারীর আইনসম্মত আয়ের সাথে তার এবং তার স্ত্রীর এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য না থাকায় এবং শত শত অভিযোগের পরও ঘুষের বিনিময়ে গোবিন্দগঞ্জে পদায়ন পাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিকরা। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এই কালো টাকা এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীসহ রংপুরের সর্বস্তরের বাসিন্দারা। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, অতি দ্রুত এই কর্মকর্তার গোবিন্দগঞ্জের প্রাইজ পোস্টিং বাতিল করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হোক এবং উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সরকারি অর্থের অপচয় এবং এলজিইডির ভেতরের এই গভীর দুর্নীতি সিন্ডিকেটকে চিরতরে উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়।