বারিধারায় বেপরোয়া প্রাইভেটকার চাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহত, চালকের আসনে থাকা কিশোর অবশেষে গ্রেফতার
- আপডেট: ০৬:৫৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৮০০১
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪) নিহত হওয়ার ঘটনায় গাড়ির চালকের আসনে থাকা ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেন গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রুহুল কবীর খান।
ডিসি জানান, বারিধারায় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গ্রেফতার ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা আব্বাস আলী শরীফ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন। আর দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।
এর আগে মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
ফুটপাতে বসে ছিলেন মেহেদী
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়।
আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীকে বের করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
চালকের আসনে কিশোর
এদিকে দুর্ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর প্রাইভেট কারটি একটি সড়কবাতির খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়।
এরপর গাড়ি থেকে দুজনকে নামতে দেখা যায়। গাড়ির চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোরকে নামতে দেখা যায়। অপর পাশ থেকে এক মধ্যবয়সী ব্যক্তিও গাড়ি থেকে নামেন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন কিশোরটিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
দুর্ঘটনার পর মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে গুলশান থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।



















