০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ভুয়া নিয়োগপত্র হাতে, প্রথমে বেতনও দিতেন—তারপর উধাও!

  • আপডেট: ০৩:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮০০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

সরকারি অফিসের উপসচিবের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র ও প্রজ্ঞাপন তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতারকৃত আসামির নাম–মো. বাবলু কাজী (৬০)। শুক্রবার রাজধানীর পল্লবী থানার মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, বাবলু ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিলেন। তারা উপসচিবের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র, প্রজ্ঞাপন ও যোগদানপত্র তৈরি করতেন।

গত ২৫ জুন থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা এলাকার বাসিন্দা সবুজ সরকারের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

বাবলুকে গ্রেফতারের সময় বাংলাদেশ সরকারের সিলযুক্ত ও জাল স্বাক্ষর করা ভুয়া নিয়োগ আদেশ, যোগদানপত্র, প্রজ্ঞাপন এবং নকল হাজিরা খাতা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি ছিল সংঘবদ্ধ ও কৌশলী। সাধারণ মানুষের যাতায়াত বেশি—এমন সরকারি অফিসগুলোকে তারা টার্গেট করত। চক্রের একজন নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্যরা তার গাড়িচালক বা অফিস সহকারী পরিচয় দিয়ে সরকারি অফিসে চলাফেরা করতেন। এতে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হতো।

চক্রটি কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রার্থীদের সঙ্গে চুক্তি করত। এমনকি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর টাকা পরিশোধ করা যাবে বলেও তাদের আশ্বস্ত করা হতো। পরে ভুয়া নিয়োগপত্র ও প্রজ্ঞাপন দেওয়ার পাশাপাশি নকল হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করানো হতো।

ডিবি জানায়, প্রতারণার বিষয়টি যাতে সহজে ধরা না পড়ে, সে জন্য চক্রের সদস্যরা প্রথম এক–দুই মাস ভুক্তভোগীদের নিজেদের টাকা থেকে ‘বেতন’ও দিতেন। এরপর বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তারা যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যেতেন।

এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি মামলা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

ভুয়া নিয়োগপত্র হাতে, প্রথমে বেতনও দিতেন—তারপর উধাও!

আপডেট: ০৩:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

সরকারি অফিসের উপসচিবের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র ও প্রজ্ঞাপন তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতারকৃত আসামির নাম–মো. বাবলু কাজী (৬০)। শুক্রবার রাজধানীর পল্লবী থানার মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, বাবলু ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিলেন। তারা উপসচিবের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র, প্রজ্ঞাপন ও যোগদানপত্র তৈরি করতেন।

গত ২৫ জুন থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা এলাকার বাসিন্দা সবুজ সরকারের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

বাবলুকে গ্রেফতারের সময় বাংলাদেশ সরকারের সিলযুক্ত ও জাল স্বাক্ষর করা ভুয়া নিয়োগ আদেশ, যোগদানপত্র, প্রজ্ঞাপন এবং নকল হাজিরা খাতা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি ছিল সংঘবদ্ধ ও কৌশলী। সাধারণ মানুষের যাতায়াত বেশি—এমন সরকারি অফিসগুলোকে তারা টার্গেট করত। চক্রের একজন নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্যরা তার গাড়িচালক বা অফিস সহকারী পরিচয় দিয়ে সরকারি অফিসে চলাফেরা করতেন। এতে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হতো।

চক্রটি কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রার্থীদের সঙ্গে চুক্তি করত। এমনকি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর টাকা পরিশোধ করা যাবে বলেও তাদের আশ্বস্ত করা হতো। পরে ভুয়া নিয়োগপত্র ও প্রজ্ঞাপন দেওয়ার পাশাপাশি নকল হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করানো হতো।

ডিবি জানায়, প্রতারণার বিষয়টি যাতে সহজে ধরা না পড়ে, সে জন্য চক্রের সদস্যরা প্রথম এক–দুই মাস ভুক্তভোগীদের নিজেদের টাকা থেকে ‘বেতন’ও দিতেন। এরপর বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তারা যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যেতেন।

এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি মামলা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।