অনলাইন জুয়া:’দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগ,কমিশন রেখে বাকি টাকা পাচার করতো চক্রটি’
- আপডেট: ০৮:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী সংঘবদ্ধ চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।
সিআইডি বলছে, দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে।
চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করতো। পরে এসব হিসাব ও নম্বর ব্যবহার করে দেশের নানা স্থান থেকে অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন করা হয়। পরে অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত এই অর্থ থেকে কমিশন রেখে বাকি অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার করা হতো।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- রফিকুল ইসলাম (৪৬), মো. সোহেল (৩৭), মো. শফিকুল ইসলাম (২৭), মো. রুবেল মোল্ল্যা (৩৩), আইয়ুব হোসেন রিপন (৪৮)।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও জুয়া ওয়েবসাইট পরিচালনাকারী সংঘবদ্ধ চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ও বুধবার (১২ আগস্ট) সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি বিশেষ দল নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
এসময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড এবং বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অনলাইন মনিটরিং ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন নামী-বেনামী অনলাইন বেটিং ও জুয়ার এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবল ও অন্যান্য খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার আয়োজন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব অনলাইন জুয়ার প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। এসব সাইটে অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের প্রথমে টপ-আপ বা ডিপোজিট করতে হয়। এ অর্থ জমা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) যেমন বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। অর্থ জমা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বট মানি যুক্ত হয়, যা পরবর্তীতে অনলাইন বেটিং বা জুয়ায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
অনুসন্ধানের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের জন্য এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করা হয় এবং সময়ের সঙ্গে এসব নম্বর পরিবর্তন করা হয়ে থাকে। চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এসব এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে টেলিগ্রামসহ যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সংগৃহীত নম্বর ও হিসাবের তথ্য বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে সরবরাহ করা হয়। এসব হিসাব ও নম্বর ব্যবহার করে দেশের নানা স্থান থেকে অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন করা হয়।
এছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ সংশ্লিষ্ট এজেন্টরা একত্রিত করে কমিশন রেখে অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরের পর দেশের বাইরে পাচার করে থাকে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন মডেল (ডিএমপি) থানায় একটি মামলা করে। অনলাইন বেটিং চক্রটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এজেন্ট ও এমএফএস/ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অনলাইন বেটিং ও জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে বলেও জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।



















