১১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুলশানের সদ্য সাবেক ডিসি এম তানভীর আহমেদকে ঘিরে ষড়যন্ত্র

  • আপডেট: ১০:৩১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তুলেছেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও পরিচিতজনেরা।

তাদের দাবি, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তানভীর আহমেদ অতীতে নানা চাপ ও প্রতিকূলতার মুখে পড়েছেন।

সম্প্রতি গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মিছিলের পর এম তানভীর আহমেদকে গুলশান বিভাগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়। আদেশে কারণ হিসেবে প্রশাসনিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পর থেকেই তানভীর আহমেদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়। তার রাজনৈতিক অতীত, পুলিশে যোগদানের পর বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন তার পরিচিতজনেরা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে মির্জা ইয়াসিন আলী নামের এক ব্যক্তি এম তানভীর আহমেদকে নিজের বিভাগের ছোট ভাই হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তানভীর ওই বিভাগের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-মিরপুর রোডের ছাত্র পরিবহনে ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ওই পোস্টে বলা হয়, তানভীর আহমেদের হল ছিল অমর একুশে হল। মির্জা ইয়াসিন আলী শহীদুল্লাহ হলের সভাপতি এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তানভীরের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও দাবি করেন।

পরে ২৮তম বিসিএসের মাধ্যমে তানভীর আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন বলে ওই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

তানভীর আহমেদের রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গে মির্জা ইয়াসিন আলী আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মিরপুরে তানভীর আহমেদের নিজ বাসার দুটি ফ্লোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর থাকার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

তার ভাষ্য, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় অতীত থাকা কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা ধরনের চাপ মোকাবিলা করতে হয়। তানভীর আহমেদও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে একাধিকবার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মির্জা ইয়াসিন আলীর বক্তব্যের বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নেতা শহীদুল্লাহ সুমন বলেন, বক্তব্যে উল্লেখ করা বিষয়গুলোর সত্যতা সম্পর্কে তিনি সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত। তাঁর দাবি, গত ১৭ বছর রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও আত্মগোপনের পরিস্থিতিতে তানভীর আহমেদ তাঁদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন।

শহীদুল্লাহ সুমনের অভিযোগ, তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটিকে শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কিংবা প্রশাসনের ভেতরে কোনো পক্ষকে প্রভাবশালী করার চেষ্টা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডিএমপির পক্ষ থেকে তাকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার কারণ হিসেবে প্রশাসনিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

গুলশানের সদ্য সাবেক ডিসি এম তানভীর আহমেদকে ঘিরে ষড়যন্ত্র

আপডেট: ১০:৩১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তুলেছেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও পরিচিতজনেরা।

তাদের দাবি, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তানভীর আহমেদ অতীতে নানা চাপ ও প্রতিকূলতার মুখে পড়েছেন।

সম্প্রতি গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মিছিলের পর এম তানভীর আহমেদকে গুলশান বিভাগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়। আদেশে কারণ হিসেবে প্রশাসনিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পর থেকেই তানভীর আহমেদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়। তার রাজনৈতিক অতীত, পুলিশে যোগদানের পর বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন তার পরিচিতজনেরা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে মির্জা ইয়াসিন আলী নামের এক ব্যক্তি এম তানভীর আহমেদকে নিজের বিভাগের ছোট ভাই হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তানভীর ওই বিভাগের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-মিরপুর রোডের ছাত্র পরিবহনে ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ওই পোস্টে বলা হয়, তানভীর আহমেদের হল ছিল অমর একুশে হল। মির্জা ইয়াসিন আলী শহীদুল্লাহ হলের সভাপতি এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তানভীরের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও দাবি করেন।

পরে ২৮তম বিসিএসের মাধ্যমে তানভীর আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন বলে ওই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

তানভীর আহমেদের রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গে মির্জা ইয়াসিন আলী আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মিরপুরে তানভীর আহমেদের নিজ বাসার দুটি ফ্লোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর থাকার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

তার ভাষ্য, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় অতীত থাকা কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা ধরনের চাপ মোকাবিলা করতে হয়। তানভীর আহমেদও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে একাধিকবার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মির্জা ইয়াসিন আলীর বক্তব্যের বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নেতা শহীদুল্লাহ সুমন বলেন, বক্তব্যে উল্লেখ করা বিষয়গুলোর সত্যতা সম্পর্কে তিনি সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত। তাঁর দাবি, গত ১৭ বছর রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও আত্মগোপনের পরিস্থিতিতে তানভীর আহমেদ তাঁদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন।

শহীদুল্লাহ সুমনের অভিযোগ, তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটিকে শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কিংবা প্রশাসনের ভেতরে কোনো পক্ষকে প্রভাবশালী করার চেষ্টা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডিএমপির পক্ষ থেকে তাকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার কারণ হিসেবে প্রশাসনিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।