মিরাজ শেখকে আটক বা হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’
- আপডেট: ০৮:২৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০১
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার মিরাজ শেখকে আটক, হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বাহিনীটির দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের অপারেশনাল রেকর্ড, টহল কার্যক্রম, দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের উপস্থিতি ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এতে মিরাজ শেখকে কোস্ট গার্ডের আটক বা হেফাজতে নেওয়ার কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিরাজ শেখ নিখোঁজের ঘটনায় কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। অনুসন্ধানে তাকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা হেফাজতে নেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি
১০ এপ্রিল বিশেষ অভিযান হয়নি
মিরাজ শেখকে নিখোঁজের অভিযোগে যে ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেদিন জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ডের কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়নি স্পষ্ট করেছে কোস্ট গার্ড।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার ১৩ দিন পর করা সাধারণ ডায়েরিতেও কোস্ট গার্ড কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে তাকে আটক, অপহরণ বা গুম করার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি।
পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনগুলোতে ঘটনাস্থল, পোশাক ও ঘটনার বিবরণে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছে কোস্ট গার্ড। তাদের মতে, এসব অসঙ্গতি অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
বনদস্যু চক্রের সঙ্গে মিরাজের সম্পৃক্ত
কোস্ট গার্ডের বক্তব্যে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মিরাজ শেখ সুন্দরবনকেন্দ্রিক একটি বনদস্যু চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীকে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া, মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
কোস্ট গার্ডের দাবি, বনদস্যু চক্রের মুক্তিপণ ও চাঁদার প্রায় ছয় লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিরাজ শেখের সঙ্গে ওই বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ তৈরি হয়েছিল।
এ ছাড়া তার বাবা আগে একটি বনদস্যু বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পরে আত্মসমর্পণ করেন বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। পিসিপিআর যাচাইয়ে মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান এবং এর মধ্যে দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে দাবি করেছে কোস্ট গার্ড।
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানিক সাফল্য
জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন স্থাপনের আগে এলাকাটি অবৈধ রেণু পোনা ব্যবসা, চাঁদাবাজি, বিষ দিয়ে মাছ শিকার, হরিণ শিকার এবং বনদস্যুদের রসদ ও লজিস্টিক সরবরাহের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তাদের স্টেশন স্থাপনের পর এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুন্দরবনে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বনদস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং ৪২ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে সুন্দরবনের বনদস্যু চক্রগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে ছোট সুমন, বড় জাহাঙ্গীর ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
হারবারিয়া স্টেশনে হামলা
গত ১১ জুন কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়ার পন্টুনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা হয়েছিল। এতে পন্টুনে থাকা একাধিক সদস্য আহত হন এবং আনুমানিক ২ কোটি ৩৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, ওই হামলায় মিরাজ শেখের পরিবারের সদস্যসহ কয়েকজন সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এবং হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
‘সাদা পোশাকে অভিযান চালানোর প্রমাণ নেই’
স্থানীয় জনগণের বরাত দিয়ে কোস্ট গার্ড বলেছে, বাহিনীর সদস্যরা সাধারণত ইউনিফর্ম পরেই দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়দের কখনো সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালনা বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে দেখা যায়নি বলেও বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অভিযোগ প্রত্যাখ্যান কোস্ট গার্ডের
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড একটি পেশাদার, আইনানুগ ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে দেশের প্রচলিত আইন ও মানবাধিকার নীতিমালা অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করছে। মিরাজ শেখকে গুম বা আটকের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে বাহিনীটি বলেছে, অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কোস্ট গার্ডের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিল এবং সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছে।



















