নেদারল্যান্ডসের প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে প্রতারণা, নারী গ্রেফতার
- আপডেট: ০৪:১৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮০০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে অনলাইনে পার্টটাইম চাকরি ও বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২২ বছর বয়সী ওই নারীর নাম প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রা। গত ৮ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এসব তথ্য জানানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী একজন ব্যবসায়ী। ২০২৫ সালের আগস্টে টেলিগ্রাম আইডি থেকে তাকে অনলাইনে খণ্ডকালীন চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি নকল ওয়েবসাইটে পর্যটনকেন্দ্রের ইতিবাচক রেটিং ও ফিডব্যাক দেওয়ার কাজের বিনিময়ে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখানো হয়। এতে আগ্রহী হয়ে কাজ শুরু করলে তাকে কয়েক দফায় পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়।
পরে ওই ব্যবসায়ীকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অন্য সদস্যদের বিনিয়োগের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার স্লিপের ছবি দেখানো হলে তিনি বিনিয়োগে আগ্রহী হন।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট ওই ব্যবসায়ী তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রতারক চক্রের দেওয়া একটি ব্যাংক হিসাবে প্রথমে এক লাখ টাকা পাঠান। পরে ওয়েবসাইটে নির্দিষ্টসংখ্যক ভিজিট সম্পন্ন করা, বিভিন্ন রাউন্ডে অংশ নেওয়া ও অন্যান্য শর্ত পূরণের কথা বলে তাকে আরও টাকা পাঠাতে বলা হয়। এভাবে একই দিনে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা নেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ওই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে চক্রটি। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুনাফা বা বিনিয়োগের মূলধন—কোনোটিই ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে আরও টাকা দাবি করা হলে ওই ব্যবসায়ীর সন্দেহ হয়। তিনি অর্থ ফেরত চাইলে নতুন করে টাকা পাঠানোর কথা বলা হয়। একপর্যায়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় চক্রটি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতের মাধ্যমে পল্টন থানায় ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪, ১০৯, ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, তদন্তে ‘লিজা’ নাম ব্যবহারকারী এক সন্দেহভাজনের নির্দেশনার সঙ্গে টাকা পাঠানোর সময়ের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গ্রেফতার প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রার নামে নিবন্ধিত মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব থেকে ভুক্তভোগীকে পারিশ্রমিক পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জন করে তাকে ধীরে ধীরে বেশি অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে এভাবে টাকা পাঠানো হয়েছিল বলে ধারণা করছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সিআইডির ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ পাঠানোর নির্দেশদাতা সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি গ্রেপ্তার নারী। প্রতারণায় তার সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
সিআইডি আরও জানায়, একই মামলায় বিভিন্ন সময়ে আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
অনলাইনে চাকরি, বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে আয় এবং অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনিয়োগের প্রস্তাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সিআইডি। এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।



















